সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ, ব্রাজিলের কীর্তি, বিয়ার নিষিদ্ধ এবং আরও

লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, নেইমারসহ বড় বড় দলের নামীদামী তারকাদের পায়ের জাদুতে বুঁদ হওয়ার আগে দেখে নিন বিশ্বকাপ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও মজার তথ্য।
ছবি: সংগৃহীত

রাত পোহালেই শেষ হচ্ছে অপেক্ষা। কাতারে বসতে যাচ্ছে 'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ। ৩২ দল প্রায় এক মাস ধরে লড়াই করবে শিরোপা জেতার লক্ষ্যে। লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, নেইমারসহ বড় বড় দলের নামীদামী তারকাদের পায়ের জাদুতে বুঁদ হওয়ার আগে দেখে নিন বিশ্বকাপ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও মজার তথ্য।

১) ৩২ দল নিয়ে আয়োজিত সবগুলো আসরের মধ্যে এবারের ফিফা বিশ্বকাপ ব্যাপ্তির দিক থেকে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত, মাত্র ২৮ দিন।

২) বিশ্বকাপের জন্য কাতার যে প্রতীক নির্বাচন করেছে, তা দেখতে ইংরেজি '৮' সংখ্যার মতো। যা একইসঙ্গে এবারের আসরের স্টেডিয়ামের সংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে এবং অসীমতাও (ইনফিনিটি) চিত্রিত করে।

৩) শিরোপা না জিতে সবচেয়ে বেশিবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দল মেক্সিকো। এবার তারা ১৬তম বারের মতো ফুটবলের মহাযজ্ঞে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তারা দুবার বিশ্বকাপের আয়োজক দেশও ছিল (১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে)।

৪) আইসল্যান্ড হলো বিশ্বকাপে খেলা সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ (২০১৮ সালে)। তাদের জনসংখ্যা মাত্র ৩ লাখ ৩৪ হাজারের আশেপাশে।

৫) বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে জার্মানি ও ব্রাজিল (১০৯)। তবে জার্মানি সবচেয়ে বেশিবার ফাইনাল (৮), সেমিফাইনাল (১৩) ও কোয়ার্টার ফাইনালের (১৬) টিকিট পেয়েছে।

৬) রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলই একমাত্র দল যারা বিশ্বকাপের ২২ আসরের প্রতিটিতে খেলার সুযোগ পেয়েছে।

৭) একমাত্র দল হিসেবে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপরাজিত থাকার কীর্তি নিউজিল্যান্ডের দখলে। ২০১০ সালে গ্রুপ পর্বে তাদের যাত্রা থামলেও তিনটি ম্যাচই ড্র করেছিল তারা।

৮) সুইজারল্যান্ডই একমাত্র দল যারা বিশ্বকাপ থেকে কোনো গোল হজম না করেই বিদায় নেয়। ২০০৬ সালে শেষ ষোলোতে তারা ইউক্রেনের বিপক্ষে হেরে যায় টাইব্রেকারে।

৯) আয়োজক হিসেবে শেষবার বিশ্বকাপ জিতেছিল আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স (১৯৯৮ সালে)।

১০) ফ্রান্সই আবার প্রথম দল যারা স্বাগতিক হিসেবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি (১৯৩৮ সালে)। উরুগুয়ে ও ইতালি স্বাগতিক হিসেবে যথাক্রমে ১৯৩০ ও ১৯৩৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

১১) আগের ২১ বিশ্বকাপের মধ্যে আয়োজকরা শিরোপা জিতেছে ছয়টিতে।

১২) এখন পর্যন্ত একমাত্র স্বাগতিক দেশ হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছাতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা (২০১০ সালে)।

১৩) বিশ্বকাপের জন্য গৃহীত প্রকল্পগুলোর পেছনে প্রায় ২২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে কাতার। ফলে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপে পরিণত হয়েছে।

১৪) কাতারে এবার মাত্র আটটি স্টেডিয়াম ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৯৭৮ সালের পর এটি বিশ্বকাপে ব্যবহৃত সর্বনিম্ন সংখ্যক স্টেডিয়াম। সেবার আয়োজক আর্জেন্টিনা মাত্র ছয়টি স্টেডিয়াম ব্যবহার করেছিল।

১৪) ফ্রান্সের জ্যাঁ ফতেঁ ১৯৫৮ সালে বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড গড়েন। তিনি মাত্র ৬ ম্যাচ খেলেই করেছিলেন ১৩ গোল।

১৫) বিশ্বকাপের ইতিহাসে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোলের মালিক জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। তিনি ২০০২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ১৬ গোল করেন। 

১৬) কাতার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ফুটবলারদের মধ্যে জার্মানির টমাস মুলার আছেন স্বদেশি ক্লোসার কীর্তির সবচেয়ে কাছে। তিনি বিশ্বমঞ্চে ১০ গোল করেছেন।

১৭) ক্যামেরুনের রজার মিলা ১৯৯৪ সালে রাশিয়ার বিপক্ষে ৪২ বছর ৩৯ দিন বয়সে লক্ষ্যভেদ করেন। বিশ্বকাপে গোল করা সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় তিনি।

১৮) উত্তর আয়ারল্যান্ডের নরম্যান হোয়াইটসাইড ১৯৮২ সালে তৎকালীন যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে ১৭ বছর ৪১ দিন বয়সে মাঠে নামেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার তিনি।

১৯) ইতালির আলেসান্দ্রো নেস্তা বিশ্বকাপে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে বদলি হন। ১৯৯৮ সালে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর মাত্র চার মিনিট পরই তার জায়গায় জিউসেপ্পে বার্গোমিকে নামানো হয়েছিল।

২০) ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক কাতার আসর শুরুর মাত্র দুদিন আগে চমকপ্রদভাবে ইউ-টার্ন নিয়ে আটটি বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামের চারপাশে বিয়ার বিক্রি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Comments

The Daily Star  | English