জিম্বাবুয়েকে জয় উপহার দিয়ে বিদায় মাসাকাদজার

নানা সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট। আইসিসি থেকে তো তারা নিষিদ্ধই। অন্যদিকে আগের ম্যাচেই টানা জয়ের বিশ্বরেকর্ডটা সমৃদ্ধ করেছে আফগানিস্তান। দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলে রীতিমতো আকাশে উড়ছে দলটি। এমন পরিস্থিতি বেশ পিছিয়ে থেকেই মাঠে নেমেছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু মাঠে উল্টো দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নিল জিম্বাবুয়েই। আফগানদের ৭ উইকেটে হারিয়েছে দলটি। আর এ জয়ের মূলনায়ক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলতে নামা অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।
ছবি: ফিরোজ আহমেদ

নানা সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট। আইসিসি থেকে তো তারা নিষিদ্ধই। অন্যদিকে আগের ম্যাচেই টানা জয়ের বিশ্বরেকর্ডটা সমৃদ্ধ করেছে আফগানিস্তান। দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলে রীতিমতো আকাশে উড়ছে দলটি। এমন পরিস্থিতি বেশ পিছিয়ে থেকেই মাঠে নেমেছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু মাঠে উল্টো দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নিল জিম্বাবুয়েই। আফগানদের ৭ উইকেটে হারিয়েছে দলটি। আর এ জয়ের মূলনায়ক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলতে নামা অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।

এর আগে আফগানিস্তানের সঙ্গে আটবার মোকাবেলা করেছে জিম্বাবুয়ে। তার কোনটাতেই জয় পায়নি দলটি। নবম বারে এসে জয় পেলেন। আর জয় পেলেন ওই বিদায়ী অধিনায়কের হাত ধরে। এমনকি বিশ্বরেকর্ড গড়া আফগানদের জয়ের ধারাও থামালেন তারা। অধিনায়কও বিদায় নিলেন হাসি মুখে। তবে শেষ বেলায় কিছুটা আফসোস তারা করতেই পারে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সে ম্যাচে যদি সেদিন আফিফ হোসেন ধ্রুব অতিমানিবিক সে ইনিংস না খেলতেন। তাহলে ফাইনালের দৌড়ে খুব ভালোভাবেই টিকে থাকতে পারতেন তারা।

এদিন ব্যাট হাতে যখন মাঠে নামছিলেন মাসাকাদজা, দলের সব খেলোয়াড় তাকে গার্ড অব অনার দিলেন। শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন আফগান খেলোয়াড়রাও। যখন আউট হলেন তখনও শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন। তবে এর মাঝেই আর শেষটা রাঙাতে যা দরকার তার সবই করলেন মাসাকাদজা। ৭১ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি খেলে যখন বিদায় নিলেন তখন জয় থেকে আর ৪৬ রান দূরে জিম্বাবুয়ে। ৪৯ বলে শেষ ৮ উইকেট নিয়ে এ কাজটি খুব কঠিন ছিল না জিম্বাবুয়ের জন্য। আর সতীর্থরাও কোন অঘটনের জন্ম দেননি। মাসাকাদজার দেখানো পথে হেঁটেছেন তারা। চাকাভা ও শন উইলিয়ামসের ব্যাটে ৩ বল বাকী থাকতেই সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে দলটি।

ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংসটি স্মরণীয় করে রাখতে এদিন শুরু থেকেই বিধ্বংসী ছিলেন মাসাকাদজা। চার মেরেছেন ৪টি আর ছক্কা ৫টি। মাত্র ৪২ বলেই আসে তার ৭১ রান। ওপেনার ব্রান্ডন টেইলরের সঙ্গে ৪০ রানের জুটি, এরপর রেজিস চাকাভার সঙ্গে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৭০ রান। তাতে জয়ের শক্ত ভিত পেয়ে যায় দলটি। দারুণ ব্যাট করেছেন চাকাভাও। ৩২ বলে ৩৯ রান আসে তার ব্যাট থেকে। মুজিব উর রহমান ছাড়া আফগানদের আর কোন বোলার তেমন ঝামেলায় ফেলতে পারেননি জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যানদের। ২টি উইকেট নিয়েছেন এ অফস্পিনার।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেছিল আফগানিস্তান। ওপেনিং জুটিতেই আসে ৮৩ রান। মাঝে অবশ্য একবার রেজিস চাকাভার হাতে সহজ জীবন পেয়েছেন ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ। ব্যক্তিগত ৪১ রানে জীবন পাওয়া ব্যাটসম্যান এরপর করেছেন আরও ২০ রান। ৬১ রানের ইনিংসে সমান ৪টি চার ও ছক্কা মেরেছেন। কম যাননি আরেক ওপেনার হজরতুল্লাহ জাজাইও। ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩১ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

এক পর্যায়ের জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ১০৭ রান। তখনও ওভার বাকী ছিল ৭টি। এরপর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে। তার মূল কৃতিত্বটা অবশ্য ক্রিস্টোফার এমপফুর। শফিকুল্লাহকে আউট করে ম্যাচের মোর ঘুরিয়ে দেন তিনিই। এরপর তুলে নেন আরও ৩টি উইকেট। তাকে দারুণ সহযোগিতা করেন টিনোটেন্ডা মুটম্বোডজিও। ২টি স্বীকার তারও। তাতে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে আফগানিস্তান। আরও ৭টি উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৫ রানের স্কোর দ্বার করায় দলটি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১১৫/৮ (গুরবাজ ৬১, জাজাই ৩১, শফিকুল্লাহ ১৬, নজিবুল্লাহ ৫, নবি ৪, গুলবাদিন ১০, ফজল ১২, রশিদ ৯*, আসগর ০, দৌলত ০*; এনডিলভু ০/২৩, জার্ভিস ১/২৭, উইলিয়ামস ১/৩৪, এমপফু ৪/৩০, বার্ল ০/১৩, মাডজিভা ০/৬, মুটম্বোডজি ২/১৮)।

জিম্বাবুয়ে: ১৯.৩ ওভারে ১৫৬/৩ (টেইলর ১৯, মাসাকাদজা ৭১, চাকাভা ৩৯, উইলিয়ামস ২১*, মুটম্বোডজি ১*; মুজিব ২/২৮, দৌলত ১/২৭, গুলবাদিন ০/১৯, নবি ০/৪০, রশিদ ০/২৯, ফজল ০/১৩)।

ফলাফল: জিম্বাবুয়ে ৭ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ক্রিস্টোফার এমপফু (জিম্বাবুয়ে)।

Comments

The Daily Star  | English

Cabinet expansion: Seven fresh faces set to take oath

Seven fresh faces are going to take oath as new members of the cabinet as Prime Minister Sheikh Hasina is set to expand it today

15m ago