সব বাধা কাটিয়ে জাতীয় নির্বাচনে চোখ আওয়ামী লীগের

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে দল পুনর্গঠন করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর পাশাপাশি নির্বাচনী জোট সম্প্রসারণে বিকল্পগুলো নিয়েও ভাবছে দলটি।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে দল পুনর্গঠন করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর পাশাপাশি নির্বাচনী জোট সম্প্রসারণে বিকল্পগুলো নিয়েও ভাবছে দলটি।

একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি নিয়ে বিরোধীদলের যেকোনো সম্ভাব্য আন্দোলন মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে তারা।

আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, ২০২২ সাল হবে দলের 'সম্মেলনের বছর'। এর লক্ষ্য দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো এবং বিভিন্ন কর্মসূচির ভেতর দিয়ে নেতা-কর্মীদের নির্বাচনের জন্য তৈরি করা।

তাদের ভাষ্য, আগামী বছর অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি এরমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন শুরু করেছে। বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষে আগামী ডিসেম্বরে ২২তম জাতীয় সম্মেলনের আগে তারা বিষয়টি গুটিয়ে আনতে চায়।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা দল পুনর্গঠনের দিকে যাবো…কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত…বছর শেষ হওয়ার আগেই। সব সম্মেলন শেষ করে আরও শক্তিশালী ও সংগঠিত দল হিসেবে আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।'

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করে আসন্ন উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিকেও নজর রেখেছে দলটি।

বিএনপির অনুপস্থিতিতে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বেশিরভাগ চেয়ারম্যান পদ নিজেদের দখলে নিতে পারলেও এই নির্বাচনে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও নেতৃত্বের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে।

এ দফায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েও ইউপি নির্বাচনে অনেক স্থানীয় নেতাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা।

দলের ভেতরের ব্যক্তিরা বলছেন, নির্বাচনের প্রতি ধাপে দলীয় প্রার্থীদের ফলাফল খারাপ হয়েছে। যা   ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্বের আরও ক্ষতিকর একটি দিক। এতে দলের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার বিষয়টি উন্মোচিত হয়েছে।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থনের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করায় তৃণমূলের শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও মনে করছেন তারা।

এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের পেছনের কারণ খুঁজতে সারা বছরই দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিধিদের পাঠাবে আওয়ামী লীগ। তারা তৃণমূলের এসব সমস্যা সমাধানে পরামর্শও দেবেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মহামারির কারণে আমাদের রজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে চলমান নির্বাচন দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও শৃঙ্খলাহীনতার মতো বিষয়গুলো সামনে এনেছে।'

এর পরবর্তী উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, 'অন্তর্কোন্দলের পেছনের কারণ খুঁজে বের করতে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। যারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে তাদের ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবো।'

তিনি আরও জানান, ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপনের পর তারা তৃণমূলের জন্য পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিল অধিবেশন আয়োজনের পাশাপাশি 'সাংগঠনিক সফরের' ব্যবস্থা করবেন। তিনি বলেন, 'কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতা তৈরি করে আমরা আগামী সাধারণ নির্বাচনের জন্য দলের সার্বিক কর্মকাণ্ড চাঙ্গা করে তুলবো।'

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, নির্বাচনী জোট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা মাথায় রেখে দলটি সমমনা বামপন্থী ও কিছু মধ্যপন্থী ইসলামী দলের সঙ্গেও আলোচনা করবে।

আওয়ামী লীগ ২০০৫ সালে ১৪ দলীয় জোট গঠন করে এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের পরের ২টি জাতীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন এই জোট জয়ী হয়।

ক্ষমতাসীন দলটি এই জোটকে একটি 'আদর্শগত জোট' হিসেবে অভিহিত করলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হওয়ায় এর অংশীদাররা দৃশ্যত খুশি নয় বলে জানাচ্ছেন আওয়ামী লীগের ভেতরের লোকজন। তাদের ভাষ্য, শরিকদের কাউকে না নিয়েই আওয়ামী লীগ মন্ত্রিসভা গঠনের পর এমনটি ঘটেছে।

তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ এখন এর আদর্শিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার দিকে মন দেবে। এমনকি বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে ৩০০ সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের ওপর জরিপও চালানো হতে পারে।

অনুবাদ করেছেন মামুনুর রশীদ

Comments

The Daily Star  | English

Four of a family among five killed as private car, truck collide in Habiganj

The family members met the tragic accident while returning home after receiving someone at Dhaka airport

1h ago