নিয়মরক্ষার এক ম্যাচে যত রেকর্ড
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি সাধারণত কেবলই 'নিয়মরক্ষার' হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যকার চলতি আসরের ব্রোঞ্জ মেডেল নির্ধারণী ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিল এক অবিশ্বাস্য গোলবন্যা আর রেকর্ডের মহোৎসব। ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্য (ব্রোঞ্জ পদক) নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। আর এই এক ম্যাচেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে এক গাদা ঐতিহাসিক রেকর্ড।
গোলবন্যার ম্যাচ ও বিশ্বমঞ্চের ইতিহাস
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের ইতিহাসে এর আগে কখনো এত গোল দেখেনি বিশ্ব। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফ্রান্সের ৬-৩ গোলের জয়টি ছিল এই পর্বের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। আজ ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের ১০ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াই সেই ৬৮ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দিল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে ১০ বা তার বেশি গোল হওয়ার ঘটনা এটি মাত্র ষষ্ঠবার। এর আগে ১৯৫৪ সালে অস্ট্রিয়া-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে সর্বোচ্চ ১২ গোল হয়েছিল।
সাকার হ্যাটট্রিক ও বেলিংহ্যামের কীর্তি
ইংল্যান্ডের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন বুকায়ো সাকা। ১৯৬৬ সালের ফাইনালে জিওফ হার্স্টের পর দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করলেন সাকা। একই সঙ্গে ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। চলতি আসরে লিওনেল মেসি, জোনাথন ডেভিড ও উসমান দেম্বেলের পর চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিকের তালিকায় নাম লেখালেন এই উইঙ্গার।
রেকর্ড গড়েছেন জুড বেলিংহ্যামও। ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করে চলতি আসরে নিজের গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে গেছেন তিনি। এর মাধ্যমে একটি একক বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখন বেলিংহ্যামের দখলে। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ১৯৮৬ সালে গ্যারি লিনেকার এবং ২০১৮ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে হ্যারিকেনের করা ৬ গোলের রেকর্ডকে। এছাড়া ইংল্যান্ডের হয়ে ম্যাচে গোল করা ডেক্লান রাইস প্রথম প্রিমিয়ার লিগ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে স্কোরশিটে নাম তোলার কীর্তি গড়েন।
এমবাপের অনন্য মহাকাব্য ও অলিসের ট্র্যাজেডি
ম্যাচ হারলেও ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে নিজেকে নিয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশ্বকাপে এখন তাঁর মোট গোলসংখ্যা ২২টি—যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে চলতি টুর্নামেন্টে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে আছেন তিনি। এবারের আসরে ১০টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্টসহ মোট ১৪টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন এমবাপে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে একক কোনো টুর্নামেন্টে যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ।
ফ্রান্সের আরেক তারকা মাইকেল অলিস গড়েছেন এক অদ্ভুত ও মিশ্র রেকর্ড। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে পেলের গড়া এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড ভেঙে এবারের বিশ্বকাপে ৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন অলিস। অথচ এমন দুর্দান্ত টুর্নামেন্ট কাটানোর পরও গোলভাগ্যে ছিল চরম ট্র্যাজেডি। পুরো বিশ্বকাপে গোল অভিমুখে ২০টি শট নিয়েও কোনো গোল পাননি তিনি, যা বিশ্বকাপে গোল না পাওয়া যেকোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শট নেওয়ার রেকর্ড।