বুক রিভিউ

আনিসুজ্জামানের তিনটি বই

আনিসুজ্জামান অধ্যাপক হিসেবে দেশে-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তিনি, তাঁর সারস্বত সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ও বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক পদে ছিলেন। তার জীবন ও কর্ম সম্পর্কে বাংলা ভাষার লেখক ও পাঠকেরা কমবেশি অবগত। এর মধ্যে প্রথমা প্রকাশন থেকে আনিসুজ্জামানের তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে। মরণোত্তর এসব প্রকাশনার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন সাজ্জাদ শরিফ। বইগুলোর নাম: আমার অভিধান, মহামানবের সাগরতীরে ও স্মৃতির মানুষ। 

আনিসুজ্জামান অধ্যাপক হিসেবে দেশে-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তিনি, তাঁর সারস্বত সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ও বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক পদে ছিলেন। তার জীবন ও কর্ম সম্পর্কে বাংলা ভাষার লেখক ও পাঠকেরা কমবেশি অবগত। এর মধ্যে প্রথমা প্রকাশন থেকে আনিসুজ্জামানের তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে। মরণোত্তর এসব প্রকাশনার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন সাজ্জাদ শরিফ। বইগুলোর নাম: আমার অভিধান, মহামানবের সাগরতীরে স্মৃতির মানুষ। 

আমার অভিধান

আমার অভিধান-এর সামনের ফ্লাপে রয়েছে: 'জীবনের শেষ বেলায় অভিনব এক শব্দকোষ রচনার কাজে হাত দিয়েছিলেন আনিসুজ্জামান। তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত অভিধান। ভালোবেসে নাম দিয়েছিলেন আমার অভিধান।' এটি---ফ্লাপের বর্ণনা অনুসারে--'সম্ভবত বাংলা ভাষার ক্ষুদ্রতম অভিধান'। আরও বলা হয়েছে: এটি 'আনিসুজ্জামানের নিজের পরিকল্পনায় সর্বশেষ বই'। বইটির ব্লার্বে মুদ্রিত হয়েছে: 'মানুষের মুখে মুখে বা কলমে কলমে অর্থে, ব্যঞ্জনায়, বানানে, প্রয়োগে যেসব শব্দ নিজেদের প্রকৃত জায়গা থেকে সরে এসেছে, ক্ষুদ্র এই অভিধানে সে রকম ৬২টি শব্দের বিচ্যুতি সহজ ভাষায় ধরিয়ে দিয়েছেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এ যেন জীবনের শেষ বেলায় এক প্রখর অধ্যাপকের মনের আনন্দে বাংলা ভাষাসমুদ্রে নির্ভার অবগাহন।'

সাজ্জাদ শরিফ 'বাংলা ভাষার অপার আনন্দে' শিরোনামে আমার অভিধান-এর ভূমিকা লিখেছেন। প্রথম আলো-সম্পাদক মতিউর রহমানের বরাতে জানিয়েছেন: '২৩ মার্চ ২০১৮ থেকে ১৯ জুলাই ২০১৯ পর্যন্ত আনিস স্যার প্রথম আলোর শুক্রবারের সাময়িকীতে আমার অভিধান বলে ধারাবাহিক শুরু করেছিলেন। ... স্যারের ইচ্ছা ছিল, এ রকম ১০০ শব্দ লিখবেন। পরে বললেন, ৮০টি করবেন। ৬২টি শব্দ নিয়ে লেখার পর আর পারলেন না। শেষ পর্যন্ত ৬২টি শব্দ নিয়ে ছোট একটি বই করার জন্য পুরোটাই স্যারকে পাঠিয়েছিলাম। সেটাও দেখে দিতে পারলেন না।'

