অ্যাতলেতিকোকে হারিয়ে শিরোপার সুবাস পাচ্ছে বার্সেলোনা

ম্যাচের আগে দুই দলের পয়েন্ট ব্যবধান ছিল আট। এ ম্যাচে জিততে পারলে লা লিগায় শিরোপা লড়াইটা অনেকটাই জমিয়ে দিত পারতো অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। কিন্তু উল্টো হেরে যায় দলটি। তবে ১০ জনের দল নিয়ে দারুণ লড়াই করে তারা। বার্সেলোনাকে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত আটকেও রেখেছিল। কিন্তু দুই মিনিটের ঝলকে লুইস সুয়ারেজ ও লিওনেল মেসির দুটি দুর্দান্ত গোলে হার মানতে হয় অতিথিদের। ২-০ গোলের জয়ে শিরোপা স্বপ্ন জোরালো হলো কাতালানদের।
ছবি: এএফপি

ম্যাচের আগে দুই দলের পয়েন্ট ব্যবধান ছিল আট। এ ম্যাচে জিততে পারলে লা লিগায় শিরোপা লড়াইটা অনেকটাই জমিয়ে দিত পারতো অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। কিন্তু উল্টো হেরে যায় দলটি। তবে ১০ জনের দল নিয়ে দারুণ লড়াই করে তারা। বার্সেলোনাকে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত আটকেও রেখেছিল। কিন্তু দুই মিনিটের ঝলকে লুইস সুয়ারেজ ও লিওনেল মেসির দুটি দুর্দান্ত গোলে হার মানতে হয় অতিথিদের। ২-০ গোলের জয়ে শিরোপা স্বপ্ন জোরালো হলো কাতালানদের।

ম্যাচের ১৪তম মিনিটে বড় বাঁচা বেঁচে যায় অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। দিনের সেরা সুযোগটি মিস করেন জর্দি আলবা। মেসির পাস থেকে একেবারে ফাঁকায় গোলরক্ষককে একা পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার শট বার পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পাঁচ মিনিট পর লুইস সুয়ারেজের ভলি বার পোষ্টের উপর দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পাল্টা আক্রমণে সুযোগ ছিল অ্যাতলেতিকোরও। কিন্তু ডান প্রান্ত থেকে গ্রিজম্যানের কোণাকোণি শট লুফে নেন গোলরক্ষক মার্ক টের স্টেগান।

২৭তম মিনিটে অ্যাতলেতিকোকে বাঁচিয়ে দেন গোলরক্ষক জন ওবলেক। সুয়ারেজের পাস থেকে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ শট নিয়েছিলেন ফিলিপ কৌতিনহো, কিন্তু তার শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন ওবলেক। পরের মিনিটেই বড় ধাক্কা খায় অ্যাতলেতিকো। রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন দিয়াগো কস্তা। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে যায় অতিথিরা।

৩৯তম মিনিটে দিয়াগো গডিনের ব্যাক পাসে ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন সুয়ারেজ। কিন্তু নিজে শট না নিয়ে মেসিকে ব্যাকপাস দিতে গিয়ে ভুল করে ফেলেন তিনি। পরের মিনিটে মেসির শটও সহজেই লুফে নেন এ গোলরক্ষক ওবলেক। ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় বার্সেলোনা। ৫১তম মিনিটে মেসির পাস থেকে ডি বক্সের বাইরে থেকে অনেকটা ফাঁকায় শট নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন বুসকেতস। কিন্তু বারপোস্টে অনেক উপর দিয়ে তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পাঁচ মিনিট পর একক প্রচেষ্টায় দারুণ শট নিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু তার শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ওবলেক। পরের মিনিটে পাঁচ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু জোরালো শট না নিতে পারায় সে বল ধরে নিতে কোন সমস্যা হয়নি ওবলেকের।

৫৭তম মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে একেবারে ফাঁকায় থাকা সুয়ারেজকে পাস দেন মেসি। কিন্তু উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড ফাঁকি দিতে পারেননি অ্যাতলেতিকো গোলরক্ষক ওবলেককে। দু মিনিট পর আবারো তিন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে দুর্দান্ত শট নিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু এবারও তাকে হতাশ করেন ওবলেক।

৬৮তম মিনিটে গ্রিজম্যানের নেওয়া ফ্রি কিক সহজেই লুফে নেন বার্সা গোলরক্ষক টের স্টেগান। পরের মিনিটে তো দুর্দান্ত ওবলেক। সুয়ারেজের সঙ্গে দেওয়া নেওয়া করে জোরালো শট নিয়েছিলেন মেসি। তার শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান ওলবেক। ফিরতি বলে দারুণ ভলি করেছিলেন বদলী খেলোয়াড় ম্যালকম। তার ভলিও ফিরিয়ে দেন অ্যাতলেতিকো গোলরক্ষক।

৭৫তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ মিস করে অ্যাতলেতিকো। বাঁ প্রান্ত থেকে গ্রিজম্যানের নেওয়া দারুণ ফ্রি-কিকে একেবারে ফাঁকায় হেড দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন গিমেনেজ। কিন্তু লক্ষ্য রাখতে পারেননি। উল্টো ১০ মিনিট পর গোল খেয়ে বসে তারা। আলবার কাছ থেকে বল পেয়ে দূরপাল্লার বাঁকানো এক শটে ওবলেককে পরাস্ত করেন সুয়ারেজ। লিগে এটা তার ২০তম গোল।

পরের মিনিটে অসাধারণ এক গোল দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন মেসি। মাঝ মাঠ থেকে বল পেয়ে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল জালে জড়ান এ আর্জেন্টাইন। চলতি আসরে এটা তার ৪৩তম গোল। আর লা লিগায় ৩৩তম।

Comments