মহাকাশে স্থায়ী বসবাসের ধারণা অর্জনে চাঁদের উদ্দেশে ‘অ্যার্টেমিস ১’

অ্যাপোলো ১১ মহাকাশ অভিযাত্রীরা চন্দ্রপৃষ্ঠ ছুঁয়ে ফিরে আসার প্রায় অর্ধ শতাব্দি পর আবারও চাঁদের বুকে মানুষকে ফিরিয়ে নিতে শুরু করা হয়েছে আর্টেমিস প্রোগ্রাম। 
আর্টেমিস ১ উৎক্ষেপণ। ছবি: সংগৃহীত

অ্যাপোলো ১১ মহাকাশ অভিযাত্রীরা চন্দ্রপৃষ্ঠ ছুঁয়ে ফিরে আসার প্রায় অর্ধ শতাব্দি পর আবারও চাঁদের বুকে মানুষকে ফিরিয়ে নিতে শুরু করা হয়েছে আর্টেমিস প্রোগ্রাম। 

প্রায় ৫০ বছর আগে চূড়ান্ত অ্যাপোলো মিশন শেষ করে নাসার ৩ জন মহাকাশচারী প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি 'চাঁদের বুকে একজন মানুষকে পাঠানো এবং তাকে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার' প্রতিশ্রুতি দেওয়া এক দশকেরও কম সময়ে সেই ঐতিহাসিক লক্ষ্যটি অর্জন করে। 

এ ঘটনার প্রায় ৫০ বছর পর মানুষ আবারও চাঁদে যাচ্ছে, তবে এবারে রয়েছে ভিন্নতা।

গত ১৬ নভেম্বর পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুর ১টা ৪৭ মিনিটে আর্টেমিস ১-এর সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে চাঁদে পুনরায় ক্রু'ড মিশন ফেরানোর এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সূচনা হয়। নাসার উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেটটি ফ্লোরিডা উপকূল থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। রকেটটি ওরিয়ন ক্যাপসুলটিকে চাঁদের দিকে ঠেলে দেয়। যা চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে নভোচারীদের পুনরায় ফিরিয়ে আনতে ফ্লাইটে প্রযুক্তির পরীক্ষাস্বরূপ কাজ করবে।

বর্তমানে মানুষকে চাঁদে পৌঁছানোর পথে নেতৃত্ব দিচ্ছে দুটি দেশ- যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দুটি দেশের প্রকল্পগুলো বেশ বড় এবং বেশ জটিল, যা তাদের এনে দিতে পারে ভালো কিছু ফলাফল। উভয়েরই লক্ষ্য চাঁদ এবং আদি পৃথিবী সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক বোঝাপড়া বাড়ানো। এছাড়া মহাকাশ অনুসন্ধান এবং পৃথিবীতে ব্যবহারের জন্য নতুন প্রযুক্তির বিকাশ, সেইসঙ্গে মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ অনুসন্ধানের মঞ্চ তৈরি করা।

রোভার বনাম মানুষ

ওয়াশিংটন, ডিসির স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামের অ্যাপোলো স্পেসক্রাফ্ট সংগ্রহের কিউরেটর, মহাকাশ ইতিহাসবিদ টিসেল মুইর-হারমনি বলেন, 'অ্যাপোলো ছিল 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য একটি প্রযুক্তিগত কর্মসূচি।' এর মূলে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সংঘর্ষ। কর্মসূচিটি ছিল 'বিশ্ব জনতার হৃদয় ও মন জয় করা। এটি ছিল বিশ্বে নেতৃত্ব প্রদর্শনের একটি উপায়। গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদের শক্তিরও প্রদর্শন।' 

অ্যাপোলো ১১-এর মহাকাশচারী নীল আর্মস্ট্রং এবং বাজ অলড্রিন ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই চাঁদে প্রথম পা রাখেন। পরবর্তী কয়েক বছরে পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহটির ধূসর, প্রাণহীন ভূখণ্ডে শুধু পা ফেলা নয় এমনকি গাড়িও চালান আরও ১০ জন আমেরিকান পুরুষ। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ এর মাধ্যমে সেই অবতরণ সিরিজের চূড়ান্ত মিশন শেষ হয়। অ্যাপোলো ১৭ মহাকাশচারী ইউজিন সারনান এবং হ্যারিসন এইচ স্মিট শেষবারের মতো তাদের পায়ের ছাপ চাঁদের ধুলায় রেখে কমান্ড মডিউলে রোনাল্ড ইভান্সের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর থেকে মানুষ চাঁদে হাঁটা বন্ধ করে দেয়।

