স্মিথের বীরত্বমাখা প্রত্যাবর্তন

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে স্টিভেন স্মিথ ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন আগেই। তবে শুভ্র পোশাকের ক্রিকেট খেলতে গিয়ে যে দাগ মেখে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন সেই টেস্টে ফিরলেন প্রায় ১৬ মাস পর। ফিরলেন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে, ফিরলেন সবচেয়ে অভিজাত সিরিজ অ্যাশজ দিয়েই। এবং ফিরলেন কি অনিন্দ্য সুন্দর ব্যাটিংয়ের পসরা সাজিয়ে। প্রত্যাবর্তনের গল্প আর কতটা আলো ঝলমলে হতে পারত!
Steven Smith
ছবি: রয়টার্স

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে স্টিভেন স্মিথ ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন আগেই। তবে শুভ্র পোশাকের ক্রিকেট খেলতে গিয়ে যে দাগ মেখে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন সেই টেস্টে ফিরলেন প্রায় ১৬ মাস পর। ফিরলেন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে, ফিরলেন সবচেয়ে অভিজাত সিরিজ অ্যাশজ দিয়েই। এবং ফিরলেন কি অনিন্দ্য সুন্দর ব্যাটিংয়ের পসরা সাজিয়ে। প্রত্যাবর্তনের গল্প আর কতটা আলো ঝলমলে হতে পারত!

ধুঁকতে থাকা, অল্প রানে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় থাকা অস্ট্রেলিয়াকে একা হাতে লড়াইয়ে রেখেছেন স্মিথ। চোখ ধাঁধানো সেঞ্চুরি করে এজবাস্টন টেস্টের প্রথম দিন রাঙিয়েছেন তিনিই। টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া অস্ট্রেলিয়া প্রথম দিনেই ২৮৪ রানে অলআউট হয়েছে, যার মধ্যে ১৪৪ রানই করেছেন স্মিথ। এজবাস্টনে বৃহস্পতিবার প্রথম দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার ২৮৪ রানের জবাবে বিনা উইকেটে ১০ রান করে দিন শেষ করেছে ইংল্যান্ড।

বলা ভালো স্মিথের কারণেই এতটা পথ যেতে পারল অসিরা। ১২২ রানে ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে নিয়ে যোগ করেছেন ১৬২ রান। ২১৯ বলে ১৬ চার আর ২ ছক্কায় ১৪৪ রানের ইনিংস খেলে আউট হয়ে ফেরত যাওয়ার সময় গোটা এজবাস্টন গ্যালারিই তাকে কুর্নিশ জানাতে ব্যস্ত।

তার বীরত্বের কারণেই আড়ালে পড়ে গেছেন ৮৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে অসিদের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া স্টুয়ার্ট ব্রডের কৃতিত্ব।  দলকে অল্প রানে গুটিয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে এজবাস্টন টেস্টের প্রথম দিনের নায়ক স্মিথই।

সকালে টস জিতে আগে ব্যাট করতে তুমুল বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। স্মিথের মতই এই টেস্ট দিয়ে প্রত্যাবর্তন হয়েছিল ডেভিড ওয়ার্নার আর ক্যামেরন বেনক্রফটের। দুজনেই হয়েছেন নিদারুণ ব্যর্থ, পারেননি উসমান খাওয়াজাও। ৩৫ রানেই ৩ উইকেট খুইয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া। এরপর ট্রেভিস হেডের সঙ্গে ৬৪ রানের জুটি গড়ে উইকেট পতনে বাঁধ দেন স্মিথ। ৩৫ করে হেড ফেরত যাওয়ার পর আবার হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সফরকারীদের ইনিংস। ১২২ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর ১৫০ করা নিয়েও শঙ্কায় ছিল অসিরা। নবম উইকেটে পিটার সিডলকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ান স্মিথ। দারুণ খেলতে থাকেন সিডলও। ৮৮ রানের জুটিতে ৪৪ করে ফেরেন সিডল।

২১০ রানে নবম উইকেট পড়ার পর এসেছে আরও ৭৪ রান। তার অধিকাংশই নিয়েছেন স্মিথ। ন্যাথান লায়নকে আগলে রেখে তরতরিয়ে বাড়িয়েছেন দলের রান। এক সময় দল দেখছিল তিনশোর আশা, নিজেও ছিলেন দেড়শোর কিনারে। কোনটাই না হলেও স্মিথ যা করেছেন তাতে এজবাস্টনে ইংলিশরা একপেশে দাপট দেখাতে চলেছে, তা আর বলার উপায় নেই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

প্রথম দিন শেষে

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ৮০.৪ ওভারে ২৮৪ (ওয়ার্নার ৮, বেনক্রফট ২, খাওয়াজা ১৩,  স্মিথ ১৪৪, হেড ৩৫, ওয়েড ১, পেইন ৫, প্যাটিনসন ০, কামিন্স ৫, সিডল ৪৪, লায়ন ১২* ; অ্যান্ডারসন ০/১,  ব্রড ৫/৮৬, ওকস ৩/৫৮, স্টোকস ১/৭৭, মঈন ১/৪২, ডেনলি ০/৭)

ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ২ ওভারে ১০/০  ( বার্নস ৪*, রয় ৬*  ; কামিন্স ০/৩, প্যাটিনসন ০/৭)

Comments

The Daily Star  | English

Mirpur: From a backwater to an economic hotspot

Mirpur was best known as a garment manufacturing hub, a crime zone with rough roads, dirty alleyways, rundown buses, a capital of slums called home by apparel workers and a poor township marked by nondescript houses.

15h ago