‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীলতার ওপর নির্ভর করে’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন অনেকাংশে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীলতার ওপর নির্ভর করে। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
আজ রোববার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলকে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য রক্ষা করতে হবে।
জাহাঙ্গীর জানান, বৈঠকে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ), জুলাই শহীদদের মামলা অগ্রগতি, পুলিশের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন, রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম, মাদক নিয়ন্ত্রণ, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট ও ভুয়া খবরের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর যে ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে, তা বজায় রাখতে হবে। যদি এই ঐক্যে ভাঙন ধরে, তাহলে ফ্যাসিস্টের দোসররা ঢুকে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সবার সহযোগিতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে চায়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, 'যে পার্টিটার কার্যকলাপ নেই, তারা তো চাইবেই নির্বাচনটা ভঙ্গ করার জন্য।'
রাজনৈতিক দলসহ সবাই মিলে তাদের প্রতিহত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ১২৩টি সংগঠন মোট ১ হাজার ৬০৪টি অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বলে জানান তিনি।
তিনি আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধ না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ে। এর পরিবর্তে উন্মুক্ত মাঠ বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মতো নির্ধারিত স্থানে কর্মসূচি পালন করার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, মানুষের প্রতিবাদ করার ও দাবি জানানোর অধিকার আছে। তবে এর কারণে যেন জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কোনো ঘটনায় যদি পুলিশ আগেভাগে ব্যবস্থা নেয়, তখন বলা হয় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বানচাল করেছে। আর যদি সহিংসতার পরে যায়, তখন বলা হয় দেরি করেছে। ভারসাম্য রাখা কঠিন, তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।
নির্বাচনের নিরপেক্ষতা কেন রাজনৈতিক দলের ওপর নির্ভর করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর বলেন, আমাদের দায়িত্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু নির্বাচন সত্যিই অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে কিনা, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক অভিনেতাদের ওপর।
Comments