সম্পাদকের দপ্তর থেকে

স্বকীয়তা না এলে হারিয়ে যেতে হবে

বছর ঘুরে আবার আসছে ঈদ। বেচা-বিক্রির ডামাডোল পড়ে গেছে বিপণি বিতানগুলোতে, বিশেষ করে পোশাকের দোকানে। ঈদকে কেন্দ্র করে তাদের রয়েছে নানা আয়োজন। বাংলাদেশে এই দুই ঈদকে কেন্দ্র করেই মূলত সারা বছরের পোশাকের ব্যবসার মূল মুনাফা চলে আসছে দীর্ঘ সময় ধরে। যদিও বর্তমান সময়ে পূজা, নববর্ষসহ আরো অনেক উৎসবকে কেন্দ্র করেও পোশাকের বাজার গরম হয় কিন্তু তা এই ঈদের মতো নয়।

বছর ঘুরে আবার আসছে ঈদ। বেচা-বিক্রির ডামাডোল পড়ে গেছে বিপণি বিতানগুলোতে, বিশেষ করে পোশাকের দোকানে। ঈদকে কেন্দ্র করে তাদের রয়েছে নানা আয়োজন। বাংলাদেশে এই দুই ঈদকে কেন্দ্র করেই মূলত সারা বছরের পোশাকের ব্যবসার মূল মুনাফা চলে আসছে দীর্ঘ সময় ধরে। যদিও বর্তমান সময়ে পূজা, নববর্ষসহ আরো অনেক উৎসবকে কেন্দ্র করেও পোশাকের বাজার গরম হয় কিন্তু তা এই ঈদের মতো নয়। একটি বিষয় অবশ্য চোখে পড়ার মতো তা হলোÑ দেশের সব মিডিয়াই দেশি ফ্যাশন হাউসগুলোকে সবরকম সহযোগিতা করে আসছে। এ কারণেই হয়তো দেশি ফ্যাশন হাউসগুলো এত ভালো অবস্থানে আসতে পেরেছে। এদের দেখাদেখি অনেক নতুন হাউসও আসছে নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক নিয়ে। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে সেই অর্থে ফ্যাশন ডিজাইনার তৈরি হয়নি। যেটা হওয়াটা খুবই দরকার ছিল। হাতেগোনা কিছু হাউস ছাড়া বাকিদের পোশাক যদি আমি ট্যাগ খুলে একসঙ্গে রেখে দেই, তাহলে কেউ আলাদা করে বলতে পারবে না কোনটা কোন হাউসের। তাদের কারোরই ডিজাইনে স্বকীয়তা নেই। আরেকটা ভয়ানক বিষয় হচ্ছে আগে আমরা ভাবতাম, দেশি পোশাকের দাম কম, কিন্তু এখন তা আর সত্য নয়। সবমিলিয়ে পোশাক ব্যবসায়ীদের জন্য এখনই সময় নিজেদের ডিজাইনারের মাধ্যমে স্বকীয়তা তৈরি করা। মানুষ এখন পোশাকের ব্যাপারে যতটা সচেতন হচ্ছে, তাতে স্বকীয়তা না এলে এত বেশি হাউসের ভিড়ে হারিয়ে যেতে হবে সবাইকেই এবং নিজস্ব ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি হবে না কখনো।
এই ভিড়ের মাঝেও যারা একটা স্বতন্ত্র অবস্থানে আসতে পেরেছে, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে নিয়ে আমাদের এই আয়োজন। এদের মধ্যে প্রথমেই বলব টাঙ্গাইল শাড়ী কুটিরের কথা। টাঙ্গাইল শাড়ীকে সুধী সমাজে তুলে আনা থেকে শুরু করে এবং এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি ও বর্তমান অবস্থানে তুলে আনার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব মনিরা ইমদাদের। আমরা কেউই আসলে চিরদিন স্থায়ী হব না, কিন্তু তার মধ্যেও যতদিন সম্ভব নিজের অবস্থান ধরে রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতেই হয়। টাঙ্গাইল শাড়ী কুটির যদি তার এই অবস্থান ধরে রাখতে চায়, তাহলে তাদেরও নিজস্ব ডিজাইনারের মাধ্যমে স্বকীয়তা তৈরি করে নিতে হবে। আমি নিশ্চিত, মনিরা আপা এটা নিয়ে ভাবছেন এবং তিনি সেটা করবেনও আমাদের বিশ্বাস।
