ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফাইনালে নিয়ম-কানুন নিয়ে শিথিল না হতে রেফারিকে স্পেন কোচের আহ্বান

স্পোর্টস ডেস্ক

চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি ছিল রেফারিং। অধারাবাহিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বিতর্কিত একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে প্রচুর। এবার ফাইনাল ম্যাচের আগেও স্পেন কোচের সংবাদ সম্মেলনে রেফারিং প্রসঙ্গ উঠেছে। খেলার মধ্যে নিয়ম-কানুন নিয়ে রেফারি শিথিলতা দেখাতে পারেন না বলে সতর্কবার্তা শুনিয়েছেন লুইস দে লা ফুয়েন্তে। 

স্প্যানিশ পত্রিকা স্পোর্তকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাইনাল ম্যাচের রেফারির ভূমিকা নিয়ে এসব কথা বলেছেন দে লা ফুয়েন্তে। এই ম্যাচে রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। 

দে লা ফুয়েন্তে বলেছেন, ‘এমন ম্যাচে রেফারি নমনীয় আচরণ করতে পারেন না এবং খেলার নিয়ম-কানুন ভঙ্গ হতে দিতে পারেন না। ফুটবলে কোনটা বৈধ আর কোনটা অবৈধ, সেই সীমারেখা অতিক্রম করতে দেয়া যায় না’। 

তবে সতর্কবার্তা শোনালেও রেফারির উপর বিশ্বাস রাখছেন বলে জানিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ, ‘রেফারিদের উপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তবে এই ধরণের ম্যাচে কীভাবে খেলতে হয়, সেটাও আমাদের জানা আছে’।

দারুণ ফুটবল খেলা দুটি দলের ফাইনাল যেন ছোট ছোট বিষয়ের কারণে নষ্ট না হয়ে যায়, সেদিকেও রেফারিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে বলছেন স্পেন কোচ, ‘দারুণ একটি ফাইনাল হতে যাচ্ছে। খেলোয়াড়দের প্রতিভার দিক থেকে দেখতে গেলে দুই দলের ভেতর অনেক মিল আছে। দুই দলই স্কিল প্রদর্শনের মাধ্যমে ফুটবল খেলতে চায়। আশা করছি রেফারি ছোট ছোট বিষয়গুলোর দিকে নজর রাখবেন, যেন ফাইনাল ম্যাচটা ফাইনালের মতোই হয়’। 

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বেশ আগ্রাসী ফুটবল খেলেছিল আর্জেন্টিনা। খেলার প্রথমার্ধেই ১২টি ফাউল করেছিল স্কালোনির দল। তবে প্রতিপক্ষের খেলার ধরন নিয়ে চিন্তিত না হয়ে নিজেদের ঘরানার ফুটবলে অটল থাকতে চান স্প্যানিশ কোচ, ‘তারা তাদের মতো ফুটবল খেলবে। তবে আমাদের নিজেদের ফুটবল দর্শনের দিকেই মনোযোগী হতে হবে। আমাদের নিজস্ব স্টাইলকে শক্তিশালী করা ও উন্নতি করার ব্যাপারে খেয়াল করতে হবে’। 

এমনকি ফাইনালে নিজেদের খেলার মডেল ভুলে গিয়ে অন্য স্টাইলে খেলতে গেলে দল ভুগতে পারে বলেও নিজেদের খেলোয়াড়দের সতর্ক করেছেন দে লা ফুয়েন্তে। 

ফাইনালে জয়-পরাজয় নিয়ে বেশি না ভেবে নিজেদের সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রাখতে চান স্প্যানিশ কোচ, যেন জয়ের সুযোগ এলে দুহাত ভরে তা লুফে নিতে পারে তাঁর দল, ‘সুযোগ পেলে আমি প্রতিবারই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে চাইব এবং হারার হলে হারব। বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছানো এবং জেতার মতো অবস্থা তৈরি করা, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নিজেদের শক্তিমত্তা অনুযায়ী ফাইনাল জেতার জন্য লড়াই করব, দুরন্ত ফর্মে থাকা এক প্রতিপক্ষকে নিষ্ক্রিয় করে রাখার চেষ্টা করব। আমরা নিজেদের দিকেই বেশি ফোকাস করছি’। 

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বেশি শরীরনির্ভর ফুটবল খেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে বেশ নেতিবাচক কথা হয়েছে। তবে সাবেক শিষ্যের দলের প্রতি শুধু প্রশংসাই ঝরে পড়লো দে লা ফুয়েন্তের কণ্ঠে, ‘সবার মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, দুইবারের কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন, বিশ্বকাপ ফাইনালিস্ট দলটিকে আমি তারিফ করি। তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধার কমতি নেই। দুই দলই তাদের ফুটবলীয় স্কিল দেখিয়ে ম্যাচ জিততে চাইবে’।