বইয়ের সামনের ফ্লাপ, ব্লার্ব ও সাজ্জাদ শরিফ-লিখিত ভূমিকায় বলা হয়েছে যে এ অভিধানের ভুক্তি-সংখ্যা ৬২। কিন্তু আমরা মোট ৬৩টি ভুক্তি পাই এ অভিধানে। ভুক্তিসমূহ নিম্নরূপ: ১. অত্র, ২. অনিরাপদ, ৩. অন্যতম, ৪. অন্যান্য, ৫. অপস্রিয়মাণ, ৬. অভাগী, ৭. অভ্যন্তরীণ, ৮. অলকনন্দা, ৯. আঙ্গিক, ১০. আল্তু ফাল্তু, ১১. ইতিপূর্বে, ১২. ইন্দ্রজালিক, ১৩. ইষ্টিপত্র, ১৪. উৎকর্ষ, ১৫. উপজাতি, ১৬. উপর্যুক্ত, ১৭. ওলামা, ১৮. একমত, ১৯. ঐতিহাসিক, ২০. ওষধি, ২১. কার্যকর, ২২. কি না, ২৩. কী, ২৪. কৃতি, ২৫. ক্রীত, ২৬. খরচে, ২৭. গয়রহ, ২৮. চাকচিক্য, ২৯. চারিত্র, ৩০. জবাবদিহি, ৩১. জয়ন্তী, ৩২. তবু, ৩৩. দারিদ্র, ৩৪. দার্শনিক, ৩৫. দেখাশোনা, ৩৬. দ্বৈধ, ৩৭. ধূম্র, ৩৮. নিন্দুক, ৩৯. পরকীয়া, ৪০. পরবর্তী, ৪১. পর্যাপ্ত, ৪২. পূর্বাহ্ণ, ৪৩. প্রস্তাবনা, ৪৪. প্রেক্ষিত, ৪৫. ফলশ্রুতি, ৪৬. বাধ্যগত, ৪৭. ব্যক্তিত্ব, ৪৮. মৌন, ৪৯. রুচিমান, ৫০. লজ্জাকর, ৫১. শ্রদ্ধাঞ্জলি, ৫২. সংশোধন, ৫৩. সখ্য, ৫৪. সঠিক, ৫৫. সময়, ৫৬. সমৃদ্ধ, ৫৭. সর্বোচ্চ, ৫৮. সহজিয়া, ৫৯. সহসা, ৬০. সাথে, ৬১. সামান্য, ৬২. স্বৈরাচার, ৬৩. হতে।

বস্তুত আমার অভিধান একটি প্রয়োগ-অভিধান। অভিধানকার তাঁর সারা জীবনের অর্জিত জ্ঞানের আলোকে গ্রন্থধৃত শব্দগুলোর যথার্থ প্রয়োগ ও শুদ্ধ বানান নির্দেশ করেছেন। তাঁর সহজ, স্বচ্ছন্দ ভাষার মাধ্যমে তিনি তা সম্পন্ন করেছেন। সাজ্জাদ শরিফ লিখেছেন, 'শব্দের সংযত ও অমোঘ ব্যবহার আনিসুজ্জামানের গদ্যের অনন্য বৈশিষ্ট্য।' আনিসুজ্জামানের রচনারীতির সঙ্গে পরিচিত পাঠক মাত্রই একথা কবুল করবেন। আমার অভিধান-এ লিপিবদ্ধ আনিসুজ্জামানের ভাষাচিন্তার সঙ্গে বিশেষ দ্বিমত পোষণের অবকাশ নেই। এ অভিধানের একটি জায়গায় সম্পাদনা-বিভ্রাট হয়েছে। 'উপজাতি' শীর্ষক ভুক্তিতে ছাপা হয়েছে: 'সেটি indigenous people-এর শব্দের প্রতিশব্দ।' সম্ভবত বাক্যটি হবে: 'সেটি indigenous people-এর প্রতিশব্দ' অথবা 'সেটি indigenous people শব্দের প্রতিশব্দ'। আশা করি, এ ছোট, উপকারী অভিধানটি বাংলা ভাষার লেখক-পাঠকদের সমাদর লাভ করবে। অভিধান থেকে দুটো ভুক্তি উদ্ধৃত করছি আমরা: শ্রদ্ধাঞ্জলি: অঞ্জলি বানানটা খেয়াল করুন। তাহলে গীতাঞ্জলি বা শ্রদ্ধাঞ্জলি লিখতে ভুল হবে না। শ্রদ্ধাঞ্জলী লিখলে বেশি শ্রদ্ধা প্রকাশ পায় না, যা প্রকাশ পায় তা অজ্ঞতা। সমৃদ্ধ: সম্পদশালী। সমৃদ্ধ পরিবার, সমৃদ্ধ নগর, সমৃদ্ধ দেশ। সুতরাং যারা সমৃদ্ধশালী বলেন, তারা সাবধান। শালীর প্রতি অত টান টানলে বলতে হবে সমৃদ্ধিশালী।

