এফডিসির সারাদিন...

বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ভোটগ্রহণ বেশ সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হলো। কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু হয়নি।
FDC-Day.jpg
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ভোটগ্রহণ বেশ সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ভোটগ্রহণ বেশ সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হলো। কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু হয়নি।

সকাল সকাল ভোটার উপস্থিতি

সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কিছুটা আগেই এফডিসির ভেতরে এসে উপস্থিত হন সভাপতি প্রার্থী মৌসুমী, তার স্বামী নায়ক ওমর সানী, অপর পক্ষের সভাপতি প্রার্থী মিশা সওদাগর এবং অন্য প্রার্থীরা। প্রার্থীদের কেউ কেউ শুরুতেই ভোট প্রদান করেন। এক এক করে আসতে থাকেন ভোটাররা। তারকা ভোটাররা শুরু সময়ে ভোট দিতে না এলেও সমিতির অন্য সদস্যদের ভোট দিতে ঠিকই আসতে দেখা যায়। সকাল দশটার পর এফডিসির ভেতর সরব হয়ে উঠে শিল্পী, গণমাধ্যমকর্মী, পরিচালক সমিতির সদস্য, প্রযোজক সমিতির সদস্য, ক্যামেরাম্যান এসোসিয়েশনের সদস্যদের উপস্থিতিতে।

পরিচালকদের বাধা

অভিনয় শিল্পীদের চলচ্চিত্রে আসা হয় পরিচালকদের হাত ধরে। পরিচালকরাই ঠিক করেন কোন সিনেমায় কাকে নেবেন। অথচ সেই পরিচালকদেরই কী না এফডিসির ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। এই ঘটনা ঘটে সকাল এগারোটার কিছুটা পর। দেলোয়ার ঝন্টুর মতো খ্যাতিমান পরিচালক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির বর্তমান মহাসচিব বদিউল আলম খোকনকে এফডিসিতে প্রবেশের সময় প্রবেশপত্র দেখাতে বলা হয়। তারা এই ঘটনায় হতবাক হয়ে যান। কেননা এইরকম ঘটনা তাদের সিনেমা পরিচালনার ক্যারিয়ারে কখনও দেখা যায়নি। একইভাবে জনপ্রিয় নায়ক সোহেল রানাকেও ভেতরে প্রবেশ করার সময় বাঁধা দেওয়া হয়। এই খবর পেয়ে শিল্পীরা ছুটে গিয়ে তাকে ভেতরে নিয়ে আসেন।

ক্ষুব্ধ সোহেল রানা বলেন, “আমার এতো বছরের ক্যারিয়ারে এইরকম নির্বাচন কখনও দেখিনি।”

তারকাদের মিলনমেলা

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন মানেই তারকাদের মিলনমেলা। আজকের নির্বাচনও তারকাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিলো। একেবারে নতুন অভিনয়ে আসা তারকারা যেমন এফডিসির ভেতরে সকাল থেকে একত্রিত হয়েছিলেন, সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সব অভিনয় শিল্পীর উপস্থিতি বাড়তেই থাকে। দুপুর গড়ানোর পর নতুন পুরনো সব তারকা শিল্পীরা এফডিসির ভেতরে প্রবেশ করেন। কেউ খোশগল্পে মেতে উঠেন, কেউ স্মৃতির পাতায় ফিরে যান, কেউ আবেগে জড়িয়ে ধরেন, এমনটিই দেখা গেছে দিনভর। একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক ওয়াসিমকে এফডিসিতে দেখা যায় দুই বছর পর পর অনুষ্ঠিত শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। আজও ওয়াসিম এসেছিলেন ভোট দিতে। সিনিয়র অভিনেত্রী আনোয়ারা এসেছিলেন ভোটকে কেন্দ্র করে। ষাটের দশকের জনপ্রিয় নায়িকা সুচন্দা ভোট দিয়ে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করে বের হয়ে যান। ষাটের দশকের সাড়া জাগানো মিষ্টি মেয়ে খ্যাত নায়িকা করবীও এসেছিলেন ভোট দিতে। এরকম সব শিল্পীর আগমনে বড় একটি মিলনমেলায় পরিণত হয় এফডিসি।

FDC-Day-1.jpg
নির্বাচনে ভোট দিতে আসা শিল্পীরা। ছবি: সংগৃহীত

হিরো আলম এফডিসিতে

মিউজিক ভিডিও করে জনপ্রিয়তা পাওয়া হিরো আলম আজ অনেকটা সময় ছিলেন এফডিসিতে। তাকে ঘিরে ছিলো ভক্তদের সেলফি তোলার ব্যস্ততা।

খোলা জিপে এলেন অনন্ত জলিল

অনন্ত জলিল ও বর্ষা আজ এফডিসিতে ভোট দিতে এসেছিলেন বিকেলে। লাল রংয়ের খোলা জিপে তারা এফডিসিতে প্রবেশ করেন। ভোট দেওয়ার কিছু সময় পরই তারা এফডিসি ত্যাগ করেন।

পরিচালক সমিতিতে আড্ডা

এফডিসির ভেতরে অবস্থিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির ভেতরে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ছিল আড্ডা। এই আড্ডা এখনও চলছে। ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আড্ডা চলবেই। কেবল পরিচালকরা সেখানে আড্ডা দিচ্ছেন তা কিন্তু নয়। শিল্পীরাও সেখানে আছেন।

FDC-Day-2.jpg
জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের আগমনে বড় একটি মিলনমেলায় পরিণত হয় এফডিসি। ছবি: সংগৃহীত

মানুষ আর মানুষ

এফডিসির বাইরে আজকের মতো মানুষ খুব একটা দেখা যায়নি। সাধারণ দর্শকরা মূলত তারকাদের দেখতেই ভিড় করেন এফডিসির গেটে। কেউ কেউ ভেতরেও যেতে পারেন। সেভাবেই নির্বাচনের খবরটি সাধারণ মানুষরা জেনে যাবার পর সকাল থেকে ভিড় করেন এবং সেই ভিড় বিকাল বেলা ভোট শেষ হওয়ার পরও ছিলো। কোনো তারকার গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করতে দেখলেই সাধারণ মানুষরা শ্লোগান দেন। শাকিব খান যখন গেটে আসেন, সাধারণ মানুষেরা সমানে শ্লোগান দেওয়া শুরু করেন। অবশ্য সারা দিনে পুলিশকে বেশ কয়েকবার গেটে আসা দর্শকদের সরানোর জন্য অনুরোধ করতে হয়েছে।

ফলাফলের জন্য অপেক্ষা

বিকেল পাঁচটায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ৪৪৯টি ভোটের মধ্যে ৩৮৬টি ভোটগ্রহণ হয়েছে। এখন ভোটের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন সবাই। ভোটের ফলাফলের পরই দেখা যাবে আগামী দুই বছরের জন্য কারা আসছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে।

Comments

The Daily Star  | English
Civil society in Bangladesh

Our civil society needs to do more to challenge power structures

Over the last year, human rights defenders, demonstrators, and dissenters have been met with harassment, physical aggression, detainment, and maltreatment by the authorities.

8h ago