ধামরাইয়ে বেতন-বোনাস দেওয়ার আগের দিন কারখানা বন্ধে শ্রমিক বিক্ষোভ

শ্রমিকরা জানান, বন্ধের কারণ জানতে কারখানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে।
শ্রমিকদের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার ধামরাইয়ে শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস দেওয়ার নির্ধারিত তারিখের একদিন আগে কারখানা বন্ধ ঘোষণার জেরে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা।

আজ বুধবার সকাল ৮টার দিকে ধামরাইয়ের সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদ বাজার সংলগ্ন ওডিসি ক্রাফট প্রাইভেট লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

শ্রমিকরা জানান, গতকালও তারা ঠিকঠাক কাজ করেছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষের গতকাল অফিস স্টাফদের বেতন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্টাফদের বেতন দেওয়া হয় নাই। পরে স্টাফরা বেতনের দাবিতে অফিসের ভেতরে শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতি পালন করেন। শ্রমিকরা যার যার মতো বাড়ি চলে যায়। আজ সকালে কাজের জন্য কারখানায় গেলে শ্রমিকদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। শ্রমিকদের জানানো হয়, আজকের জন্য কারখানা বন্ধ। আগামীকাল থেকে আবার কারখানা খোলা থাকবে।

তারা আরও জানান, আগামীকাল শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এর আগের দিন কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারখানা বন্ধের কথা গতকাল শ্রমিকদের জানানো হয়নি। কী কারণে কারখানা বন্ধ করা হলো, সেটাও শ্রমিকরা জানে না। কারখানা বন্ধের কারণ জানতে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে ওডিসি ক্রাফট লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের অ্যাডমিন ম্যানেজার নুরুল ইসলামের নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার রাশেদুল বারি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, কারখানাটিতে শ্রমিক ও স্টাফের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার ৩০০। বেতন-বোনাসের দাবিতে কারখানাটিতে বেশ কয়েকদিন ধরে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন। আগামীকাল শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ কারখানা কর্তৃপক্ষ একদিনের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করায় শ্রমিকরা জোরপূর্বক প্রবেশ করে কারখানা ভাঙচুরের চেষ্টা করে। পরে জলকামান ব্যবহার করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

'আমরা কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলছেন, আগামীকাল বেতন-বোনাস পরিশোধ করা হবে। শ্রমিকরা কারখানার সামনে থেকে সরে গেছে। কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে', বলেন তিনি।

Comments

The Daily Star  | English
Civil society in Bangladesh

Our civil society needs to do more to challenge power structures

Over the last year, human rights defenders, demonstrators, and dissenters have been met with harassment, physical aggression, detainment, and maltreatment by the authorities.

8h ago