মহামানবের সাগরতীরে

মহামানবের সাগরতীরে বিভিন্ন বিষয়ে লেখা ২৬টি রচনার সংকলন। বিষয়ের বিন্যাস অনুসারে রচনাগুলোকে চার ভাগে সাজানো হয়েছে---ইতিহাস ও রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, শিল্পসাহিত্য ও স্মৃতি। 'ইতিহাস ও রাজনীতি' ভাগে ১২টি, 'সমাজ ও সংস্কৃতি' ভাগে ৭টি, 'শিল্পসাহিত্য' ভাগে ৪টি এবং 'স্মৃতি' ভাগে ৩টি রচনা গ্রন্থিত হয়েছে। সাজ্জাদ শরিফ এ বইয়েরও একটি ভূমিকা লিখেছেন। 'ভূমিকা'য় তিনি বলেছেন: 'প্রথম আলোতে আমরা আনন্দের সঙ্গে আনিসুজ্জামানের লেখা ছেপেছি। 

তার আগে ভোরের কাগজ পত্রিকাটিতেও। এই দুই দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর অজস্র লেখা থেকে বাছাই করে এ বইয়ের পাণ্ডুলিপি তৈরি করা হলো। এ বইয়ের কিছু লেখা তাঁর অন্য কোনো কোনো বইয়েও আছে। আমরা সেসব বাদ দিইনি। কারণ, এ বই আনিসুজ্জামানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের একটি স্মারক, তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য।' মহামানবের সাগরতীরে বইটির নামকরণ লেখকের স্বকৃত নয়। সাজ্জাদ শরিফের কৈফিয়ত: 'আনিসুজ্জামান শারীরিকভাবে গত হয়েছেন। সে কারণে এ বইটির নাম আমাদেরই রাখতে হলো।

নামটি আমরা রাখলাম তার অন্যতম প্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা থেকে।' সংকলিত রচনাগুলোতে আনিসুজ্জামানের ইতিহাসচেতনা, সমাজভাবনা, রাষ্ট্রচিন্তা ও জীবনদর্শন প্রতিফলিত হয়েছে। তার প্রজ্ঞা ও মননশীলতায় দীপিত এসব রচনা। অনেক আগে একজন সমালোচক লিখেছিলেন, 'সারল্যের সঙ্গে তারল্যের যে কোনো সম্পর্ক নেই, তার প্রমাণ দিয়েছে আনিসুজ্জামানের রচনা।' সাজ্জাদ শরিফ যথার্থই বলেছেন, 'তার অনাড়ম্বর সংযত গদ্যের একটি আলাদা স্বাদ ছিল। লেখায় বক্তব্যের স্পষ্টতা ছিল তাঁর কাছে মুখ্য---কেউ তাঁর সঙ্গে একমত হোক বা না হোক।'

