চোখে কম দেখেন ঢাকার ৫০ শতাংশ পরিবহন শ্রমিক

রাজধানীতে পরিবহন ক্ষেত্রে চলমান নৈরাজ্যের মধ্যেই নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে এই শহরের গণপরিবহন চালক ও হেলপারদের ৫০ শতাংশ চোখে কম দেখেন বা ক্ষীণ দৃষ্টি সম্পন্ন।
ঢাকার রাস্তায় চলাচল করা বাসগুলোতে চালকের আসনের পাশেই চাপাচাপি করে বসে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। ছবি: রয়টার্স

রাজধানীতে পরিবহন ক্ষেত্রে চলমান নৈরাজ্যের মধ্যেই নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে এই শহরের গণপরিবহন চালক ও হেলপারদের ৫০ শতাংশ চোখে কম দেখেন বা ক্ষীণ দৃষ্টি সম্পন্ন।

গত মাসে গণপরিবহনের ১,২০০ চালকের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কিছু চালকের চোখের সমস্যা এতটাই প্রকট যে তাদের অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের রোড সেফটি প্রোগ্রাম ও জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল-ঢাকা ওয়েস্ট এর এক যৌথ গবেষণায় এসব কথা উঠে এসেছে। রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে গত ২৩ ও ২৪ এপ্রিল সমীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়।

সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫০ শতাংশ চালক যাদের বেশিরভাগই বাস চালান, চালকের সহকারী ৪৯ শতাংশ ও বাকিরা চালক ও তাদের সহকারী। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২৯ শতাংশের বয়স ৩১-৪০ বছরের মধ্যে, ২৭ শতাংশের বয়স ৪০-৫০ বছরের মধ্যে ও ১৯ শতাংশের বয়স ৫১-৬০ বছরের মধ্যে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যাদের দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা রয়েছে তাদের মধ্যে ৭৬ শতাংশের চশমা বা নিয়মিত ওষুধের প্রয়োজন রয়েছে। চোখে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে ১২ দশমিক ৭ শতাংশের।

ব্র্যাকের রোড সেফটি প্রোগ্রামের প্রধান কামরান উল বাসেত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে বিআরটিএ’র সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক মাহবুব-ই-রব্বানী বলেন, লাইসেন্স দেওয়ার আগে চোখ পরীক্ষা করে বিআরটিএ। কিন্তু এতে সমস্যা থাকতে পারে বলেও স্বীকার করে নেন তিনি।

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক জহরুল ইসলাম বলেন, চালকদের অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। এর জন্য আমাদের জাতীয় পর্যায়ে একটি নীতিমালা প্রয়োজন।

ব্র্যাকের রোড সেফটি প্রোগ্রামের পরিচালক আহমেদ নাজমুল হোসেন বলেন, চালকদের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে এর আগে আমরা কিছুই জানতাম না। এ ধরনের গবেষণা এটাই প্রথম।

Comments

The Daily Star  | English

Economy with deep scars limps along

Business and industrial activities resumed yesterday amid a semblance of normalcy after a spasm of violence, internet outage and a curfew that left deep wounds in almost all corners of the economy.

5h ago