বাংলাদেশ

ফরিদপুরে সাবেক ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ

ফরিদপুরের সদরপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক ও বর্তমান দুই ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ইউপি কার্যালয় ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার সাবেক ও বর্তমান দুই চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের সদরপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক ও বর্তমান দুই ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ইউপি কার্যালয় ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান ওরফে তিতাশের সমর্থকদের সঙ্গে একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ফকিরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

পরে পুলিশ গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পুলিশ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা বিল্লাল হোসেন ফকিরসহ ৮ জনকে আটক করেছে।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত গোলদার দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপি চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান ওরফে তিতাশের সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ফকিরের বিরোধ চলছিল।

২০২১ সালের নভেম্বরের ইউপি নির্বাচনে বিল্লাল ফকির হেরে গেলে আকতারুজ্জামান চেয়ারম্যান হন এবং কৃষ্ণপুর বাজার ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আকতারুজ্জামানের সমর্থক জালাল ফকির মারা যান। এ ঘটনায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ফকিরসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। 

হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে বের হয়ে এলে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জেরে আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কৃষ্ণপুর বাজারসহ আশেপাশের এলাকায় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। 

এ সংঘর্ষে কেউ হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও, ইউপি ভবন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়, তালমা টেম্পোস্ট্যান্ড এবং কৃষ্ণপুর বাজারের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পরে পুলিশ গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সদরপুর থানার ওসি সুব্রত গোলদার বলেন, 'ওই এলাকায় কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিলে। সংঘর্ষ ঠেকাতে সোমবার রাতে আকতারুজ্জামানের এক সমর্থককে আটক করা হয়। কিন্তু তারপরও সংঘর্ষ ঠেকানো যায়নি।'

Comments