স্টাম্পে লাথি সাকিবের, হাতে তুলে আছাড়ও মারলেন

শুক্রবার দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও আবাহনী লিমিটেডের মধ্যে ঘটেছে এই ঘটনা
Shakib Al Hasan
স্টাম্পে লাথি মারছেন সাকিব

আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে প্রায়ই নাখোশ হতে দেখা যায় ক্রিকেটারদের। তবে সাকিব আল হাসান নাখোশ হয়ে যে প্রতিক্রিয়া দেখালেন, ক্রিকেট মাঠে তা একদমই নজিরবিহীন। জোরালো আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় স্টাম্পেই লাথি মেরে বসেছেন মোহামেডান অধিনায়ক। এক ওভার পর স্টাম্প হাতে তুলে আছাড়ও মারেন তিনি।

এই সময়ে আম্পায়ারকে শাসাতেও দেখা গেছে তাকে। এমন আচরণের জন্য শৃঙ্খলাভঙ্গের শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে বাংলাদেশের সফলতম এই ক্রিকেটারকে।

শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও আবাহনী লিমিটেডের মধ্যে ঘটেছে এই ঘটনা। আগে ব্যাটিং করে ১৪৫ রান করে মোহামেডান। সাদামাটা লক্ষ্য নিয়ে বোলিংয়ের শুরুটা ছিল দারুণ। ৩টি উইকেট তুলে নিয়েছিল। বৃষ্টির আগে আরেকটি উইকেট পেলে ডি এল পদ্ধতিতে নিশ্চিত থাকতে পারতো তারা।

স্টাম্প হাতে তুলে আছাড় দেওয়ার পর আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত সাকিব

আর একটি উইকেটের জন্য মরিয়া হয়েই খেলছিল মোহামেডান। আকাশে তখন ঘন কালো মেঘ। দ্রুতই বলগুলো করছিলেন সাকিব। একটি উইকেট পেলেই হয়তো পাঁচ বছর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে জয়টা পেতে পারে তারা। কিন্তু সাকিবের জোরালো আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দেওয়াতেও যতো গণ্ডগোল।

পঞ্চম ওভারের শেষ বলটি অবশ্য দারুণ করেছিলেন সাকিব। ওই প্রান্তে ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ঠিকভাবে লাগাতে পারেননি। এলবিডাব্লিউর জোরালো আবেদন করে পুরো দলই। খালি চোখেও মনে হয়েছিল আউটই ছিল। কিন্তু আম্পায়ার সাড়া না দিলে এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে ক্ষেপে লাথি মেরে উইকেটই ভেঙে ফেলেন সাকিব।

এরপর আম্পায়ার ইমরান পারভেজের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন সাকিব। পরে সতীর্থরা তাকে শান্ত করে নিয়ে যান। তখন আবাহনীর সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ২১ রান। আর বৃষ্টির কথা মাথায় রেখেই পরের ওভারে শুভাগতর উপর আগ্রাসী হন নাজমুল হোসেন শান্ত। দুটি বাউন্ডারিতে পরের পাঁচ তুলে নেন ১০ রান। এরপর নামে বৃষ্টি।

এ সময়ে মিডঅফে ফিল্ডিং করছিলেন সাকিব। দৌড়ে এসে তুলে নেন স্টাম্প। এরপর আছাড় মারেন। সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন আরেক আম্পায়ার মাহফুজুর রহমান। তার সঙ্গেও তর্কে লিপ্ত হন মোহামেডান অধিনায়ক। এক পর্যায়ে সতীর্থরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

সাকিবের দিকে তেড়ে গিয়েছিলেন আবাহনী কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনও। তাকে শান্ত করেন শামসুর রহমান।

বৃষ্টির বেগ বাড়তে থাকায় মাঠ ছেড়ে সবাই তখন ফিরছেন ড্রেসিং রুমে। সাকিবও ফিরছিলেন। গ্যালারীতে থাকা কিছু দর্শক তাকে কিছু বলায় তাদের হাত দিয়ে মারার ভঙ্গী করেন সাকিব। তাই দেখেআবাহনী ড্রেসিং রুম থেকে তেড়ে এসেছিলেন আবাহনী কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনও। ভেবেছিলেন তাকে হাত দেখিয়েছেন সাকিব। পরে তাকে মোহামেডান ক্রিকেটার শামসুর রহমান শুভ গিয়ে তাকে শান্ত করেন।

উল্লেখ্য, বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ১৪৬ রান তাড়ায় ৩ উইকেটে ৩১ রান করেছে আবাহনী।

 

Comments

The Daily Star  | English

Through the lens of Rafiqul Islam

National Professor Rafiqul Islam’s profound contribution to documenting the Language Movement in Bangladesh was the culmination of a lifelong passion for photography.

19h ago