সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে সব ধরনের মাংসের দাম

নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১৫ মার্চ ব্রয়লার মুরগি, গরুর মাংস, খাসির মাংস, আলুসহ ২৯টি পণ্যের খুচরা দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকারের সরকারের কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এখনও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামেই পণ্য বিক্রি করছে।
স্টার ফাইল ফটো

রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের মাংসের দাম বেড়েছে।

সরেজমিনে কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২১০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ১০ দিন আগেও ২০০-২১০ টাকা ছিল।

একইসঙ্গে বাজারে অন্য সব ধরনের মুরগির দামও বেড়েছে। সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হতো।

অন্যদিকে, এক সপ্তাহ আগে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ টাকায়।

পশ্চিম শেওড়াপাড়া বাজারের গরুর মাংস বিক্রেতা মো. বশির মিয়া জানান, সপ্তাহের ব্যবধানে গরুর দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে।

'যারা গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি করেন তারা গরুর মাংস পানিতে ভিজিয়ে ওজন বাড়িয়ে দেন। আমি সেটা করি না। সেজন্য আমি ৭৮০ টাকার কমে বিক্রি করতে পারি না,' বলেন তিনি।

পাশাপাশি আলুর দামও কিছুটা বেড়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়, যা তিন দিন আগেও ৪০ টাকা ছিল।

এছাড়া কলার দামও বেড়েছে প্রতি ডজনে ১০ থেকে ২০ টাকা।

নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১৫ মার্চ ব্রয়লার মুরগি, গরুর মাংস, খাসির মাংস, আলুসহ ২৯টি পণ্যের খুচরা দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকারের সরকারের কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এখনও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামেই পণ্য বিক্রি করছে।

গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর সরকার ডিম, পেঁয়াজ ও আলুর দাম নির্ধারণ করলেও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অভিযানেও তা কার্যকর করা যায়নি।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়তে থাকায় সীমিত ও নিম্ন আয়ের পরিবারের লোকজন হিমশিম খাচ্ছেন।

কারওয়ান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে এসেছিলেন বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের একটি কাপড়ের দোকানের কর্মচারী আজহার মাহমুদ। তিনি বলেন, 'আমি ব্রয়লার মুরগি কিনতে এসেছিলান। একমাত্র এটাই আমার সাধ্যের মধ্যে ছিল। সরকার দাম নির্ধারণ করেছে প্রতি কেজি ১৭৫ টাকা। কিন্তু আমি এখানকার কোনো দোকানেই ২৩০ টাকার নিচে মাংস পাচ্ছি না।'

'সরকার যদি কার্যকরই করতে না পারে তাহলে কেন পণ্যের দাম নির্ধারণ করে?,' ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন তিনি।

বীমা কোম্পানির কর্মকর্তা রশিদ মিলন বলেন, 'গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কম। কিন্তু মসুর ডাল, ডিম ও মাংসের বাড়তি দামের কারণে বাজারে স্বস্তি নেই।'

Comments