ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বাতিল

সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশা বাবদ ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ের পর, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের দশকব্যাপী পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের এ এক্সপ্রেসওয়ে দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারতো।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী আবদুস সবুর গতকাল দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, প্রধানমন্ত্রী করিডোরের পাশে একটি দ্রুতগতির রেলপথ নির্মাণের পক্ষে।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা-ফেনী-চট্টগ্রাম রুটের ২২৪ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথটি নির্মাণে ৯৩ হাজার ৩৫০ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এতে অনুমোদন দিয়েছেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের প্রথম হাই-স্পিড রেলের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বিস্তারিত নকশার কাজ সম্পন্ন করেছে। রেলপথটি চালু হলে রাজধানী থেকে চট্টগ্রামে যাওয়া যাবে মাত্র ৫৫ থেকে ৭৩ মিনিটে।
কিন্তু এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি বাদ দেওয়া হলেও সরকারকে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে লোন হিসেবে নেওয়া প্রায় ১০০ কোটি টাকার বেশি শোধ করতে হবে। ওই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই গবেষণায় অর্থায়ন করেছিল ব্যাংকটি।
তবে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, 'সম্ভাব্যতা যাচাই গবেষণা আমাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় থেকে রক্ষা করেছে। তাই এ বাবদ ব্যয় পুরোপুরি অপচয় ছিল না।'
সরকার ৪ লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি সার্ভিস লেন নির্মাণ করবে বলে জানান তিনি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ক্রমবর্ধমান যান চলাচলের কথা বিবেচনা করে সরকার ২০০৪ সালে সেখানে অ্যাক্সেস কন্ট্রোলসহ একটি সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
এডিবির নথি অনুসারে, ২০০৮ সালে ৪ লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশাপাশি একটি অ্যাক্সেস-কন্ট্রোলড এক্সপ্রেসওয়ের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই এবং নকশার অর্থায়ন করে এডিবি।
২০১৩ সালের মার্চ মাসে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটি পিপিপির অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয়। পরের মাসে সরকার এডিবির সঙ্গে ৯৭ দশমিক ৮৭ কোটি টাকার সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বিস্তারিত নকশা সম্পাদনের চুক্তি স্বাক্ষর করে।
সেওজ এই কাজের জন্য অস্ট্রেলিয়ার এসএমইসি ইন্টারন্যাশনালের নেতৃত্বে একটি জয়েন্ট ভেঞ্চার ফার্মকে নিয়োগ দেয়। প্রতিষ্ঠানটি পরের বছরের আগস্টে গবেষণা প্রতিবেদন জমা দেয়।
২০১৫ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ওই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। তিনি তখন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে সম্মতি দেন।
সূত্র জানিয়েছে, ২১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়েটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে পিপিপির অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য আরেকটি যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানকে লেনদেন উপদেষ্টা (পরামর্শদাতা) হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
ওই বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ একই করিডোরে একটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
পরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সেতু কর্তৃপক্ষকে এ উদ্যোগ বাদ দিতে বলেন এবং সওজকে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে বলেন। সওজ পিপিপির অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করে।
কিন্তু ২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বাতিল করার এবং ৪ লেনের মহাসড়কের উভয় পাশে সার্ভিস লেন নির্মাণের নির্দেশনা দেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভা কমিটি একটি চীনা কোম্পানির কাছ থেকে ৯ কোটি সিরিঞ্জ এবং ইউএনওদের জন্য ৫০টি স্পোর্টস ইউটিলিটি যান কেনার অনুমোদন দিয়েছে।
এ ছাড়া, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গতকাল ভারতের ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত ৫ বছর বাড়িয়েছে।
কমিটি বিদ্যুতের পরিমাণ ১০০ মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ১৬০ মেগাওয়াট করেছে জানিয়ে আরেফিন বলেন, 'এর ফলে বিদ্যুৎ আমদানিতে ৭০৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।'
নতুন আমদানি হার অনুযায়ী, প্রথম বছরে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম হবে ৭ দশমিক ১৩ টাকা। বর্তমানের ৫ শতাংশের বদলে এ হার প্রতি বছর ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
অনুবাদ করেছেন জারীন তাসনিম
Comments