এমন ইনিংস 'আগে কখনোই দেখেননি' লিটন

শান্তকে নিয়ে ইনিংসের ভিতটা করে দিয়েছেন লিটনই। সেই ভিতে ইমারত বানান মুশফিক। এমন ইনিংস নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে দেখেননি লিটন।
ছবি: ফিরোজ আহমেদ

আয়ারল্যান্ড সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ব্যাটিং অর্ডার কিছুটা নামিয়ে আনেন মুশফিকুর রহিম। স্বাভাবিক চার নম্বর ছেড়ে নামেন ছয় নম্বরে। আগের ব্যাটাররা ভালো খেলায় নামতে হচ্ছে ৩০ ওভারের পরে। যেখান থেকে সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া বেশ কঠিনই ব্যাটারদের জন্য। কিন্তু এদিন কি দারুণভাবেই না তা করে ফেললেন মুশফিকুর রহিম। তা দেখে রীতিমতো মুগ্ধ তার সতীর্থ লিটন কুমার দাস।

সিলেটের আকাশ ছিল সকাল থেকেই মেঘলা। বাতাসও বইছিল জোরালো ভাবে। তাতে কন্ডিশনটা তৈরি হলো আইরিশদের মতোই। আর 'চেনা কন্ডিশনে' গর্জে উঠেছিলেন পেসাররা। তবে তাদের দারুণভাবেই সামাল দিলেন লিটন। খেলেন দারুণ এক ইনিংস। অসাধারণ ব্যাটিং করেন নাজমুল হোসেন শান্তও। তবে তাদের সবাইকে ছাপিয়ে নায়ক মুশফিক।

উইকেটে নেমে প্রথম কয়েকটি বলে কিছুটা নড়বড়ে ছিলেন এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। তবে এরপর খেললেন দারুণ সব শট। রিভার্স সুইপ ও স্কুপও হলো শতভাগ নিখুঁত। তার আগ্রাসনে হলো রান সংগ্রহের নতুন রেকর্ড। নিজেও গড়লেন দেশের সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড।

তার ইনিংস দেখে মুগ্ধ লিটন বললেন, 'ফিলিংস অনেক ভালো। সত্যি কথা বলতে আমি যতদিন খেলছি বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড় শেষদিকে গিয়ে ১০০ করে নাই। যখন দল থেকে কেউ এরকম একটা সেঞ্চুরি করে, দেখলে অনেক ভালো লাগে। সিনিয়ররা কেউ করলে তো আরও ভালো লাগে।'

শুধু এদিনের সেঞ্চুরিই নয়, আগের ম্যাচেও মুশফিকের ক্যামিও দেখে মুগ্ধ এ ওপেনার, 'মুশফিক ভাইয়ের শুধু আজকের ইনিংস না, শেষ ম্যাচের ইনিংসটা যদি দেখেন আমার মনে হয় অসাধারণ ছিল। যদিও রান বেশি না, ৪০ বা এর বেশি ছিল; এটা কিন্তু বিগ মার্জিন তৈরি করে দেয় ৩০০ প্লাস করতে। আজকের ইনিংসটা তো ডিফারেন্ট বল গেম করে দিয়েছে মুশফিক ভাইয়ের ইনিংসটা।'

সোমবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ৬০ বলে হার না মানা ১০০ রানের ইনিংস খেলেন মুশফিক। ১৪টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজান নিজের ইনিংস। তার ইনিংসে ভর করে ওয়ানডেতে নিজেদের সর্বোচ্চ ৩৪৯ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

Comments