‘সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র চলছে’

আ. লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বলেছেন শেখ হাসিনা
pm sheikh hasina
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে অনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ও আসন্ন নির্বাচনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করার কথা উল্লেখ করেছেন শেখ হাসিনা।

বুধবার তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় থাকার জন্য তিনি কখনোই সেন্টমার্টিন দ্বীপ লিজ দেবেন না।

গতকাল গণভবনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে তিনি সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে তার ওপর আসা ক্রমবর্ধমান চাপের কথা উল্লেখ করে জানান, কোনো ধরনের মুচলেকা দিয়ে তিনি ক্ষমতায় থাকতে চান না।

সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া ৬ ঘণ্টার বৈঠকে আওয়ামী লীগের ৮ সাংগঠনিক সম্পাদক নিজ বিভাগের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যার খোঁজ-খবর নেন।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে খুব বেশি সময় বাকি না থাকায় তিনি বারবার সহকর্মীদের দলকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অক্টোবরে নির্বাচনের পূর্ণ প্রস্তুতি শুরু হবে।

বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন অর্থাৎ ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন করতে হবে।

শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের আহ্বান জানান।

তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ও নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে সরকারের অর্জন তুলে ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'মনে রাখবেন আপনাদের কাছে ২টি অস্ত্র আছে—একটি সরকারের অর্জন এবং অন্যটি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় সরকারের দুঃশাসন।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্যরা যদি মনে করেন যে, তারা ঢাকায় থেকেই দলীয় টিকিট পাবেন এবং বিজয়ী হবেন, তাহলে তারা ভুল করবেন। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও কঠিন হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু তার সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে উপযুক্ত জবাব দেবে।

যেসব ইউনিটে কাউন্সিল হয়েছে, সেসব ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং নির্বাচনের আগে আর কোনো কাউন্সিল না করার জন্য নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

সূত্র আরও জানায়, অনুপ্রবেশকারী ও 'হাইব্রিডদের' দলের পদে বসানোর বিষয়ে তিনি সবাইকে সতর্ক করেছেন।

তৃণমূল কমিটি থেকে জ্যেষ্ঠ ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুশফিক হোসেন চৌধুরী অভিযোগ তুললে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দলে তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। কিন্তু অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠদের বাদ দিয়ে তা করা হবে না।

খুলনা বিভাগ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের উপস্থাপনার সময় ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি মতিয়ার রহমানের ছেলের বিরুদ্ধে একটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর ও মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ ওঠার বিষয়টি আসে।

তখন আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যারা সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন ও তাদের সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িত, তাদের আওয়ামী লীগে কোনো স্থান নেই। তিনি মতিয়ারকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া কথা বলেন।

তিনি দলীয় নেতাদের একে অপরের বিরুদ্ধে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী দলীয় এমপিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দলীয় এমপিদের বিরুদ্ধে কথা বলা দলের বিরুদ্ধে কথা বলার শামিল।

তিনি বলেন, এমপিদের নিয়ে তার কাছে সব ধরনের প্রতিবেদন রয়েছে এবং জনপ্রিয়তা বিবেচনা করে দল তাদের মনোনয়ন দেবে।

শেখ হাসিনা বলেন, নেতাদের জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে জরিপ চালানো হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার অভিযোগ তুলেন আরেক সদস্য বাহাউদ্দিন নাসিম। এ নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

তখন শেখ হাসিনা হস্তক্ষেপ করে নাসিমকে বলেন, নাসিমই শাহানকে আওয়ামী লীগে আনার জন্য তদবির করেছিলেন।

সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগকে জয়ী করার জন্য নির্বাচনে কারচুপির প্রয়োজন নেই। কারণ জনগণ আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করে।

'আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে জনগণের ভোট পায়।'

তিনি বলেন, 'যখনই তার দল হেরেছে, তখনই তা ষড়যন্ত্রের কারণে হয়েছে। ভোট ডাকাতরা আওয়ামী লীগকে তার প্রকৃত ভোট বা আসন থেকে বঞ্চিত করেছে অথবা আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার চেষ্টা করেছে।'

Comments

The Daily Star  | English
Illustration showing man stealing data

Government mishandling of personal data: Where does it end?

Are these incidents of data breach and data leaks not contradictory to the very image of the smart, digital, developed Bangladesh that they are desperately trying to portray or advertise?

1h ago