অ্যাপোলো ১৭-এর পর থেকে কয়েক দশকে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২ ডজন মহাকাশযান চাঁদে গেছে। কোনোটি চাঁদকে প্রদক্ষিণ করেছে, কিছু ভূপৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে যাতে গবেষকরা সেই সংঘর্ষের ধ্বংসাবশেষের উপাদান অধ্যয়ন করতে পারেন এবং কোনোটি অবতরণ করেছে এবং চাঁদের নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনেছে। 

এই ক্রু ছাড়া মহাকাশযানগুলো চাঁদের অন্বেষণে কিছু বড় অগ্রগতি আনলেও, সেখানে মানুষের সরাসরি উপস্থিতি আরও ভালো কিছু নিয়ে আসতে পারে। নাসার সঙ্গে মিশন সিমুলেশন এবং নভোচারীদের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে কর্মরত এল পাসোর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক জোস হুরতাডো বলেন, 'মানুষের মস্তিষ্ক এবং সেখানে মানুষের চোখের উপস্থিতির মূল্যকে অন্য কিছুই প্রতিস্থাপন করতে পারে না।'

অ্যাপোলো ১৭-এর মিশন চলাকালীন চাঁদে যাওয়া একমাত্র ভূতাত্ত্ববিদ হ্যারিসন স্মিট চাঁদের মাটিতে মরিচা বর্ণের একটি দাগ লক্ষ্য করেছিলেন। তিনি সেখানে হেঁটে যান এবং আশেপাশের অবস্থা চিন্তা করে বুঝতে পারলেন এটি একটি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের প্রমাণ। তিনি এবং জেন সারনান এই কমলা মাটির কিছু অংশ বিশ্লেষণের জন্য সংগ্রহ করেন। যেটি প্ররীক্ষা করে জানা যায়, মাটিতে কমলা কাঁচের ব্লবগুলো প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন বছর আগের একটি আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণের সময় তৈরি হয়েছিল। 

এই কমলা মাটির রাসায়নিক গঠনের বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দেয়, চাঁদের বয়স যখন কম ছিল তখন এর মধ্যে আগ্নেয়গিরি ছিল। আর চাঁদ যে পৃথিবীর প্রায় একই সময়ে গঠিত হয়েছিল সেই ধারণাটিকেই সমর্থন করে এই আবিষ্কারটি। যদি এই কমলা মাটির বিষয়টি স্মিটের চোখে না পড়তো তাহলে বিজ্ঞানীরা এর তাৎপর্য বুঝতেই পারতেন না। হুরতাডো তাই বলেন, 'ফিল্ড টুলের ক্ষেত্রে সম্ভবত চূড়ান্ত হাতিয়ার হলো একজন সু-প্রশিক্ষিত মানুষ।' 

প্লানেটারি সায়েন্টিস্ট স্টিভেন স্কোয়ার্স ২০০৫ সালে প্রকাশিত তার 'রোভিং মার্স'-এ লিখেছেন: 'দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে আমাদের রোভাররা মঙ্গলের একদিনে যে কাজটি করতে পারে, সেখানে অবস্থানকারী একজন মানুষ সেটা এক মিনিটেরও কম সময়ে করতে পারে।' 

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চন্দ্রাভিযান

অ্যাপোলো মিশনগুলো শেষ হওয়ার পর নাসা মহাকাশে দীর্ঘমেয়াদী মানবযাত্রার জন্য স্পেস স্টেশনগুলোকে প্রস্তুতের দিকে মনোযোগ দেয়। 

১৯৭৩ সালের মে মাসে স্কাইল্যাব চালু হয়। যা সে বছর এবং পরের বছর ৪ জন নভোচারীকে সেখানে জায়গা দেয়। কয়েক বছর পরে, পরিকল্পনা অনুযায়ী অস্থায়ী স্টেশনটি বায়ুমণ্ডলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নাসার পরবর্তী স্পেস স্টেশন ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন বা আইএসএস যা একটি বৃহত্তর, সহযোগী প্রকল্প ২০০০ সালের নভেম্বর থেকে মহাকাশচারীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে আসছে। এটি পৃথিবীর প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উপরে এখনো প্রদক্ষিণ করছে।

২০১৯ সালের দিকে পরিকল্পনা করা হয়, ২০২৪ সালে নাসা চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষ অবতরণ করবে। যদিও পরে সময় পিছিয়ে যায়।

২০১৯ সালের গোড়ার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছিলেন, 'চাঁদে প্রথম নারী এবং পরবর্তী পুরুষ দুজনেই হবেন আমেরিকান মহাকাশচারী, আমেরিকার মাটি থেকে আমেরিকান রকেটের মাধ্যমে তা উৎক্ষেপণ করা হবে।' অল্প সময়ের মধ্যেই নাসা এই কর্মসূচিটির নাম দেয় আর্টেমিস প্রোগ্রাম, যা পৌরাণিক চরিত্র অ্যাপোলোর যুগল বোনের নামানুসারে করা হয়।

