নারায়ণগঞ্জে ৪ তলা ভবন ধসে স্কুলছাত্র নিহত

নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল এলাকায় চার তলা একটি ভবন ধসে পড়েছে। রোববার বিকেলে ওই ভবনটি ধসে পড়ে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল এলাকায় একটি ভবন ধসে খালের ওপর গিয়ে পড়েছে। ছবি: সনদ সাহা/স্টার

নারায়ণগঞ্জ শহরে খালের উপর নির্মিত একটি চারতলা ভবন হেলে পড়ে মো. সোহায়ের (১০) নামে স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছে আরও এক স্কুলছাত্র। এছাড়াও, আহত অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ (৩ নভেম্বর) বিকাল সোয়া চারটায় শহরের বাবুরাইল এলাকার এইচএম ম্যানশনে এ ঘটনা ঘটে। রাত পৌনে ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখার পর্যন্ত নিখোঁজ স্কুলছাত্রকে উদ্ধারে দমকল বাহিনীর ডুবুরিদল তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় লোকজন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সিটি করপোরেশনের কর্মীরাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।

দমকল বাহিনীর পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদককে জানানো হয়, প্রয়োজনে আজ সারারাত উদ্ধার কাজ চলবে।

নিহত সোহায়ের শহরের উত্তর গোয়ালবদ্দ এলাকার মৃত শাহাবউদ্দিনের ছেলে। সে স্থানীয় সানরাইজ মডেল স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। এছাড়াও, নিখোঁজ স্কুলছাত্র হলো একই এলাকার রুবেল মিয়ার ছেলে মো. ওয়াজিদ (১০)। নিহত ও নিখোঁজ দুজন খালাতো ভাই। ওই একই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন, বাড়ির মালিক বাবু মিয়ার স্ত্রী রুনা বেগম (৩৫), ভাড়াটিয়া সোনিয়া আক্তার (২৫), ওই বাড়ির মালিকের আত্মীয় মো. ইউসুফ (২৫), অনিক মির্জা (২৩), স্থানীয় বাসিন্দা স্বপ্না (১০)।

স্থানীয়রা জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরের ১নং বাবুরাইল এলাকায় এইচ এম ম্যানসন নামে মৃত রউফ মিয়ার চার সন্তান মিলে ১০ থেকে ১২ বছর আগে তিনতলা ভবনটি নির্মাণ করেন। চারতলা নির্মাণের কাজ চলছিলো। ওই ভবনের তৃতীয় তলায় রউফ মিয়ার বড় ছেলে আজহার উদ্দিন, দ্বিতীয় তলায় মেয়ে শিউলি বেগম ও নিচতলায় অপর দুই ছেলে সুমন এবং বাবু পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। সেখানে আরেকটি কক্ষে সোনিয়া আক্তার নামের একজন ভাড়া থাকতেন। তিনি আরবি পড়ান। ভবনটি মূলত একটি খালের উপর নির্মাণ করা হয়। ঠিকমত পাইলিং করা হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়রা আগেই ভবন মালিককে সতর্ক করেছিলেন।

প্রতিবেশী সাহিদা বেগম বলেন, আজহার উদ্দিনের এক মামাতো বোনের বিয়ে থাকার কারণে দুপুরে সবাই সেখানে চলে যান। ফলে পুরো ভবন ছিলো মূলত ফাঁকা। নিচতলার ভাড়াটিয়া সোনিয়ার বাসায় সোহায়ের ও ওয়াজিদসহ কয়েকজন বিকালে সোনিয়ার কাছে আরবি পড়তে এসেছিলো।

আজ বিকাল সোয়া ৪টার দিকে হঠাৎ ভবনটি খালের উপর ধসে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ও দমকল বাহিনীর কর্মীরা এসে ছয়জনকে উদ্ধার করেন।

এছাড়াও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জসিমউদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ বারিকসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নারায়ণগঞ্জ দমকল বাহিনীর উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আরেফিন জানান, বিকাল সোয়া ৪টায় হঠাৎ করে একটি চার তলা ভবন হেলে খালের মধ্যে পড়ে। বাহিনীর আটটি দল উদ্ধার কাজ শুরু করে। একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও, আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবনটি হেলে খালে পড়ায় নিচতলার কয়েকটি রুম পানিতে তলিয়ে গেছে। আর এর মধ্যে ওয়াজিদ নামে এক স্কুলছাত্র নিখোঁজ রয়েছে দাবি করেছে স্বজনদের। তাকে উদ্ধারে ডুবুরি দল তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।

ভবন হেলে পড়ার কারণ হিসেবে আব্দুল্লাহ আরেফিন বলেন, “আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ভবনটি খালের উপর নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে ভবনের পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। এছাড়াও, ভবন তৈরিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাণ আইন মানা হয়নি। এসব কারণেই ভবনটি হেলে পড়েছে। তবে এর সঠিক ও বিস্তারিত তথ্য রাজউক প্রকৌশলীরা বলতে পারবেন।”

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “মৃত অবস্থায় একজন এসেছে। চারজন চিকিৎসা শেষে বাসায় চলে গেছে। সোনিয়া আহত হয় নাই। তবে অনেক ভয় পাওয়ায় সে আতঙ্কে আছে। তাকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।”

খবর পেয়ে সন্ধ্যা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: জসিম উদ্দিন, র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল কাজী শামসের উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ বারিক এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, ঘটনাস্থল থেকে সোয়েব নামের এক স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু, কাউকে আটক করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, ভবনটি একেবারে পুরনো এবং খালের পাড়ে ছিলো বলেই ধসে পড়েছে। একজন মারা গেছে ও পাঁচজন আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। ধসে পড়া ভবনের স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী একজন শিশু এখনো নিখোঁজ আছে। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

এছাড়াও, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত শিশুর পরিবারকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

“এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হবে। কার ব্যর্থতার জন্য ভবনটি ধসে পড়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।

আরও পড়ুন:

‘আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে’

Comments

The Daily Star  | English

Dhaka getting hotter

Dhaka is now one of the fastest-warming cities in the world, as it has seen a staggering 97 percent rise in the number of days with temperature above 35 degrees Celsius over the last three decades.

6h ago