ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত বদল? ফিফার জবাব চায় নরওয়ে

স্পোর্টস ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার ঘটনায় এবার ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)। সংস্থাটির সভাপতি লিসে ক্লাভেনেসের দাবি, এমন সিদ্ধান্ত ফুটবলের মৌলিক নীতিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্লাভেনেস জানান, আগামী ৬ আগস্ট এনএফএফের বোর্ড সভায় বিষয়টি উত্থাপন করবেন। বোর্ডের অনুমোদন পেলে ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।

এর আগে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার প্রথম ‘পিস প্রাইজ’ দেওয়ার ঘটনায়ও এনএফএফ অভিযোগ করেছিল। ক্লাভেনেস জানিয়েছেন, ব্যালোগান ইস্যুটিও সেই অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। তার ভাষায়, 'আমার কাছে বিষয়টি একই ধরনের নৈতিক প্রশ্নের মধ্যে পড়ে। এটি কখনোই ঘটা উচিত ছিল না।'

বিতর্কের সূত্রপাত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে বালোগানের লাল কার্ড পাওয়ার পর। নিয়ম অনুযায়ী, পরের ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে তাকে খেলার অনুমতি দেয়।

পরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোন করে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ক্লাভেনেস বলেন, 'এভাবে যদি নিয়ম ভাঙা হয়, তাহলে আমরা খুবই বিপজ্জনক পথে হাঁটছি। এতে পুরো ফুটবল খেলাই ঝুঁকির মুখে পড়বে।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা সবাই জানি, এই সিদ্ধান্তের পেছনে বাইরের প্রভাব ছিল এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এখন ফিফার নেতৃত্বের উচিত স্বীকার করা যে এটি একটি ভুল ছিল।'

নরওয়ের এই সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার ও আইনজীবীর মতে, কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের চাপে নিয়ম পরিবর্তন করা ভবিষ্যতের জন্যও ভয়ংকর নজির। 'আপনি যদি রাষ্ট্রীয় নেতাদের চাপে সিদ্ধান্ত বদলাতে শুরু করেন, তাহলে ধীরে ধীরে ফুটবলের স্বাধীনতা নষ্ট হবে। সেটাই এখানে হয়েছে,' বলেন তিনি।

আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আল-কামালির ভূমিকা নিয়েও। দ্য টাইমস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এককভাবে নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এ নিয়ে ক্লাভেনেসের মন্তব্য, 'এত বিতর্কিত সিদ্ধান্তে একজনের নয়, একাধিক সদস্যের মতামত থাকা উচিত ছিল। সেটা না হওয়াটা স্পষ্ট ভুল।'

তিনি মনে করেন, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ নেই। 'কোচ, খেলোয়াড়, সমর্থক অনেকেই মনে করেছেন এটি ফুটবলের খুব কাছাকাছি গিয়ে হস্তক্ষেপ করেছে। তাই এটিকে চাপা দিয়ে রাখা সম্ভব নয়,' বলেন ক্লাভেনেস।

একই সাক্ষাৎকারে ২০৩০ বিশ্বকাপে দলসংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করেন নরওয়ে ফুটবল প্রধান। তার মতে, ৪৮ দলই ছিল বড় পরিবর্তন, এখনই ৬৪ দলের আলোচনা শুরু করলে ফুটবলের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে এবং আন্তর্জাতিক সূচির ওপর আরও চাপ তৈরি হবে।