মহামানবের সাগরতীরে সংকলনগ্রন্থটি সুমুদ্রিত। এতে মুদ্রণপ্রমাদ নেই বললেই চলে। তবে কয়েকটি স্থানে সম্পাদনার খামতি চোখে পড়ে। যেমন: সংকলনের প্রথম রচনা 'পঞ্চাশ বছরের অবিরাম স্বপ্ন'-এর দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের একটি বাক্য: 'তবে দুবারই শর্ত ছিল, কুড়ি বছর পর তার প্রয়োগ হবে বাস্তবে- অন্তর্বর্তী সময়টা হবে প্রস্তুতির কাল।' (পৃ. ১১) উদ্ধৃত বাক্যটিতে সম্ভবত হাইফেন-এর পরিবর্তে ড্যাশ হবে। 'মুক্তিযুদ্ধে এক স্বপ্ন ধর্মনিরপেক্ষতা' নামক রচনার এক জায়গায় ছাপা হয়েছে: 'এটাই যে তাঁর করণীয়, তা তিনি নিজেই জানেন ভালো করে, তবে প্রতিপক্ষের অপ্রচারে ভীত হয়ে যা করণীয় তা তিনি প্রচার করতে পারেন না।' (পৃ. ৩০) প্রতিপক্ষের 'অপ্রচারে' নয়, 'অপপ্রচারে' হবে। 
পরের বাক্যেই তো আমরা পাই--'ভয় যে শুধু অপপ্রচারের, তা নয়। লোকে কী বলবে, তারও ভয়।' 'উনিশ শতকের শিক্ষিত বাঙালির দৃষ্টিতে নারী' নামক প্রবন্ধের শেষ অনুচ্ছেদে ছাপা হয়েছে: 'এমনকি শতাব্দীর শেষে মীর মশাররফ হোসেন গাজী মিয়ার বস্তানী (১৮১৯) লিখলেন বেগম রোকেয়ার বড় বোন করিমুন্নেসা চৌধুরীকে কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে'। (পৃ. ১২৪) প্রকৃতপক্ষে গাজী মিয়ার বস্তানীর প্রকাশকাল ১৮৯৯। '১৯৭১-এর স্মৃতি' শীর্ষক লেখার তৃতীয় অনুচ্ছেদের শুরুর বাক্যটি: 'সে মাসের মাঝামাঝি কলকাতায় এলাম।' (পৃ. ১৬০) 'সে মাসের' নয়, 'মে মাসের' হবে। স্মরণ করা যেতে পারে, আনিসুজ্জামানের আমার একাত্তর (ঢাকা: সাহিত্য প্রকাশ, ১৯৯৭) বইয়ের ৮-সংখ্যক অধ্যায়ের শেষ বাক্যটি: '১৫ মে সকালে আগরতলা থেকে রওনা হয়ে গৌহাটিতে যাত্রাবিরতি করে আমরা কলকাতায় এসে যখন পৌঁছোলাম, সূর্য তখন অস্তগামী।' '১৫ মে' তো 'মে মাসের মাঝামাঝি'ই হওয়ার কথা। 

স্মৃতির মানুষ

স্মৃতির মানুষ বাংলাদেশের সাহিত্য-শিল্পকলার, সমাজ-রাষ্ট্রের বিশ স্বনামখ্যাত মানুষ সম্পর্কে স্মৃতিচারণামূলক রচনার সংকলন। 
যাঁদের স্মৃতি চারণ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন: আবু জাফর শামসুদ্দীন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবুসাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মহিউদ্দীন আহমদ, মুনীর চৌধুরী, শামসুর রাহমান, আলতাফ মাহমুদ, মণি সিংহ, কামাল হোসেন, সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, নিতুন কুণ্ডু, হুমায়ূন আহমেদ, নূরুল কাদের খান, খান সারওয়ার মুরশিদ, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, সরদার ফজলুল করিম, কাইয়ুম চৌধুরী, তপন রায়চৌধুরী, জাহাঙ্গীর তারেক ও কামালউদ্দীন খান। সাজ্জাদ শরিফ 'বাংলার মুখ' শিরোনামে এ বইয়ের ভূমিকা রচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, 'তার [আনিসুজ্জামানের] বহু ধরনের লেখা যে আমরা ভোরের কাগজপ্রথম আলোতে প্রকাশ করতে পেরেছি, এ আমাদের অশেষ আনন্দ ও সৌভাগ্য। ব্যক্তির স্মৃতিধর্মী লেখার পরিমাণও তার মধ্যে কম নয়। এ বইটি সেসব লেখার একটি সংকলন।'

