হামলা, ভাঙচুর, হুমকি-ধমকিতে উত্তপ্ত টাঙ্গাইলের নির্বাচনী মাঠ

Body: 

প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও হুমকি-ধামকির ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের নির্বাচনী মাঠ। এসব ঘটনায় জেলার অন্তত চারটি আসনে সরকার দলীয় প্রার্থী এবং একই দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গতকাল মঙ্গলবার টাঙ্গাইল-২ (ভুয়াপুর-গোপালপুর) আসনে ভূঞাপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু ও তার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নৌকার প্রার্থী তানভীর হাসান ছোট মনিরের সমর্থকদের দায়ী করে থানা, নির্বাচন কমিশন ও রিটানিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইউনুস।

একই দিন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন নৌকা সমর্থকদের দ্বারা তার দুটি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও সমর্থকদের ওপর হামলা ও আহতের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এর আগে গত সোমবার রাতে ঘাটাইলে (টাঙ্গাইল-৩) স্বতন্ত্র প্রার্থী আমানুর রহমান খান রানার দুটি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও সমর্থকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রানা নৌকার প্রার্থী ডা. কামরুল হাসানের সমর্থকদের দায়ী করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এসব ঘটনায় যাতে নির্বাচনী পরিবেশ ব্যাহত বা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য প্রতিটি অভিযোগের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া ভোটারদের আশ্বস্ত করতে প্রয়োজনে বিজিবি মোতায়েনসহ কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ। 

জানা যায়, ভূয়াপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনুস ইসলাম তালুকদার ও তার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নৌকার প্রার্থী তানভীর হাসান ছোট মনিরকে আগামী বৃহস্পতিবার ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটিতে তলব করা হয়েছে। এছাড়া জনসমাবেশ করতে পূর্বানুমতি নিয়েছেন কিনা সেটি জানতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডুকেও তলব করেছে কমিটি।

এদিকে ঘাটাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুটি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় নৌকার প্রার্থী ডা. কামরুল হাসান খানকে সতর্ক করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদ সদস্য সানোয়ার হোসেনের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে।

এছাড়া টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মীর এনায়েত হোসেন মন্টুকে গজারী লাঠি নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে বলায় তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

এর আগে মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রৌফ এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে নৌকায় ভোট না দিলে বিএনপির ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে না করায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়।

এসব বিষয়ে টাঙ্গাইলের রিটার্নিং কর্মকর্তা কায়ছারুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, প্রতিটি ঘটনা সম্পর্কে অবগত হওয়া মাত্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব ব্যাপারে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, 'আমরা ভোটারদের আশ্বস্ত করছি, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ  নির্বাচনের পরিবেশ কেউ ব্যাহত করতে পারবে না। এজন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন তা নেওয়া হবে। সবাই তা দেখতে পারবেন।'

Intro: 
নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীকে তদন্ত কমিটির তলব, সতর্ক করা হয়েছে আরও কয়েকজনকে।
Hide feature image on details page: 
0