জামায়াত এমপির বহিষ্কার নিয়ে ইসির আপাতত করণীয় কিছু নেই: কমিশনার

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপাতত করণীয় কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

তিনি বলেন, দলীয় চিঠির ভিত্তিতে ইসির করণীয় কিছু নেই। এটি সংসদ থেকে আসতে হবে। ইসি এখনো এ বিষয়ে কোনো চিঠি পায়নি।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইসি সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি মাছউদ বলেন, দল থেকে বহিষ্কৃত হলে সংসদ সদস্যপদ থাকবে কি না, এটি অত্যন্ত বিতর্কিত বিষয়। এমনকি কেউ যদি দল থেকে পদত্যাগও করেন, তবে সেটি রেফারেন্স আকারে পার্লামেন্ট থেকে আসতে হবে।

ওই জামায়াত নেতার দলীয় বহিষ্কারের চিঠি ইসির কাছে আসেনি জানিয়ে তিনি বলেন, চিঠি পাওয়ার পর হয়তো আমরা দেখব যে কী করা যায়। তবে আমি স্বাভাবিকভাবে যা বুঝেছি, চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের খুব একটা করণীয় আছে বলে আমি মনে করছি না।

তিনি বলেন, কোনো পার্টির দলীয় চিঠির ভিত্তিতে সরাসরি অ্যাকশন নেওয়ার সুযোগ আছে বলে আমার মনে হয় না। আমাদের কাছে এরকম চিঠি এসেছে কি না, আমার জানা নেই। যদি কোনো চিঠি আসে, তখন বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখা যাবে যে নির্বাচন কমিশনের কিছু করণীয় আছে কি না।

এই কমিশনার জানান, পার্লামেন্ট থেকে যদি এটি ইসির কাছে পাঠানো হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি আমলে নেবে এবং যথাযথ তদন্তপূর্বক বা শুনানিপূর্বক বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, তিনি যদি পদত্যাগ করেন, সেটা কিন্তু নির্বাচন কমিশনে আসবে না। সংবিধানের আর্টিকেল ৬৭ অনুযায়ী, সংসদ সদস্য পদ ছাড়া এক বিষয়, আর দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করা ভিন্ন বিষয়। কেউ যদি সংসদ সদস্যপদ ছাড়েন, এবং পার্লামেন্ট যদি সেটি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠায়, তখন নির্বাচন কমিশন যথাযথ তদন্তপূর্বক বিষয়টির ওপর সিদ্ধান্ত দেবে।

তিনি বলেন, এখন আমাদের কাছে তো আর কোনো প্রক্রিয়া নেই।

নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।