অনেক সুযোগ নষ্ট করে আফগানদের সঙ্গে ড্র করল বাংলাদেশ

তিন তিনবার প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা।

পুরো ম্যাচেই ছিল বাংলাদেশের আধিপত্য। তিন তিনবার তো প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে একা পেয়ে গেলেন বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা। কিন্তু লক্ষ্যেই শট নিতে পারেননি তারা। ফলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের দারুণ সুযোগ পেয়েও ড্র মেনে মাঠ ছাড়তে হলো জামাল ভুঁইয়ার দলকে।

রোববার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার প্রথম আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। এদিন প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজিত হয় বাংলাদেশ লিগের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের ঘরের এই মাঠে। কিন্তু অভিষেকটা রাঙিয়ে রাখতে পারলেন না লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

সবশেষ ২০২০ সালে ঢাকায় হওয়া শেষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটিও নেপালের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচটি হয়েছিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে। আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ ২০১৫ সালেও ড্র করেছিল বাংলাদেশ। সেবার অবশ্য ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল ম্যাচটি।

অবশ্য শক্তির বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আফগানিস্তান। র‍্যাঙ্কিংয়ে তো ঢের এগিয়ে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে তাদের অবস্থান ১৫৭ নম্বরে। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯ নম্বরে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষকরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো খেলার সুবাধে কিছুটা এগিয়ে আসে জামাল ভুঁইয়ার দল।

মাঠে অবশ্য শুরু থেকেই দাপট দেখায় বাংলাদেশই। একের পর এক আক্রমণ করে তারা। ম্যাচের ২২তম মিনিটে অবিশ্বাস্য এক সুযোগ নষ্ট করেন রাকিব। তপুর কাছ থেকে বল পেয়ে ফাঁকায় থাকা এই ফরোয়ার্ডকে বল বাড়ান মোরসালিন। কিন্তু প্রথম দফায় শট না নিয়ে একজনকে কাটাতে গিয়ে ভুলটা করে ফেলেন রাকিব। পেছন থেকে দারুণ স্লাইডে তার শট আটকে দেন আফগান ডিফেন্ডার মোসায়ের আহাদি।

২৫তম গোল করার ভালো সুযোগ ছিল আফগানদেরও। বাঁ প্রান্ত থেকে নেওয়া আহাদির ক্রস হেডে তপু বর্মণ ক্লিয়ার করতে না পারলে বল পেয়ে যান নোমা অয়ালিজাদা। তার জোরালো শট তারিক কাজীর গায়ে লেগে বারপোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে সে যাত্রা বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ৪৩তম মিনিটে অমিদ প্রোপাজাইয়ের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য বজায় রেখেই শুরু করে বাংলাদেশ। ৫৪তম মিনিটে অবিশ্বাস্য এক সুযোগ নষ্ট করেন মোরসালিন। বিশ্বনাথের কাছ থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে ঢুকে দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে একেবারে ফাঁকায় থাকা মোরসালিনকে পাস দেন রাকিব। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে উড়িয়ে মারেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

৬২তম মিনিটে আবারও অবিশ্বাস্য এক মিস। বাঁ প্রান্ত থেকে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের ক্রস থেকে ফাঁকায় পেয়েও এবার সুযোগ নষ্ট করেন রাকিব। বল নিয়ন্ত্রণই ঠিকভাবে করতে পারেননি। বল ধরতে গেলে কিছুটা জোরেই লাগে তার পায়ে। ফলে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের ট্যাকলে লক্ষ্যেই শট নিতে পারেননি তিনি।

ধারার বিপরীতে ৭১তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল আফগানিস্তান। ডান প্রান্ত থেকে জেলফাগার নাজারির ক্রস থেকে হেড নেওয়ার সুযোগ ছিল মোস্তফা আজাদজয়ের সামনে। এরপরও কিছু সুযোগ ছি তাদের সামনে। ভালো সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনেও। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি কোনো দলই। ফলে ড্র মেনেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।

 

 

Comments