সংকলনভুক্ত ২০টি লেখার মধ্যে আবু জাফর শামসুদ্দীন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবুসাদাত মোহাম্মদ সায়েম ও মহিউদ্দীন আহমদ সম্পর্কিত রচনা চারটি প্রকাশিত হয়েছিল ভোরের কাগজ পত্রিকায়; বাকি লেখাগুলো ছাপা হয়েছিল প্রথম আলোতে। মূলত এসব লেখা আলোচিত ব্যক্তিদের মৃত্যুর পর তাঁদের স্মৃতির স্মরণে রচিত। কবি শামসুর রাহমান ও ড. কামাল হোসেন সম্পর্কিত লেখাদুটো তাদের জীবদ্দশায় জন্মদিনের শুভেচ্ছা-জ্ঞাপক রচনা। সাজ্জাদ শরিফ লিখেছেন: 'বইটির কোনো কোনো লেখা আনিসুজ্জামানের অন্য বইয়েও থাকার সম্ভাবনা আছে। তবু এ বই আমরা করছি তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ইতিবৃত্ত একটি তোড়ায় পাঠকের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে।' প্রসঙ্গত, 'আবু জাফর শামসুদ্দীন' ও 'আখতারুজ্জামান ইলিয়াস' নামধেয় লেখাদুটো আনিসুজ্জামানের আমার চোখে (ঢাকা: অন্যপ্রকাশ, ১৯৯৯) এবং স্মরণ ও বরণ (ঢাকা: চন্দ্রাবতী একাডেমি, ২০১৮) বইয়ে ইতিপূর্বে সংকলিত হয়েছে। 

আনিসুজ্জামানের যেকোনো স্মৃতিচারণাধর্মী লেখার মতো এ সংকলনগ্রন্থের লেখাগুলোও সুখপাঠ্য। বাংলাদেশের ২০ কীর্তিমানের জীবনের খণ্ডচিত্র আঁকা হয়েছে এসব রচনায়। ব্যক্তির জীবনালেখ্য ও স্মৃতিধর্মী এমন আরও লেখা পাওয়া যায় আনিসুজ্জামানের আমার চোখে (১৯৯৯), পূর্বগামী (২০০০), চেনা মানুষের মুখ (২০১৩), সংস্কৃতি ও সংস্কৃতি-সাধক (২০১৩) এবং স্মরণ ও বরণ (২০১৮) বইয়ে। স্মৃতির মানুষ সুসম্পাদিত বই।

তবে কিছু ক্ষেত্রে চোখে পড়ে অমনোযোগ। যেমন: 'আখতারুজ্জামান ইলিয়াস' নামক রচনার এক জায়গায় ছাপা হয়েছে: 'সর্বশেষ বের হলো আনন্দ পুরস্কারপ্রাপ্ত-- নন্দিত খোয়াবনামা (১৯৯৬)।' কিন্তু আমার চোখে বইয়ে ছাপা বাক্যটি এরকম: 'সর্বশেষ বের হলো আনন্দ পুরস্কার-নন্দিত "খোয়াবনামা" (১৯৯৬)।' স্মরণ ও বরণ গ্রন্থে মুদ্রিত বাক্য: 'সর্বশেষ বের হলো আনন্দ পুরস্কার-নন্দিত খোয়াবনামা (১৯৯৬)।' 'জাহাঙ্গীর তারেক' শীর্ষক রচনায় আনিসুজ্জামান লিখেছেন: 'জাহাঙ্গীরের জন্ম ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন, বরিশালে।' কিন্তু রচনাটির শিরোনামের নিচে জাহাঙ্গীর তারেকের জীবৎকাল মুদ্রিত হয়েছে: ১ জানুয়ারি ১৯৪৩--২৯ জুন ২০১০।

আমার অভিধান, মহামানবের সাগরতীরে ও স্মৃতির মানুষ আনিসুজ্জামানের বিদ্যাবত্তা ও কর্মিষ্ঠতার স্বাক্ষরবাহী গ্রন্থ। আমাদের লেখালেখি ও মননচর্চায় বইগুলো সহায়ক হবে।

Comments

The Daily Star  | English

Rain drenches Dhaka amid heatwave

The city dwellers got some relief after rain drenched Dhaka amid ongoing heatwave across the country today

24m ago