যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি
আবারও নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা নয় দিন ধরে এই হামলা চলছে। জবাবে ইরানও বসে নেই। সরাসরি মার্কিন ভূখণ্ডে পাল্টা হামলা না চালালেও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান।
তেহরানের হামলার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডান। পাশাপাশি সৌদি আরব, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হয়েছে হামলা। সম্প্রতি সিরিয়ার বিরুদ্ধেও ইরানি হামলার খবর মিলেছে।
এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো ও সেনার অবস্থান রয়েছে।
যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে ঠিক কোন পর্যায়ে হামলা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরতে চায় ইরান, সেটার ইঙ্গিত মিলেছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বার্তা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম ইরনার কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পারলেই কেবল হামলা বন্ধের বিষয়টি বিবেচনায় নেবে ইরান।’
তিনি আরও জানান, যেকোনো সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো সহিংসতা বন্ধ করে আলোচনা শুরুর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মুহূর্তটি চিহ্নিত করা।
‘সংঘাতের অবসান দুইভাবে হতে পারে—যুদ্ধক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন অথবা দরকষাকষির মাধ্যমে। যখন আপনি যুদ্ধক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও দৃশ্যমান কৌশলগত সুবিধা আদায় করে নিতে পারবেন, কেবল তখনই আলোচনা শুরুর উপযুক্ত সময় সামনে আসে’, যোগ করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি আরও বলেন, ‘আপনি দেশ ও দেশের মানুষের জীবন ও নিয়তি নিয়ে ঝুঁকি নিতে পারেন না। এসব ক্ষেত্রে নিখুঁত ও পরিপূর্ণ নিরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, রাজনীতিবিদদের সারাক্ষণই এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়। যুদ্ধ চালিয়ে গেলে আদৌ কোনো কিছু অর্জিত হবে কি না, সেটা নিয়ে ভাবতে হয়। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার খরচের বিপরীতে প্রকৃত অর্জন ও দেশের মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি তুলনা করে দেখতে হয়।
‘কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও আমরা এই যুদ্ধে একটি সমীহ জাগানিয়া আন্তর্জাতিক পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি এবং আমাদের সার্বিক ব্যবস্থাপনার শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছি’, দাবি করেন আরাঘচি।