নাসার আর্টেমিস প্রোগ্রামটি চাঁদ থেকে মঙ্গলগ্রহে মানুষ প্রেরণের একটি প্রোগ্রামের অংশ। যার লক্ষ্য মানুষকে মহাকাশে আগের চেয়ে আরও দূরে পাঠানো। এর মধ্যে প্রথম গন্তব্য চাঁদ, যার পৃষ্ঠে ২০২৫ সালের প্রথম দিকে মহাকাশচারীরা পা রাখতে চায়। মহাকাশ সংস্থা এবং এর অংশীদাররা কয়েক বছর চাঁদে অন্বেষণের সময় যা শিখবে তা চাঁদের বাইরে ভ্রমণের গাইড হিসেবে সাহায্য করবে। যার মধ্যে মঙ্গলগ্রহে নভোচারীদের পাঠানোও অন্তর্ভুক্ত। 

নাসার হিউম্যান এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড অপারেশনস মিশন ডিরেক্টরেটের প্ল্যানেটারি জিওলজিস্ট জ্যাকব ব্লিচার বলেন, 'আর্টেমিসের লক্ষ্য হলো পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে মানবতার উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা শুরু করা।'

চাঁদ থেকে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার প্রথম বড় ধরনের পরীক্ষাটি হলো, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয়ে তৈরি নাসার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম বা এসএলএস রকেটের মাধ্যমে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে ক্রু ছাড়া সফলভাবে ক্রু ক্যাপসুল উৎক্ষেপণ।  

আর্টেমিস ১ এর পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের পর আরও একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট, আর্টেমিস ২ প্রথম মিশনের মতো একই গতিপথ অনুসরণ করবে। তবে সেটি নভোচারী বহন করবে। কিন্তু ২০২৪ সালের আগে সেটি শুরু হচ্ছেন না।

আর্টেমিস ৩, যা ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত। সেটি চাঁদে মানুষের পদচিহ্ন আবার ফিরিয়ে আনবে এবং সঙ্গে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করা প্রথম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সেই ফ্লাইটে এসএলএস রকেট চাঁদের দিকে ওরিয়ন ক্রুসহ ক্যাপসুল পাঠাবে। যখন এটি চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছাবে তখন এটি মানব অবতরণ ব্যবস্থার সঙ্গে ডক করবে যা বর্তমানে স্পেসএক্স কোম্পানির মাধ্যমে নির্মিত হচ্ছে। 

যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে নাসা বছরে প্রায় একবার করে আর্টেমিস মিশন চালানোর পরিকল্পনা করছে। ব্লিচার বলেন, 'আমরা আশা করি আর্টেমিস ৩ এর মিশন কিছু অবকাঠামো তৈরি করবে।' সেই অবকাঠামোর মধ্যে চাঁদে শক্তি উৎপাদনের বিকাশ ও বিতরণের জন্য হার্ডওয়্যার, নভোচারীদের দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য রোভার এবং শেষ পর্যন্ত ভূপৃষ্ঠে বসবাস ও কাজের কোয়ার্টার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। উদ্দেশ্য হলো মহাকাশচারীদের মহাকাশে থাকার সময়সীমা কয়েক দিন থেকে মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করা।

চাঁদে গমনকারী মহাকাশচারীদের সহায়তা করার জন্য নাসা গেটওয়ে নামের একটি নতুন মহাকাশ স্টেশন তৈরির জন্য কাজ করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এর কাজ সম্পূর্ণ হলে এটি চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মতো এটিও হবে একটি আন্তর্জাতিক এবং বাণিজ্যিক গবেষণা কেন্দ্র। এটি মঙ্গলগ্রহ এবং তার বাইরে ভ্রমণের জন্য একটি ওয়ে স্টেশন হিসাবেও কাজ করবে।

দ্য মুন গডেস 

নাসার মহাকাশচারীরা সম্ভবত একমাত্র মহাকাশচারী হবেন না যারা চাঁদের পৃষ্ঠে অন্বেষণ করবেন। চীন আগামী দশকের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নিজস্ব মহাকাশচারীদের অবতরণ করার লক্ষ্য হাতে নিয়েছে।

২০০৪ সালে শুরু হয় চীনের চন্দ্র অন্বেষণ কর্মসূচি চ্যাং'ই, যা চীনা চাঁদের দেবীর নাম অনুসারে নামকরণ করা হয়। যার কাজ বেশ দ্রুত অগ্রগতি হতে দেখা গেছে। প্রোভিডেন্স আর আই এর ব্রাউন ইউনিভার্সিটির গ্রহ বিষয়ক ভূতাত্ত্বিক জেমস হেড বলেন, এটি 'খুব পদ্ধতিগত, খুব ভালভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে, এবং তারা প্রতিটি পদক্ষেপে সফল হয়েছে।'

