আদিতমারীতে আ. লীগের নবগঠিত কমিটি ও পদবঞ্চিতদের সংঘর্ষে আহত ১৫

আদিতমারীতে আ. লীগের নবগঠিত কমিটি ও পদবঞ্চিতদের সংঘর্ষে আহত ১৫
উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্যঘোষিত কমিটির নেতাকর্মী ও পদবঞ্চিতদের মধ্যে শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় আওয়ামী লীগের ২ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ৪ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্যঘোষিত কমিটির নেতাকর্মী ও পদবঞ্চিতদের মধ্যে শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

সংঘর্ষের পর উপজেলা শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহতরা স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, বিএনপি-জামাতায়াতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল বের করে আওয়ামী লীগের ২ গ্রুপ। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীদের মিছিল বের হয় ভাদাই জি এস স্কুল মাঠ থেকে। মিছিলের নেতৃত্ব দেন নবগঠিত কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম।

এদিকে পদবঞ্চিতরা মিছিল বের করেন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থেকে। এ মিছিলের নেতৃত্ব দেন কমলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ ওমর চিশতী। 

এক পর্যায়ে দুই মিছিল মুখোমুখি হলে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের হাতে লাঠি, হকিস্টিক, ধারাল অস্ত্র, চাইনিজ কুড়াল দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, দীর্ঘ ১২ বছর পর গত ৮ অক্টোবর আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে কমিটি ঘোষণা না করেই সম্মেলন স্থগিত করা হয়। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের অন্তর্দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। গ্রুপ দুইটির একটিতে নেতৃত্ব দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এবং অপর গ্রুপে নেতৃত্ব দেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিরাজুল হক।

পরে গত ১৯ নভেম্বর দুপুরে তিস্তা ব্যারাজের অবসর রেস্ট হাউসে জেলা আওয়ামী লীগের সভায় একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সিরাজুল হকের গ্রুপকে বঞ্চিত করে সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলীকে সভাপতি ও রফিকুল আলমকে সম্পাদক করে ৭১ সদস্যের কমিটি দেওয়া হয়। এতে বিক্ষুদ্ধ হন আওয়ামী লীগের তৃণমুলের নেতাকর্মীরা।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, 'পদবঞ্চিত মাহমুদ ওমর চিশতীর নেতৃত্বে কিছু বহিরাগত লোকজন আওয়ামী লীগের মিছিলে হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।'

'আমি একসময় বিএনপি করতাম। প্রায় ৭ বছর আগে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছি। আমার সাংগঠনিক নেতৃত্ব আছে বলেই আমাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে,' বলেন তিনি।

কমলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ ওমর চিশতী সাংবাদিকদের বলেন, 'আমার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ
কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল হচ্ছিল। কিন্তু বিএনপি থেকে আসা লোকজন নিয়ে গঠিত কমিটির লোকজন এসে আমাদের ওপর চালায়। এতে তৃণমূল আওয়ামী লীগের কয়েকজন আহত হয়েছেন।'

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, 'দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ছিল। দুটি গ্রুপই মুখোমুখি স্থানে সংঘর্ষে বাঁধে।'

'বিক্ষুদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ছোঁড়া পাথরের আঘাতে ৪-৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে এবং পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে,' যোগ করেন তিনি।

Comments

The Daily Star  | English

Over 100 injured in overnight clashes between CU students, locals

About 20 people were sent to Chattogram Medical College Hospital in critical condition

32m ago