সহসা হচ্ছে না ফেরি সংকটের সমাধান, ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে

ফেরি সংকটের কারণে গত ১৯ দিন ধরে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রতিদিন ঘাট এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে আটকে থাকছে শত শত গাড়ি। এতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এই পথে যাতায়াতকারী দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীদের। তবে, কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে তা বলতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. জিল্লুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন এই সমস্যা সমাধানে সময় লাগবে।
তিনি বলেছেন, 'এই ফেরি সেক্টরে আমাদের মোট ২২টি ফেরি আছ। ফেরি আমানত শাহ ২৭ অক্টোবর দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। আরও ৪টি ফেরি এখন মেরামতে আছে। এখন ১৭টি ফেরি চলছে।'
তিনি আরও বলেন, 'সাধারণত প্রতিদিন ৮ হাজার যানবাহন ফেরিতে পারাপার হয়। কিন্তু, এখন ফেরি স্বল্পতার কারণে ৬ হাজার যানবাহন পরাপার করা যাচ্ছে। ফেরি সংকটের পাশাপাশি শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে সীমিত ফেরি চলাচলের কারণে ওই নৌপথের অধিকাংশ গাড়ি পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথ ব্যবহার করছে। ফলে, পাটুরিয়া ঘাটে গাড়ির চাপ বেড়ে যাচ্ছে। আর, যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী গাড়ী পারাপার করা হচ্ছে। এ কারণে টার্মিনালে ট্রাকগুলোকে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হচ্ছে।'

আজ সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত পাটুরিয়া সরেজমিনে দেখা যায়, পাটুরিয়া ঘাট থেকে মহাসড়কে পণ্য বোঝাই ট্রাকের দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন। দুটি ট্রাক টার্মিনালে অন্তত ৩ শতাধিক ট্রাক এবং শতাধিক দূরপাল্লার বাস ফেরি পারের অপেক্ষায় আছে।
ট্রাকচালক গোকুল মণ্ডল বলেন, 'গাজীপুরের মাওনা থেকে শনিবার রাত ১২টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় এসেছি। আমি আমার ট্রাকে বোতলজাত পানি নিয়ে বরিশাল যাচ্ছি। আমি ১২ ঘণ্টা ধরে মহাসড়কের আছি। ফেরিতে উঠতে আরও অন্তত ২ দিন সময় লাগবে। ঘাট এলাকায় দিনের পর দিন আটকে থাকা খুবই কষ্টকর।'
আরেক ট্রাকচালক হযরত আলী বলেন, 'এই ঘাট থেকে এই যানজট কখনো যাবে না। সারা বছরই এমন হয়। সরকার কী করে?'
বাস যাত্রী শবনম জেরিন বলেন, 'গত ৩ ঘণ্টা ধরে ঘাটে বসে আছি। ফেরিতে উঠতে অন্তত আরও এক ঘণ্টা সময় লাগবে। এই দুর্ভোগের অবসান হওয়া দরকার।'
আরেক বাস যাত্রী রাকিবুল হাসান বলেন, 'জরুরি কাজে ঢাকা থেকে বৃষ্টির মধ্যেও বাড়ি যাচ্ছি। গত তিন ঘণ্টা ধরে ঘাটে বসে আছি। কখন ফেরিতে উঠতে পারব জানি না। আমি সময় মতো বাড়িতে পৌঁছাতে পারব কিনা জানি না। এ সমস্যা সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত।'
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সংস্থা(বিআইডব্লিউটিসি) পাটুরিয়া ঘাট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ২২টি ফেরি আছে। এর মধ্যে ১৪টি বড় আকারের, দুটি মাঝারি আকারের এবং ছয়টি ছোট আকারের। ইঞ্জিনসহ নানা সমস্যা নিয়ে ৪টি পুরনো ফেরি নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে মেরামতে আছে। এখন ১৭টি চালু আছে।

এছাড়া, ২৭ অক্টোবর ১৮টি গাড়ি নিয়ে ডুবে যাওয়ার পর আরেকটি পুরনো ফেরি 'আমানত শাহ' এখন চলছে না। এই ৫টি ফেরি নৌপথে সচল হতে অনেক সময় লাগবে বলে সূত্র জানায়। ১৪টি বড় ফেরির বেশিরভাগই পুরাতন। ফেরি শাহ শাহজালাল তৈরি হয়েছে ১৯৮০ সালে, শাহ আলী ও শাহ মখদুম তৈরি হয়েছে ১৯৮৫ সালে, শাহ পরান ও খানজাহান আলী তৈরি হয়েছে ১৯৮৭ সালে, এনায়েতপুরী এবং কেরামত আলি তৈরি হয়েছিল ১৯৮৯ সালে।
তবে, অন্যান্য ফেরিগুলো তুলনামূলকভাবে একটু নতুন। বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ও ভাষা শহীদ বরকত তৈরি হয় ১৯৯৩ সালে, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ও বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান তৈরি হয় ২০০২ সালে, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন তৈরি হয় ২০০৪ সালে, এবং ড. গোলাম মাওলা নির্মিত হয় ২০১৫ সালে।
অন্যদিকে মাঝারি আকারের দুটি ফেরি 'ঢাকা' ও 'কুমিল্লা' অনেক পুরনো। কত সালে তৈরি হয়েছিলো- এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যই নেই বিআইডব্লিউটিসি'র স্থানীয় কার্যালয়ে। কিন্তু, ২০১৪ সালে নির্মিত ৬টি ছোট আকারের ফেরির অবস্থা অনেকটা ভালো।
ফেরি শাহ আলীকে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয় ২৭ অক্টোবর, ভাষা শহীদ বরকতকে ২৯ অক্টোবর, এবং বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ও বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয় ৩ নভেম্বর।
Comments