দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ড

মধ্যরাতে ঘন কুয়াশায় মেঘনায় ২ লঞ্চের সংঘর্ষ, আহত ৫

‘যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, এতে অল্পের জন্য রফরফ ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।’
মধ্যরাতে ঘন কুয়াশায় মেঘনা নদীতে ২ লঞ্চের সংঘর্ষ
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী রফরফ-৭ ও ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে চলাচলকারী এ আর খান লঞ্চের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঘন কুয়াশার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন লঞ্চের যাত্রী ও লঞ্চকর্মীরা। এতে অন্তত ৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে রফরফ-৭ লঞ্চের পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চাঁদপুর বিআইডাব্লিউটিএর উপর পরিচালক মো.শাহাদাৎ হোসাইন দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

লঞ্চের যাত্রীরা জানান, গতকাল রাত ১২টার দিকে সদরঘাট থেকে রফরফ-৭ লঞ্চ চাঁদপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চ কিছুটা ধীরে চলছিল। রাত সাড়ে ৩টার দিকে লঞ্চটি মতলবের মোহনপুর এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় পটুয়াখালীগামী এ আর খান নামের একটি লঞ্চ রফরফকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে রফরফ লঞ্চের পেছনে দ্বিতীয় তলার একাংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। পরে ভোর ৪টার দিকে লঞ্চটি চাঁদপুরে পৌঁছায়।

রফরফ লঞ্চে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকা থেকে ফরিদগঞ্জে বাড়ি ফিরছিলেন ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, 'লঞ্চের ধাক্কায় রফরফের সিটে থাকা ৫ যাত্রী প্রায় দুই থেকে তিন হাত দূরে গিয়ে ছিটকে পড়েন। তিনি মাথায় ও হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

আহত যাত্রী মো. মাসুম (৩৫) বলেন, 'যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, এতে অল্পের জন্য রফরফ ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।'

অপর যাত্রী নেছার আহমেদ বলেন, 'দুটি লঞ্চই ৩ তলা বিশিষ্ট এবং প্রায় আড়াইশ ফুট লম্বা হওয়ার কারণে রক্ষা পেয়েছে। ছোট লঞ্চ হলে বড় ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত।'

লঞ্চের স্টাফ মো. রুবেল জানান, ঘন কুয়াশা থাকলেও আমরা রাডার ব্যবহার করে গন্তব্যে যাচ্ছিলাম।

এ আর খান লঞ্চটি রাডার ব্যবহার না করায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চাঁদপুর বিআইডাব্লিউটিএর ওপর পরিচালক মো.শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, লঞ্চের মাস্টার চালককে প্রতিনিয়ত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং ঘন কুয়াশার মধ্যে নৌযান পরিচালনা না করার নির্দেশ দিলেও তারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করে নৌযান পরিচালনা করে। এ কারণে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা হয়।

Comments

The Daily Star  | English