‘গ্রিন জোনে’ রাখতেই জিম্বাবুয়েতে খেলানো হয়েছিল নাহিদকে, বললেন হাবিবুল
গতিময় পেসার হিসেবে সারা বিশ্বের আলোচনায় থাকা নাহিদ রানাকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে অনেক স্বপ্ন ছিলো বাংলাদেশের। কিন্তু তরুণ এই পেসার চোটে পড়ে অস্ট্রেলিয়া সফর থেকেই ছিটকে গেছেন। জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টিতে চোটে পড়ায় প্রশ্ন উঠে, কেন তাকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলাতে হলো? প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন এই বিষয়ে দিয়েছেন ব্যাখ্যা। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারিগরি দিক তুলে ধরে নাহিদকে ‘গ্রিন জোনে’ রাখতে খেলাতেই হতো বলে জানিয়ে এই চোটকে তিনি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
দীর্ঘ দুই যুগ পর অস্ট্রেলিয়ার মাঠে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে যাবে বাংলাদেশ দল। অগাস্টের ১৩ তারিখ ডারউইনে শুরু হবে এই সিরিজ। তার আগে বাংলাদেশ দল চোটজর্জর। নাহিদ, লিটন দাসদের মতো নিয়মিত পারফর্মারদের পাচ্ছে না তারা।
নাহিদ রানাসহ পেসারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘নাহিদ রানার ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের বিষয়টি এখন আর শুধু মুখে বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের প্রতিটি মুভমেন্ট ট্র্যাক করা হয় এবং সেই তথ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয় কে কোন সিরিজে কয়টি ম্যাচ খেলবে। নাহিদ রানা ছাড়াও তাসকিনসহ আমাদের যত ফাস্ট বোলার আছে, সবার ক্ষেত্রেই এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।’
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের হিসাব তুলে ধরে প্রধান নির্বাচক স্পষ্ট করেন, ‘নাহিদ রানার ক্ষেত্রে যদি দেখেন, আমরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে (ঘরের মাঠে সিরিজে) তাকে সব ম্যাচ খেলাইনি। সে প্রথমে দুটি ওয়ানডে খেলার পর এক সপ্তাহের বিরতি পেয়েছে এবং এরপর দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেছে। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট অনুযায়ী সে টেস্ট খেলার জন্যও এভেইলেবল ছিল। এমনকি ফিজিওর রিপোর্ট অনুযায়ী সে এবং আমাদের বাকি নিয়মিত ফাস্ট বোলাররা টেস্ট খেলার জন্য সম্পূর্ণ ফিট ছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া যেহেতু আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ, তাই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আমরা তাকেসহ আমাদের মূল তিনজন ফাস্ট বোলারকে টেস্টে খেলাইনি।’
পেসারদের মাঠে না রেখে নির্দিষ্ট ছন্দে রাখার পেছনে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি বাধ্যবাধকতার কথা তুলে ধরেন হাবিবুল, ‘নাহিদ রানা ওডিআইতে ভালো (সুস্থ) ছিল এবং সেখানে তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটি খেলেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় ম্যাচটি খেলতে গিয়ে সে ব্যথা পায়। অনেকে মনে করতে পারেন তাকে না খেলালেও চলত, কিন্তু ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের একটি কারিগরি দিক আছে।’
এই কারিগরি দিক ও জোন ব্যবস্থার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বোলারদের কন্ডিশনকে রেড, গ্রিন এবং ইয়োলো—এই তিনটি জোনে ভাগ করি। একজন ফাস্ট বোলার যদি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বোলিং করে তবে সে যেমন ইনজুরির ঝুঁকিতে (রেড জোন) থাকে, তেমনি যদি তাকে ম্যাচ না খেলিয়ে বসিয়ে রাখা হয়, তবে লোড কম হওয়ার কারণেও সে ইনজুরির ঝুঁকিতে পড়ে যায়। তাই টেস্ট ম্যাচের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হলে একজন বোলারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ বল করে 'গ্রিন জোনে' থাকতে হয়।’
‘সহজ কথায়, একজন ফাস্ট বোলারকে বসিয়ে রাখা তার জন্য ভালো নয়; তাকে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে বোলিংয়ের মধ্যে থাকতে হয়। নাহিদ রানার ক্ষেত্রেও এই চিন্তাভাবনা থেকেই তাকে ম্যাচ খেলানো হয়েছিল। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সে ইনজুরড হয়েছে, তবে এই ইনজুরি অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েও হতে পারত।’
সবশেষে ফাস্ট বোলারদের চোট নিয়ে নিজেদের সচেষ্ট থাকা এবং বাস্তবতার কথা জানিয়ে সুমন বলেন, ‘ফাস্ট বোলারদের ইনজুরিমুক্ত রাখা সবসময়ই কঠিন একটি কাজ। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, আমরা শতভাগ চেষ্টা করেও ইনজুরি পুরোপুরি এড়াতে পারি না, বড়জোর তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারি। আমরা নাহিদ রানার প্রতি প্রতিটি মুহূর্তে বাড়তি যত্ন নিচ্ছি এবং অনেক নিয়ম মেনে চলছি, তারপরও এমন ইনজুরি আমাদের সবার জন্যই অত্যন্ত দুঃখজনক।’
