এই উইকেট আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না: মাশরাফি

Hasan Ali-Mashrafee
৯৭ রান নিয়েও দলকে জয়ের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন মাশরাফি। তার শেষ বলে ছক্কা মেরে খেলে ঘুরিয়ে দেন হাসান আলি। ছবি: ফিরোজ আহমেদ

এবার বিপিএলের প্রথম পর্ব হয় সিলেটে। সেখানে সব ম্যাচেই রান হয়েছে।  উইকেটে বাউন্স ছিল ভালো, খেলা হয়েছে জম্পেশ। ঢাকায় ফিরতেই ম্যাড়ম্যাড়ে। রান করতেই সংগ্রাম ব্যাটসম্যানদের। ঢাকায় প্রথম পর্ব শেষে চট্টগ্রাম যেতে ফের প্রাণ পায় বিপিএল। চট্টগ্রামের উইকেটের প্রশংসা করেছে সব দলই। ১০ দিন বিরতির পর ঢাকায় ফিরতেই আবার অসমান বাউন্স আর মন্থর গতির উইকেটে কাবু হয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। ম্যাচ শেষে জয়ী-পরাজিত দুই দলের অধিনায়কই বলছেন এই উইকেট গ্রহণযোগ্য না।

শনিবার টস হেরে আগে ব্যাট করে মাত্র ৯৭ রানে গুটিয়ে যায় মাশরাফির রংপুর রাইডার্স। ওই রান তাড়া করতে গিয়েও ২০ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করতে হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে। রংপুর অধিনায়কের কণ্ঠে উইকেট নিয়েই সব হতাশা,  ‘আমার মনে হয় আপনারা সবাই খেলা বুঝেন। আসলে এই ধরনের উইকেটে টি-টোয়েন্টি খেলা খুব কঠিন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম থেকে আসার পর এখানে এরকম ধরনের উইকেট পাওয়া অবশ্যই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না।’

খানিকপর সংবাদ সম্মেলনে এসে মাশরাফির সঙ্গে গলা মিলিয়েছেন তামিম ইকবালও। তিনি বরং আরও হতাশ উইকেটের আচরণ। এমন উইকেট তামিমের ভাষায় 'জঘণ্য'। ১০ দিন বিরতির পরও কেন উইকেট ঠিক করা গেল না, প্রশ্নটা কিউরেটর গামিনি সিলভার কাছেই রেখেছেন কুমিল্লার অধিনায়ক। 

মিরপুরে টস হারলে চোখ বন্ধ করেই বোলিং নেন যেকোনো অধিনায়ক। মন্থর আর অসমান বাউন্সে যেকোনো সময় ঘটতে পারে যেকোনো কিছু। কিন্তু শনিবারের উইকেট ছাপিয়ে গেল যেন আগের ঐতিহ্যকেই, মাশরাফি উইকেটের এমন আচরণে বিস্মিত ‘আমরা জানি এখানে টস হারলে বোলিং টিম সুবিধা পায়, কিন্তু এত সুবিধা পাবে যেমন গুড লেন্থ বল মাথার উপর দিয়ে চলে যায়। স্পিন অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টেস্টে যেমন হয়েছিল সাদা বলেও তেমন হবে, এটা আসলে খুবই কঠিন।’

মিরপুরে শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের কিউরেটরের দায়িত্বে আছেন শ্রীলঙ্কান গামিনি ডি সিলভা। মন্থর, অসমান উইকেট বানিয়ে এখন রীতিমতো ‘ভিলেন’ তিনি। মাশরাফি অবশ্য তার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন না। তবে খুঁজে পাচ্ছেন না কারণও,  ‘আমি সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলব না। যে কিউরেটর এই উইকেট বানায় সে আগেও ভালো উইকেট বানিয়েছে যদি ইতিহাস দেখেন। তবে আমি জানিনা সমস্যাটা কি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় এটা খুঁজে বের করা উচিত।’

বিপিএলের এবারের আসর একদম শেষের দিকে। হাতে আছে বড় বড় ম্যাচ। রান না হলে কমতে পারে টুর্নামেন্টের আকর্ষণ, ‘টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে সবাই চাই ভালো উইকেটে খেলতে। টসে হেরে গিয়ে ম্যাচ হেরে গেছি নিশ্চয়ই এই ফিলিংস নিয়ে কেউ মাঠে আসতে চায় না। এমনিতে ঢাকার উইকেটে টস হারলে ব্যাটিং করতে হবে, তারপরে যদি গিয়ে দেখি উইকেট এমন বিহেভ করছে তাহলে ড্রেসিং রুম পাজলড হয়ে যায় যেকোনো দলেরই।’

মিরপুরের পিচের মতিগতি বোঝা দায়। তবে এবার নাকি ধারণার বাইরে আচরণ করেছে পিচ, ‘মিরপুর বরাবরই আনপ্রেডিক্টেবল উইকেট আমরা জানি। কিন্তু এরপরও এতটা আনপ্রেডিক্টেবল হবে ভাবিনি যে, ব্যাটিং করাই এমন কঠিন কাজ। যেখানে টি-টোয়েন্টিতে দ্রুত রান করার খেলা সেখানে যদি উইকেটে টিকে থাকার চেষ্টা করতে হয় সেটা আসলে খুব কঠিন। পৃথিবীর কোন উইকেটেই শুরুতে কেউ টার্গেট করে না যে ২০০ রান হবে। হয়তবা ১৭০-১৮০ করে।  কিন্তু এখানে অন্তত তো আমরা ১৫০ আশা করতে পারতাম। তাহলে দুই দিকেই সমান সুযোগ থাকত।  ’

৯৭ রান ডিফেন্ড করতে হলে নিতে হবে সব সুযোগ। জয়ের একদম কাছে যাওয়ায় মিস হওয়া সুযোগ আক্ষেপে পোড়াচ্ছে মাশরাফিকে। মাশরাফির প্রথম ওভারেই ফিরতে পারতেম তামিম ইকবাল। উইকেটকিপার মিঠুন আলি হাতে বল জমাতে পারলে স্টাম্পিং হয়ে ফিরতে হতো তাকে। তামিম পরে ২২ রান করে আউট হয়েছেন, ‘আমরা জানি যে শুরুতে একটা দুইটা উইকেট নিলে অবশ্যই খেলা আমাদের হাতে থাকবে। কিন্তু এই উইকেটে ছয় ওভারে যদি দুই, তিনটা উইকেট নিতে পারি খেলাটা আমাদের হাতেই থাকবে। এই ধরনের ম্যাচে কঠিন হলে সুযোগ নিতে না পারলে ম্যাচ জেতা কঠিন।’

Comments

The Daily Star  | English

Fresh clash erupts between CU students, locals

Both sides were seen hurling brickbats and wielding sticks during the confrontation, turning the area into a battlefield

1h ago