মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা-শ্রমিকদের ১ ঘণ্টার কর্মবিরতি-বিক্ষোভ
দৈনিক মজুরি বাড়িয়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণসহ অন্যান্য দাবিতে এক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন চা-শ্রমিকরা।
তাদের দাবির মধ্যে আছে সম্প্রতি ঘোষিত ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির গেজেট বাতিল, ভূমির মালিকানা নিশ্চিতকরণ এবং চা-শ্রমিক ইউনিয়নের (সিবিএ) নির্বাচন দেওয়া।
আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কালিটি চা-বাগানে চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে এ কর্মবিরতি, বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে তুলনা করলে চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি অত্যন্ত অপ্রতুল ও অমানবিক। প্রতি বছর মাত্র ৮ টাকা করে মজুরি বৃদ্ধি চা-শ্রমিকদের সঙ্গে এক ধরনের তামাশা।
বর্তমানে দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরিতে একজন শ্রমিকের পক্ষে জীবনধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই ন্যায্য ও সম্মানজনকভাবে জীবনযাপনের জন্য দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি এখন প্রতিটি চা-শ্রমিকের প্রাণের দাবি, বলেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, এ ভূখণ্ডে চা-শ্রমিকদের বসবাসের প্রায় ২০০ বছর হতে চললেও তারা আজও ভূমির মালিকানা থেকে বঞ্চিত। জমির মালিকানা না থাকায় নানা নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও সাংবিধানিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই চা-শ্রমিকদের ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
সমাবেশে চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ বলেন, চা-শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের শিকার। স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও চা-জনগোষ্ঠী এখনো মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা দেশের সবচেয়ে কম মজুরিপ্রাপ্ত শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর একটি।
তিনি বলেন, দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি আদায়ে চা-শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের বিকল্প নেই।
পাশাপাশি মজুরি বৃদ্ধিসহ ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে প্রতিটি চা-বাগানে সংগঠিত সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কালিটি চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিমা অলমিক, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণদাস অলমিক, শ্রমিকনেতা দয়াল অলমিক, বিশ্বজিত দাস, কার্তিক নাইডু ও সীতারাম অলমিক।