সততার পুরস্কার বদলি

ঘুষ লেনদেনের জন্য চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের বেশ বদনাম রয়েছে। কিন্তু বন্দরের ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্টরা কাস্টম হাউজের সাবেক সহকারী কমিশনার (জেটি পরীক্ষক) আবু হানিফ মোহাম্মদ আবদুল আহাদকে কোনভাবেই বাগে আনতে পারছিল না।

ঘুষ লেনদেনের জন্য চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের বেশ বদনাম রয়েছে। কিন্তু বন্দরের ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্টরা কাস্টম হাউজের সাবেক সহকারী কমিশনার (জেটি পরীক্ষক) আবু হানিফ মোহাম্মদ আবদুল আহাদকে কোনভাবেই বাগে আনতে পারছিল না।

গত ১৫ জানুয়ারি সহকারী কমিশনার (জেটি পরীক্ষক) হিসেবে কাস্টম হাউজে যোগ দেন আহাদ। পরের দিন সিঅ্যন্ডএফ এজেন্টরা ‘খারাপ ব্যবহারের’ অভিযোগ তুলে আহাদের অফিসকক্ষ ভাংচুর করে। অথচ সততার জন্য সবার কাছে সুপরিচিত ছিলেন তিনি।

শুনতে হয়তো অদ্ভুত শোনাবে, আহাদের খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ এবং তার অফিসকক্ষ ভাংচুরের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসার আগেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আহাদকে তার নতুন অফিস থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে একটি প্রশিক্ষণ একাডিমিতে বদলি করে দেয়।

গত সোমবার এনবিআর তার বদলির নির্দেশ জারি করে। বৃহঃস্পতিবার তাকে একজন সহকারী পরিচালক হিসেবে চট্টগ্রামের কাস্টমস, এক্সসাইজ এবং ভ্যাট প্রশিক্ষণ একাডেমিতে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার এএফএম আবদুল্লাহ খান জানান, আহাদের বদলির নির্দেশ ঢাকা থেকে এসেছে। যদিও তিনি একজন সৎ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত, তথাপি তার বিরুদ্ধে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে তার বদলির কারণটা এখনো রহস্যময় রয়ে গেছে।

কমিশনারের মতে, ১৬ জানুয়ারির ভাংচুরের ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার খালিদ মোহাম্মদ আবু হোসেনকে মৌখিকভাবে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এখনও তদন্তের কাজ শুরু হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৬ জানুয়ারি সকালে কয়েকজন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আহাদকে গালিগালাজ করে এবং তাকে তার অফিসকক্ষে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রাখে। শুধু তাই নয়, সেসময় তারা তার নামফলক ভেঙ্গে ফেলে এবং অফিস লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে। কারণ, তিনি ঘুষ নিতে অস্বীকার করেছিলেন।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি কাজী খায়রুল বাশার মিল্টন বলেন, আহাদের খারাপ ব্যবহারের ফলে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা অসন্তুষ্ঠ ছিল।

তার মতে, আহাদ এমন একজন সৎ কর্মকর্তা যিনি কখনোই ঘুষ নেন না। “কিন্তু কাস্টম হাউজের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুষের প্রচলন রয়েছে। পণ্যের দাম থেকে শুরু করে তা সরবরাহের বিভিন্ন স্তরে অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে।”

তবে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “একজন কর্মকর্তা যদি কন্টেইনার পরীক্ষা করার নামে পণ্য ক্লিয়ারিং-এ দেরি করেন তাহলে আমরা কিভাবে কাজ করবো?”

তিনি আরো বলেন, “কন্টেইরারে কোন অঘোষিত পণ্য রয়েছে কিনা তা দেখার জন্য আহাদ প্রতিটি কন্টেইনার পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন। ফলে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে বলে তারা আহাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছিল।”

আহাদ গত দেড় বছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের বিভিন্ন শাখায় কাজ করেছেন। কর ফাঁকি দেওয়া এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে পণ্যসামগ্রী আমদানিকারীকারকদের বিরুদ্ধে তিনি বেশ কঠোর হিসেবে অফিসের মধ্যে সুপরিচিত ছিলেন।

আহাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।



Click here to read the English version of this news

Comments

The Daily Star  | English

Raids on hospitals countrywide from Feb 27: health minister

There will be zero tolerance for child deaths due to hospital authorities' negligence, he says

37m ago