রোমাঞ্চকর ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাল অস্ট্রেলিয়া

ছবি: রয়টার্স

হঠাৎ করেই যেন পুরোদুস্তর ব্যাটসম্যান বনে গেলেন পাকিস্তানের দুই পেসার হাসান আলি ও ওয়াহাব রিয়াজ। দুইজনই খেললেন দারুণ দুটি ক্যামিও ইনিংস। আর তাদের যোগ্য সঙ্গ দিলেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। তাতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ লড়াই করেছিল পাকিস্তান। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ৪১ রান দূরে থামতে হয় তাদের। চার ম্যাচে তৃতীয় জয় পেল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় উইকেটে ভালো দুটি জুটি উপহার পায় পাকিস্তান। কিন্তু এরপর হঠাৎ ছন্দপতন। স্কোর বোর্ডে ২৪ রান যোগ করতেই শেষ চার ব্যাটসম্যান। পাকিস্তান তখন বড় হারই দেখছিল। কিন্তু সপ্তম উইকেটে হাসান আলির সঙ্গে ৪০ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক। এরপর রিয়াজের সঙ্গে ৬৪ রানের জুটি। কিন্তু এ জুটি ভাঙতেই শেষ পাকিস্তান!

ম্যাচের এক পর্যায়ের অসিদের ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান। বিশেষ করে রিয়াজ। দারুণ ব্যাটিং করছিলেন তিনি। সফল রিভিউতে তাকে ফেরান মিচেল স্টার্ক। রিয়াজ আউট হয়ে গেলে ২ রানের ব্যবধানে বাকী দুই উইকেটও হারায় দলটি। ফলে ২৬ বল বাকী থাকতেই হার দেখে তারা।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন ইমাম-উল-হক। মোহাম্মদ হাফিজ ৪৬, রিয়াজ ৪৫ ও হাসান আলি ৩২ রান করেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ৩৩ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নিয়েছেন প্যাট কামিন্স। ২টি করে উইকেট নেন স্টার্ক ও রিচার্ডসন।

এর আগে টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তান। কিন্তু তাদের নেওয়া সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করে শুরু থেকে সাবলীল ব্যাট করতে থাকেন অসি দুই ওপেনার। প্রিয় প্রতিপক্ষর বিপক্ষে আরও একটি হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। আর আরেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার তো তুলে নেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর দারুণ ছন্দে আছেন এ ক্রিকেটার।

অসিদের উড়ন্ত সূচনা এদিন থামিয়েছিলেন আমিরই। আর জুটি ভাঙতেই তাদের চেপে ধরেন তিনি। আমিরের সঙ্গে তখন পাকিস্তানের বাকী বোলাররাও তোপ দাগান। ফলে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট পড়তে থাকে।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৭ রানের ইনিংস খেলেছেন ওয়ার্নার। ১১১ বলে ১১টি চার ও ১টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি।  ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটা তার ১৫তম সেঞ্চুরি। ৮৪ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮২ রানের ইনিংস খেলেন ফিঞ্চ। চলতি বছরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ছয় ম্যাচ খেলে তার পাঁচটিতেই করলেন পঞ্চাশের বেশি রান। এ দুই ব্যাটসম্যান ছাড়া আর কোন কেউই দলের হাল ধরতে পারেননি। তৃতীয় সর্বোচ্চ রানটি মাত্র ২৩ রানের। এসেছে মার্কাস স্টয়নিসের ইনজুরিতে সুযোগ পাওয়া শন মার্শের ব্যাট থেকে।

মাত্র ৩০ রানের খরচায় এদিন ৫টি উইকেট তুলে নিয়েছে আমির। অধিনায়ক ফিঞ্চ ছাড়াও মার্শ, উসমান খাওজা, অ্যালেক্স কারি ও মিচেল স্টার্কের উইকেট নেন তিনি। ২টি উইকেট পেয়েছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া: ৪৯ ওভারে ৩০৭ (ফিঞ্চ ৮২, ওয়ার্নার ১০৭, স্মিথ ১০, ম্যাক্সওয়েল ২০, মার্শ ২৩, খাওয়াজা ১৮, কেয়ারি ২০, কোল্টার-নাইল ২, কামিন্স ২, স্টার্ক ৩, রিচার্ডসন ১*; আমির ৫/৩০, আফ্রিদি ২/৭০, হাসান ১/৬৭, ওয়াহাব ১/৪৪, হাফিজ ১/৬০, মালিক ০/২৬)।

পাকিস্তান: ৪৫.৪ ওভারে ২৬৬ (ইমাম ৫৩, ফখর ০, বাবর ৩০, হাফিজ ৪৬, সরফরাজ ৪০, মালিক ০, আসিফ ৫, হাসান ৩২, রিয়াজ ৪৫, আফ্রিদি ১*; কামিন্স ৩/৩৩, স্টার্ক ২/৪৩, রিচার্ডসন ২/৬২, কোল্টার-নাইল ১/৫৩, ম্যাক্সওয়েল ০/৫৮, ফিঞ্চ ১/১৩)। 

ফলাফল: অস্ট্রেলিয়া ৪১ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ডেভিড ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া)।

Comments

The Daily Star  | English

Parts of JP HQ set on fire

Protesters linked to Gono Odhikar Parishad demand ban on JP, accuse it of siding with Awami League

4h ago