জানা-অজানা

কে এই জাভিয়ের

ইন্টারনেটে বিভিন্ন পোস্টের নিচে ‘জাভিয়ের’ নামে আইডির বুদ্ধিদীপ্ত ও মজার কমেন্ট হাসেননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিন্তু এই আইডির পেছনের মানুষটি কে, তা এক রহস্য।
জাভিয়ের। ছবি: সংগৃহীত

ইন্টারনেটে বিভিন্ন পোস্টের নিচে 'জাভিয়ের' নামে আইডির বুদ্ধিদীপ্ত ও মজার কমেন্ট হাসেননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিন্তু এই আইডির পেছনের মানুষটি কে, তা এক রহস্য।

ভারতের 'লাইফ বিয়ন্ড নম্বরস' নামের একটি ওয়েবসাইট দাবি করেছে, তারা এই জাভিয়েরকে খুঁজে পেয়েছে।

ওয়েবসাইটটিতে দাবি করা হয়, জাভিয়ের একজন ভারতীয় বংশোদ্ভুত, টুইটারে যার নাম 'পাকালু পাপিতো' এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ভারতীয় বংশোদ্ভুত হলেও তিনি দীর্ঘদিন ভারতে আসেননি।

কিছুটা লাজুক প্রকৃতির জাভিয়ের জানান, তিনি একটি উট, একটি ল্যাপটপ ও একটি গ্যাস স্টেশনের মালিক।

২০১৩ সালের জুলাইয়ে টুইটার অ্যাকাউন্ট চালু করে সেখানে বিভিন্ন মজার টুইট করতে শুরু করেন তিনি। বিশ্বজুড়ে বহু মানুষ তার এই টুইটগুলো পছন্দ করতে শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চালু করে টুইটগুলো ফেসবুকেও পোস্ট করতে শুরু করেন।

২০১৫ সালে টুইটারে ৮ লাখ এবং ফেসবুকে ৫ লাখেরও বেশি ফলোয়ার হয়ে যায় তার। কিন্তু টুইটার ও ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তার ২টি অ্যাকাউন্টই বন্ধ করে দেয়।

অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে তার টুইট ও পোস্টগুলো মিম বা মজার পোস্ট আকারে ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর থেকে বহু ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে মজার মজার পোস্ট দিতে শুরু করেন। জাভিয়ের হচ্ছে এমনই একটি ইউজারনেম।

লাইফ বিয়ন্ড নম্বরস ওয়েবসাইটের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের আসল পরিচয়কে রহস্যের আবরণেই মুড়ে রেখেছেন তিনি। নিজের পরিচয় দেওয়ার অনুরোধে তিনি বলেন, 'আমি জাভিয়ের, আপনাদের পৃথিবী নামক গ্রহেই আমার বসবাস। আমি একটি গ্যাস স্টেশনে চাকরি করি। আমি ঠিক নিশ্চিত না এই স্টেশনটির অবস্থান কোথায়। তবে এটা নিশ্চিত যে এটি পৃথিবীতেই। দুঃখজনকভাবে আমি বিবাহিত। আমার স্ত্রীর দাবি, আমার কয়েকজন বান্ধবী আছে, কিন্তু আমার সেটি মনে হয় না। যাইহোক, স্ত্রীরা সব জানে।'

এক বন্ধুর সঙ্গে বাজি ধরে তিনি টুইটারে অ্যাকাউন্ট চালু করেছিলেন। ওই বন্ধুটি তাকে বলেছিলেন, ৫ হাজার ফলোয়ার জোগাড় করতে পারলেই তাকে ১০ হাজার ডলার দেবেন। তিনি বাজি জিতেছেন এবং সেই অর্থ দিয়েই গ্যাস স্টেশনটি কিনেছেন।

জাভিয়ের বলেন, 'কয়েক বছর আগে আমার এক বন্ধু আমাকে চ্যালেঞ্জ করে বলে, আমি হাজার হাজার ফলোয়ার পাব কি না। এরপর আমি টুইটার চালু করি। তখন অবশ্য আমার ইউজারনেম ভিন্ন ছিল। ধীরে ধীরে আমার ফলোয়ার বাড়তে থাকে। আমি যা দেখতাম এবং অনুভব করতাম, সেগুলোই পোস্ট করতাম।'

২০২০ সালের অক্টোবরে তিনি নতুন একটি ফেসবুক পেজও চালু করেছেন এবং সেখানে বিভিন্ন মিম ও স্ক্রিনশট পোস্ট করেন। বর্তমানে পেজটিতে ২২ লাখেরও বেশি ফলোয়ার আছে।

ইন্টারনেটে ব্যপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার অনুভূতি প্রসঙ্গে জাভিয়ের বলেন, 'এত জনপ্রিয়তা পাব ভাবিনি। আমার কমেন্ট ও টুইট ইন্টারনেটের সর্বত্র দেখা যেত। বেশিরভাগ সময়ই আমি ইতিবাচক উত্তর পেতাম। কিন্তু অনেকে আমাকে গালাগালিও করেছেন। বিশ্বের বহু মেয়ে আমাকে বিয়ে করতে চায় বলে জানিয়েছেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমি ২-৩ জন স্ত্রী সামলাতে পারব না। ইসস্, যদি পারতাম!'

তবে তিনি কখনো স্ট্যান্ডআপ কমেডি করবেন না বলেও জানিয়েছেন।

Comments

The Daily Star  | English
Pilkhana BDR Mutiny

Carnage At Pilkhana BDR HQ: 15 years on, justice yet to be meted out

Fifteen years have passed since the BDR mutiny that killed 74 people, including 57 army officials, but the victim families are yet to get final justice and the accused their due punishment, as both the cases filed over the incident have not yet been disposed of due to lengthy legal processes and courts being overburdened with cases.

12h ago