ছাপা শাড়ির অনেক প্রতিযোগিতার মধ্যে এসেও প্রাইড তাদের আধুনিক ব্যতিক্রমী উপস্থাপনার জন্য হোক বা বিজ্ঞাপনের বৈচিত্র্যের জন্য হোক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজে আলোড়ন তুলেছিল। এর কারণ ছিল তাদের উপস্থাপনা, নজরকাড়া ডিজাইন এবং মূল্য সাধারণ ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকা। এই তিনটি কারণে তারা তাদের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পেরেছে এবং এখন শাড়ি ছাড়াও আরো অনেক পোশাক তৈরি করছে।
বাংলাদেশে যে ক’টা বুটিক হাউস প্রথমদিকে ব্যবসা শুরু করেছিল, তাদের মধ্যে অঞ্জন’স অন্যতম। অঞ্জন’স শুরু থেকে এখন পর্যন্ত একটি অবস্থান তৈরি করে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। তারা শুধু পোশাকের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে বিছানার চাদর, পর্দাসহ আরো অনেক কিছু তৈরি করছে। এর পাশাপাশি তারা একটি গয়নার ব্র্যান্ডও দাঁড় করিয়েছে। তাদের এই নতুনত্ব সবসময়ই আকৃষ্ট করে আসছে সাধারণ ক্রেতাদের।
রঙ বাংলাদেশ-এর উত্থান খুব দ্রুত। তারা অনেক কম সময়ে অনেক বেশি আউটলেট করেছে এবং আরো নতুন নতুন আউটলেট করে যাচ্ছে। তাদের নাম থেকেই বুঝতে পারছেন, তারা রঙ নিয়ে খেলা করতে পছন্দ করে। প্রথমদিকে তাদের পোশাক অনেক কম দামেই ছিল। যদিও এখন তা নেই। তবুও ছোট্ট থেকে শুরু করে এখন এত বড় একটা ব্র্যান্ড হিসেবে রঙ বাংলাদেশের টিকে থাকার পেছনে সৌমিকের ধৈর্য অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে।
এই হাউসগুলো সামনে আরো বড় হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। আমাদের এই সংখ্যায় এই চারটি হাউস নিয়ে লিখলাম বলে যে, আর কেউ ভালো করছে না, তা নয়। আরো অনেকেই ভালো করছে। আমাদের স্পটলাইটে এবারের আয়োজন এই চারজনকে নিয়ে। আগামীতে আমরা ব্যাপকভাবে আলাদা একটি বিশেষ ফ্যাশন সংখ্যা করতে চাই। শুনতে খারাপ শোনালেও মডেল আসলে হ্যাঙ্গারের থেকে বেশি কিছু না। সারা পৃথিবীতেই একজন সেলিব্রিটি, সে যে অঙ্গনেরই হোক, যে স্টাইল করে সবাই তাকেই অনুসরণ করে। সেটা পোশাকে হোক আর চুলের স্টাইলে। আমরা আগামী ফ্যাশন সংখ্যায় এমন সেলিব্রিটিদের দিয়েই ফটোশ্যুট করব। আর ফ্যাশন হাউসগুলোকেও বলব, আপনারা আপনাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কোনো সেলিব্রিটিকে বেছে নিন। এতে উভয়পক্ষই উপকৃত হবেন। আমাদের দেশে যে কারণেই হোক এই সংযোগটা নেই, যা আসলেই অনেক দরকার।
সবাই ভালো থাকবেন, সুন্দর থাকবেন, বর্ণিলভাবে উদযাপন করুন আপনার ঈদ।

Comments

The Daily Star  | English
remittances received in February

Remittance hits eight-month high

In February, migrants sent home $2.16 billion, up 39% year-on-year

3h ago