যদিও চীন তার নির্দিষ্ট সময়সূচির পরিকল্পনাগুলো প্রকাশ করে না। চ্যাং'ই ৬ চাঁদের দূর থেকে উপাদান সংগ্রহ করবে এবং ফিরে যাবে। ২০২৬ সালে চীন চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পানির বরফ অনুসন্ধানের জন্য তার চ্যাং'ই ৭ মিশন চালু করতে চায়। হেড বলেন, 'কোন প্রশ্নই নেই, যে চীন এই দশকের শেষের দিকে চাঁদে মানুষকে পাঠাবে।'

চীনের মানব-অধিকৃত মহাকাশ স্টেশন তিয়াংগং এর কাজ এখন সম্পূর্ণ এবং পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে রয়েছে। মঙ্গল অনুসন্ধানও এর তালিকায় রয়েছে। ২০২১ সালে চীন মঙ্গলগ্রহে একটি রোভারকে নিরাপদে অবতরণও করায়।

বিজ্ঞান একটি আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা কিন্তু নাসা এবং চীনের মহাকাশ সংস্থা উলফ এমেন্ডমেন্টের কারণে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা করতে অক্ষম। কিছু লুনার বিজ্ঞানী অবশ্য আশা করেন যে দুটি দেশের মধ্যে সহযোগিতা হতে পারে। যেমন চাঁদ থেকে আনা নমুনা ভাগ করে নেওয়ার বিষয়গুলো।

মানুষের মহাকাশ অনুসন্ধান একটি প্রতিযোগিতা হিসাবে শুরু হলেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখন একটি আদর্শ। ২০টি দেশের মহাকাশচারীরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ২২ বছরের ইতিহাসে অনেকবার পরিদর্শন করেছেন, কয়েক মাস ধরে একসঙ্গে বসবাস করেছেন এবং একই স্বার্থের দিকে কাজ করেছেন।

চাঁদের দক্ষিণ মেরু

মানুষ যখন আবার চাঁদে পা রাখবে তখন তারা চাঁদের দক্ষিণ মেরু যা আগে কখনো অন্বেষণ করা হয়নি তা অনুসন্ধানের চেষ্টা করবে। এটি এমন একটি অঞ্চল যেখানে উন্নত ইমপ্যাক্ট ক্রেটার, প্রাচীন উপাদান এবং পানির বরফ রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের গবেষণার নতুন নতুন প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং মানুষের থাকার সময়কে বাড়াতে প্রয়োজন হবে এ ধরনের বস্তুর খোঁজ পেতে এই অঞ্চলটিকে লক্ষ্য করা হয়েছে। 

এ ছাড়া দক্ষিণ মেরুর গভীর গর্তগুলো কিছু পানির বরফ রয়েছে। ইন্ডিয়ানার নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের চন্দ্র বিজ্ঞানী ক্লাইভ নিল বলেন, সেই বরফ সম্পর্কে অনেক কিছু জানার আছে। কি পরিমাণ বরফ আছে? এটা নিষ্কাশন করা যাবে কি না? কীভাবে মানুষের ব্যবহারের জন্য এটি পরিশোধণ করা যায়? আর্টেমিস এক্সপ্লোরাররা এই প্রশ্নগুলোর সমাধান করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদী অনুসন্ধানে সহায়তা করবে।

এবারের লক্ষ্য এটাই যে, বিজ্ঞানের অনুসন্ধানের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে থাকা এবং কীভাবে মানুষ অন্য মহাকাশীয় স্থানে স্থায়ীভাবে থাকতে পারে তা শেখা।

তবে নাসার সময়সূচি পেছানোর দিকে তাকালে বোঝাই যাচ্ছে এটি একটি বেশ কঠিন প্রকল্প। অন্যদিকে ২০২১ সালের একটি অনুমান করা হয় ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ আর্টেমিস প্রোগ্রামের জন্য খরচ ৯৩ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়ে যাবে। যা নাসার অনুমানের চেয়ে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার বেশি।

আর্টেমিসের এই আগামী কয়েক বছরের উড্ডয়নগুলো দেখাবে নাসা আসলে কী করতে পারে। অন্যদিকে চীনের আসন্ন মিশনগুলো থেকে জানা যাবে চীন চন্দ্র অনুসন্ধানে কী অর্জন করতে পারে। 

তথ্যসূত্র: সায়েন্স নিউজ

গ্রন্থনা: আহমেদ বিন কাদের অনি

 

Comments