খেলা

ট্রিপল সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ লিটনের

আগের দিনই আভাসটা দিয়ে রেখেছিলেন লিটন। ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট করে ১৩৯ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তৃতীয় দিন নেমে চালিয়েছেন একই দাপট। ১৯২ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করে গড়েছেন দেশের হয়ে প্রথম শ্রেণিতে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড। লিটনের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি ছাড়িয়ে গেছে আড়াইশ রান।
Liton Das
এবার প্রথম শ্রেণিতে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে ডাবল সেঞ্চুরি করেন লিটন

আগের দিনই আভাসটা দিয়ে রেখেছিলেন লিটন। ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট করে ১৩৯ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তৃতীয় দিন নেমে চালিয়েছেন একই দাপট। ১৯২ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করে গড়েছেন দেশের হয়ে প্রথম শ্রেণিতে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড। লিটনের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি থেমেছে ট্রিপল সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপে। ২৭৪ রানে আউট হয়ে যান তিনি। 

রাজশাহীতে লিটনের দাপটের দিনে আড়ালে পড়ে গেছে আফিফ হোসেনের সেঞ্চুরি। আগের দিনের অপরাজিত পূর্বাঞ্চলের এই দুই ব্যাটসম্যানই তৃতীয় দিনে ছড়ি ঘুরিয়েছেন মধ্যাঞ্চল বোলারদের উপর। ১৪২ করে আউট হন আফিফ। তবে লিটন ছাড়িয়ে যান নিজেকে। আগ্রাসী ব্যাট করেও ইনিংস করেছেন লম্বা। 

তৃতীয় দিনে চা বিরতির পর ২৯৩ বলে ২৭৪ করে ইলিয়াস সানির বলে এলবিডব্লিও হন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ম্যারাথন ইনিংসে লিটন মেরেছেন ৩৫টি চার আর দুই ছক্কা। বাংলাদেশের কোন ব্যাটসম্যান এর আগে কখনো দুশোর নিচে বল খেলে ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারেননি। লিটনের সামনে সুযোগ ছিল দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে প্রথম শ্রেণিতে ত্রিশতক হাঁকানোরও। কাছ গিয়েও শেষ পর্যন্ত পারেননি তিনি। প্রথম শ্রেণি এখনো পর্যন্ত কোন বাংলাদেশির একটাই ট্রিপল সেঞ্চুরি আছে। ২০০৬-০৭ মৌসুমে রকিবুল হাসান করেছিলেন ৩১৩।

প্রথম শ্রেণিতে দেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এটি পঞ্চম সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। রকিবুলের ৩১৩ রানের পর চলতি বছর নাসির হোসেনের ২৯৫, ২০১২-১৩ মৌসুমে মার্শাল আইয়ুবের ২৮৯, ২০১৪-১৫ মৌসুমে মোসাদ্দেক হোসেনের ২৮২ রানের পর লিটনের ২৭৪ রান। 

প্রথম শ্রেণিতে সব মিলিয়ে অবশ্য দুশোর নিচে বল খেলে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে অনেকগুলোই। প্রথম শ্রেণিতে সবচেয়ে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড হয়েছে এই মাসেই।  আফগানিস্তানের প্রথম শ্রেণিতে শফিকুল্লাহ শেনওয়ারি নামে এক তরুণ ব্যাটসম্যান মাত্র ৮৯ বলে করে ফেলেন দ্বিশতক। প্রথম শ্রেণিতে একশো বলের কমে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড ওই একটাই।

লিটনের কীর্তির দিনে বিশাল সংগ্রহ গড়েছে তার দলও। মধ্যাঞ্চলের ৫৪৬ রান ছাপিয়ে ৬ উইকেটে ৫৯২ রান তোলে দিন শেষ করেছে পূর্বাঞ্চল। এখনো দুদলের একটি করে ইনিংস বাকি থাকায় এই ম্যাচ ড্র হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ইতিমধ্যে দক্ষিণাঞ্চল লিগ শিরোপা নিশ্চিত করায় ম্যাচটি ফলের দিক থেকেও গুরুত্ব হারিয়েছে। 

Comments