হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’ কীভাবে ছড়ায়, সহজেই ঝুঁকি এড়াবেন যেভাবে
রাস্তার পাশের দোকানের এক প্লেট ফুচকা, স্ট্রিট কার্টের এক গ্লাস তাজা জুস কিংবা অপরিষ্কার পানি দিয়ে প্রস্তুত যেকোনো খাবার সাদা চোখে ক্ষতিহীন মনে হতে পারে। তবে এই দৈনন্দিন পছন্দের খাবারগুলো কখনো কখনো এমন রোগ বয়ে আনতে পারে, যা নীরবে শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর মধ্যে রয়েছে হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং হেপাটাইটিস ‘ই’—এই দুটির সংক্রমণ। প্রতি বছর বাংলাদেশে হাজারো মানুষ এতে সংক্রমিত হচ্ছে।
এই দুটো রোগই খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। যেসব জায়গায় সঠিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখনো চ্যালেঞ্জ, সেখানেই সাধারণত এই দুই রোগের সংক্রমণ বেশি ছড়ায়। বন্যা, জলাবদ্ধতা ও দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এই ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে।
যদিও এই দুই রোগই একইভাবে সংক্রমণ ছড়ায়, তবে সবার ওপর একইভাবে প্রভাব ফেলে না। হেপাটাইটিস ‘এ’ শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং সাধারণত অপেক্ষাকৃত হালকা অসুস্থতা সৃষ্টি করে। তবে হেপাটাইটিস ‘ই’ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
একবার এই ভাইরাসগুলো শরীরে প্রবেশ করতে পারলে তা যকৃতে পৌঁছে যায়। সেখানে পৌঁছে যকৃতের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন ক্ষমতায় ব্যাঘাত ঘটায়। এর ফলে জ্বর, বমিভাব, ক্লান্তি, পেটের অস্বস্তি এবং চোখ বা ত্বকে হলদেটে ভাব আসতে পারে। গুরুতর অসুস্থতা জীবন-হানিকরও হয়ে উঠতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছরই হেপাটাইটিস ‘ই’-তে আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানি ঘটছে। সুতরাং এই ব্যাপারে অধিক সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও জীবিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্ট্রিট ফুড। চটপটি-ফুচকা থেকে শুরু করে ঝালমুড়ি কিংবা আখের রস—মানুষ সাধারণত আড্ডা দিতে দিতে কিংবা গল্প করতে করতে এই ধরনের খাবার খেয়ে থাকে। একইসঙ্গে হাজারো বিক্রেতার জীবিকার উৎস এটি। তাই আমাদের লক্ষ্য হলো—স্ট্রিট ফুড সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়া নয়, বরং বিচক্ষণতার সঙ্গে তা নির্বাচন করা। যেসব বিক্রেতা পরিষ্কার পানি ব্যবহার করেন, স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখেন ও নিরাপদভাবে খাবার প্রস্তুত করেন, তারা সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারেন।
আশার খবর হলো, এই রোগ প্রতিরোধ সহজ। নিরাপদ পানি পান করা, নিয়মিত হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত করা খাবার খাওয়া এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত করা অসুস্থতার সম্ভাবনা অনেক কমাতে পারে। হেপাটাইটিস ‘এ’-র বিরুদ্ধে টিকাদান অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রদান করে।
ছোট ছোট দৈনন্দিন অভ্যাসগুলোকে তুচ্ছ মনে হতে পারে। কিন্তু এগুলোই ভালো স্বাস্থ্য এবং গুরুতর অসুস্থতার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করতে পারে। এমন একটি দেশ, যেখানে জীবন উদযাপনের একটি অংশ খাবার, সেখানে এটিকে নিরাপদ রাখা সবার দায়িত্ব হওয়া উচিত।
শর্মিলা সাজাঙ্কা: নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বায়োকেমিস্ট্রি ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী।
E-mail: [email protected]
