আন্তর্জাতিক

মিয়ানমারে ৪ দিনে আরও কয়েকটি সেনা ঘাঁটি বিদ্রোহীদের দখলে

প্রতিবেদন অনুসারে, টানা তিন দিন লড়াইয়ের পর গত সোমবার আরাকান আর্মির সদস্যরা কাচিন রাজ্যে মানদালায়-মিটকিনিয়া সড়কে সেনাবাহিনীর একটি কৌশলগত ঘাঁটি অবরোধ করে।
মিয়ানমারে সেনাদের ওপর হামলা
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুতে আরাকান আর্মির হাতে জব্দ সেনাবাহিনীর গোলাবারুদ। ছবি: আরাকার আর্মি/ দ্য ইরাবতী

মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী ও জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলো গত চারদিনে দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে সেনাবাহিনীর কাছ থেকে আরও কয়েকটি ঘাঁটি দখলে দাবি করেছে।

গতকাল বুধবার মিয়ানমারের থাইল্যান্ডভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়—এসবের মধ্যে আছে কাচিন, রাখাইন ও মন রাজ্য এবং সাগাইং ও বাগো অঞ্চল।

দ্য ইরাবতী এসব অভিযান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদেন বলা হয়, তবে সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

মিয়ানমারে সেনাদের ওপর হামলা
মন রাজ্যে সেনাবিরোধী অভিযানে ইয়ে গেরিলা ফোর্স। ছবি: ইয়ে গেরিলা ফোর্স/ দ্য ইরাবতী

প্রতিবেদন অনুসারে, টানা তিন দিন লড়াইয়ের পর গত সোমবার আরাকান আর্মির সদস্যরা কাচিন রাজ্যে মানদালায়-মিটকিনিয়া সড়কে সেনাবাহিনীর একটি কৌশলগত ঘাঁটি অবরোধ করে।

মানসি শহরের সিখাংগি গ্রামে সেই ঘাঁটিতে কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি ও কাচিন রিজন পিপলস ডিফেন্স ফোর্সও একই সঙ্গে হামলা চালায়।

প্রায় ৩০ বছর পুরোনা সেই ঘাঁটিতে সেনাদের দুই পদাতিক বাহিনী অবস্থান করছিল।

সশস্ত্র সংগঠনগুলোর বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়—ঘাঁটিটি রক্ষায় সেনারা ৬০ বারের বেশি বিমান হামলা চালায়। সেই হামলায় ছয় বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও আরও ১৫ জন আহত হন।

মিয়ানমারে সেনাদের ওপর হামলা
মিয়ানমারের বাগো অঞ্চলে সেনাবিরোধী সশস্ত্র সংগঠন রেড স্কার্ফ কলাম। ছবি: রেড স্কার্ফ কলাম/ দ্য ইরাবতী

এ ছাড়াও, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরে আরাকান আর্মির হাতে আরেকটি সেনাঘাঁটির পতন হয়েছে বলে বিদ্রোহীদের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় আরাকান আর্মির সদস্যরা মংডু শহরের ডি ইয়ুন তাউং গ্রামে সেনাঘাঁটিটিতে হামলা চালায়। তারা ঘাঁটিটি প্রায় ৯ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে।

সংঘর্ষের সময় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গ্রামটির আশেপাশে তিনবার বিমান হামলা চালায়।

আরাকার আর্মি সংবাদমাধ্যমটিকে জানায়, তারা বিপুল সংখক গোলাবারুদ দখলে নিয়েছে। সেখানে ১০ সেনার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। আশেপাশের জঙ্গলে পালিয়ে যাওয়া সেনাদের খোঁজা হচ্ছে।

মিয়ানমারে সেনাদের ওপর হামলা
ইয়াংওন পিপলস ডিফেন্স ফোর্স ব্যাটেলিয়নের সামরিক প্রশিক্ষণ। ছবি: ইয়াংওন মিলিটারি কমান্ড/ দ্য ইরাবতী

সিত্তে, পোনাকিউন, রাথেডং, রামরি, কিয়াউকফিউ ও আন শহরে বেসামরিক এলাকায় সেনাবাহিনী কামান ও বিমান হামলা চালাচ্ছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

এ ছাড়াও, ইয়ে গেরিলা ফোর্সের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবার মন রাজ্যের ইয়ে শহরে মিলিটারি অপারেশন কমান্ড সেন্টারে গেরিলা ফোর্সের সদস্যরা ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

একই দিনে মিয়ানমারের ভারত সীমান্তবর্তী উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় সাগাইং অঞ্চলে সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র সংগঠনগুলো।

এর আগে গত শনিবার মিয়ানমারের থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী দক্ষিণে বাগো অঞ্চলে সেনাদের ওপর হামলা চালায় সশস্ত্র বিদ্রোহীরা।

Comments