আ. লীগ নেতা নিক্সন হত্যার নির্দেশদাতা সংসদ সদস্য মনির, দাবি প্রধান আসামির

ভিডিওতে সুমনকে বলতে শোনা যায়, নির্দেশ মতো নিক্সনকে হত্যা না করলে তাকে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি নিক্সনকে হত্যার পর এসএমএস দিয়ে তা জানানোর নির্দেশও ছিল।
টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ নেতা ও কলেজ শিক্ষক আমিনুল ইসলাম তালুকদার নিক্সনকে টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের 'নির্দেশে' হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মামলার প্রধান আসামি।

নিক্সন হত্যা মামলার প্রধান আসামি সুমনের এমন দাবি করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভিডিওটির দৈর্ঘ্য ২ মিনিটের বেশি।

ভিডিওতে সুমনকে বলতে শোনা যায়, নির্দেশ মতো নিক্সনকে হত্যা না করলে তাকে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি নিক্সনকে হত্যার পর এসএমএস দিয়ে তা জানানোর নির্দেশও ছিল।

২০২০ সালের ১ আগস্ট ঈদের আগের রাতে নিক্সনকে হত্যা করা হয়। গ্রামের বাড়ি আজগড়া থেকে পার্শ্ববর্তী ধনবাড়ি উপজেলা সদরের বাসায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন তিনি।

নিক্সন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে ধনবাড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয়। মামলার প্রধান আসামি সুমন হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশ এজাহারভুক্ত ৫ আসামির সঙ্গে আরও ৩ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মামলার বাদী আব্দুল্লাহ আল মামুন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পুলিশের অভিযোগপত্রে হত্যায় অংশগ্রহণকারীদের নাম থাকলেও পরিকল্পনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আমি আদালতে নারাজি দেই। পরে মামলাটি তদন্ত করতে দেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। তারাও একই প্রতিবেদন দিয়েছিল। আমি আবার নারাজি দেই। বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির তদন্ত করছে।'

নিক্সন হত্যা মামলার ৫ আসামি জামিনে, ১ জন পলাতক ও ২ জন কারাগারে আছেন বলেও জানান তিনি।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সিরাজ আমিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মাস দেড়েক আগে আমরা মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। তদন্ত কাজ প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।'

সুমনের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর, গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি ওই ব্যক্তিকে চিনি না, কখনো দেখিনি।'

টাঙ্গাইলকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে কাজ করেছেন দাবি করে তিনি বলেন, 'মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রভাবশালী এক আসামি কারাগারে আছে। শুনেছি তিনি নাকি নিক্সন হত্যা মামলার প্রধান আসামি সুমন ও তার পরিবারকে টাকা দিয়ে কোনো একসময়ে কারাগার গেট বা কোর্ট গারদে শেখানো কথা বলিয়ে ভিডিও করে রেখেছিল। এতদিন পর এখন আমার সম্মানহানি করতে সেই ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।'

এই ভিডিওটি কখন, কোথায়, কীভাবে ধারণ করা হয়েছে এবং কীভাবে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি দ্য ডেইলি স্টার।

এ ঘটনায় দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব সংবাদের বিষয়ে সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির বলেন, 'বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, একই সংবাদ একই দিন ৪টি সংবাদপত্রে একযোগে প্রকাশিত হয়েছে।'

'আসলে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল এবং প্রতিদ্বন্দ্বীরা আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে,' দাবি করেন তিনি।

Comments