জমকালো ফ্যাশনে উৎসবের আনন্দ

নাচের আবেশ তখনো কাটেনি। নাচটা ছিল ‘আকাশভরা সূর্য-তারা’ গানের সঙ্গে। এর রেশ না কাটতেই আবহ সংগীতে আবার রবীন্দ্রসুর—‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে’। আলো ঝলমলে মঞ্চে দ্যুতি ছড়িয়ে এলেন এক দল মডেল। পরনে শাড়ি। রঙিন পোশাকে ছড়িয়ে দিলেন উৎসবের বারতা। হ্যাঁ, কড়া নাড়ছে ঈদ।

নাচের আবেশ তখনো কাটেনি। নাচটা ছিল ‘আকাশভরা সূর্য-তারা’ গানের সঙ্গে। এর রেশ না কাটতেই আবহ সংগীতে আবার রবীন্দ্রসুর—‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে’। আলো ঝলমলে মঞ্চে দ্যুতি ছড়িয়ে এলেন এক দল মডেল। পরনে শাড়ি। রঙিন পোশাকে ছড়িয়ে দিলেন উৎসবের বারতা। হ্যাঁ, কড়া নাড়ছে ঈদ।
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড-প্রথম আলো ঈদ ফ্যাশন প্রতিযোগিতা ২০১৬-এর চূড়ান্ত পর্বের ফ্যাশন শো ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল উপভোগ্য। ৪ জুন প্রথম আলোর উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরের হল টোয়েন্টি ফোরে বসে এই আয়োজনের ১৮তম আসর। মডেলদের র্যা ম্প মাতানো ক্যাটওয়াকের পাশাপাশি ছিল গান-নাচ আর নানা চমক। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠান চলে রাত ১০টা পর্যন্ত।


উপস্থাপক ইমতু শুরুতেই বলেছিলেন, ব্যাপক চমকে ঠাসা অনুষ্ঠান। দর্শকেরাও নড়েচড়ে বসেন। প্রথম চমক অনুষ্ঠানের ঘণ্টা খানেক যেতেই। বলা নেই, কওয়া নেই মঞ্চে হাজির চিত্রনায়ক ফেরদৌস। হঠাৎ বৃষ্টির মতোই ফেরদৌস এসে আনন্দে বৃষ্টি ঝরান দর্শকদের মধ্যে। হাঁটেন র্যা ম্পে। শুভেচ্ছা জানিয়ে আবার বিদায় নেন।
উৎসবে মেয়েদের প্রধান পোশাক শাড়ি দিয়ে শুরু হয় ফ্যাশন শো। শাড়িতে এবার ভারী কাজ চোখে পড়েনি। হালকা কাজে ডিজাইনে নতুনত্ব আনার চেষ্টা ছিল ডিজাইনারদের। কিছু শাড়িতে ছিল জীবনানন্দ দাশ ও কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার ক্যালিগ্রাফি। আবার সালোয়ার-কামিজে পাশ্চাত্য ঘরানার গাউন ছিল নজরকাড়া। এ ছাড়া একে একে নয়টি কিউতে প্রদর্শিত হয় পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, ফিউশন ও শিশুদের পোশাক। বরাবরের মতো এবারও বেশ উপভোগ্য হয়ে ওঠে শিশুদের কিউটি। ‘ভালো করিয়া বাজাও গো দোতারা, সুন্দরী কমলা নাচে’ এই গানের সঙ্গে পেশাদার মডেলদের ভঙ্গিতে ক্যাটওয়াক করেছিল শিশুরা। একে একে যখন নয় শিশু মডেল মঞ্চে প্রবেশ করছিল, তখন তুমুল করতালিতে ফেটে পড়ে মিলনায়তন।


ক্যাটওয়াকের ফাঁকে গান করেন পাওয়ার ভয়েজের শিল্পী আনিকা। বাজনার বাহুল্য ছাড়াই আসর জমালেন তিনি। তাঁর সাবলীল গায়কিও মুগ্ধ করেছে দর্শকদের। ‘নিটোল পায়ে রিনিক ঝিনিক’ কিংবা ‘আমায় ডেকো না’ যখন গাইছিলেন তিনি, তখন দর্শকেরাও গলা মিলিয়েছিল তাঁর সঙ্গে।
এত কিছুর সঙ্গে ঘড়ির কাঁটাও ঘুরেছে সমান তালে। কখন যে নয়টার ঘরে চলে এসেছে কেউ টের পাননি। দর্শকদের ইতিউতি। তাঁরা কোথায়? অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মঞ্চে উঠে এলেন সংগীতশিল্পী পার্থ বড়ুয়া ও অভিনয়শিল্পী অপর্ণা। এসেই দুজনের মধ্যে শুরু হলো খুনসুটি। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় করা সেই খুনসুটিতে বেশ আনন্দ পান দর্শকেরা। এরপর দুজনের আবার ভাব-দ্বৈত কণ্ঠে গেয়ে শোনান ‘মধু হই হই বিষ হাওয়াইলা’। এবার পার্থ হাতে নেন গিটার। গেয়ে শোনান শ্রোতাদের প্রিয় সেই গান—‘কেন এই নিঃসঙ্গতা’।


সব তো হলো, বাকি রইল আসল কাজ। ফলাফল ঘোষণা। মঞ্চে এলেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী। তিনি মঞ্চে ডকে নেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীলিপ কুমার আগরওয়ালা, সহপৃষ্ঠপোষক রিজেন্ট এয়ারওয়েজের বিপণন প্রধান আনিসুল আলম চৌধুরী ও হোটেল কক্স টুডের সহকারী ব্যবস্থাপক (বিপণন) সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরীকে।
অতিথিরা বিজয়ী ডিজাইনারদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। এবার ১২টি বিভাগে ৩৯ জন ডিজাইনার পুরস্কার জেতেন। ১১টি পুরস্কার পেয়ে সেরাদের সেরা হন জোবাইদা আশরাফ। তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন অভিনয়শিল্পী অপর্ণা।

Comments

The Daily Star  | English
hostility against female students

The never-ending hostility against female students

What was intended to be a sanctuary for empowerment has morphed into a harrowing ordeal for many female students

17h ago