খেলা

লিটন-আফিফের ওপেনিং জুটিই বিপিএলের সেরা

দুজনের একজন নিয়মিত ওপেনার নন। কিন্তু লিটন দাস-আফিফ হোসেনের জুটিটা জমে গেছে বেশ। নামকরা সবাইকে ছাপিয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে তাদের রসায়নই হয়ে উঠেছে সেরা। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই রাজশাহী রয়্যালসকে তারা এনে দিচ্ছেন দুরন্ত শুরু।
afif and liton
ছবি: ফিরোজ আহমেদ

দুজনের একজন নিয়মিত ওপেনার নন। কিন্তু লিটন দাস-আফিফ হোসেনের জুটিটা জমে গেছে বেশ। নামকরা সবাইকে ছাপিয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে তাদের রসায়নই হয়ে উঠেছে সেরা। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই রাজশাহী রয়্যালসকে তারা এনে দিচ্ছেন দুরন্ত শুরু।

সিলেট পর্ব শেষে টুর্নামেন্টে ওপেনিং জুটিতে সবচেয়ে সফল রাজশাহী। প্রথম তিন ম্যাচে লিটনের সঙ্গে ওপেনিং করেছিলেন হজরতউল্লাহ জাজাই। টিম কম্বিনেশনের কারণে তিনি বাদ পড়ায় আফিফকে নামতে হয় ওপেনিংয়ে। এরপর থেকে টানা সাত ম্যাচে ওপেন করেছেন লিটন ও আফিফ। তাতে ৫০.২৮ গড়ে ৩৫২ রান তাদের।

সাত ইনিংসের পাঁচটাতেই তাদের জুটি এনেছে পঞ্চাশের বেশি রান। প্রতি ম্যাচেই পাওয়ার প্লে কাজে লাগিয়ে ঝড় তুলছেন দুজন। খেলেছেন বাহারি সব স্ট্রোক। ভুগিয়েছেন প্রতিপক্ষ বোলারদের।

আর কোনো দলই অবশ্য ওপেনিং জুটিটা থিতু করতে পারেনি। ঢাকা প্লাটুনের হয়ে তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয় নিয়মিত ওপেন করলেও ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগছে তাদের জুটি। খুলনা টাইগার্স প্রায় প্রতি ম্যাচে আনছে ওপেনিংয়ে বদল। নানা কারণে ওপেনিংয়ে ওলট-পালট করতে হচ্ছে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স, রংপুর রেঞ্জার্সকেও। ওপেনিং থেকে মিডল অর্ডার সবখানেই বিপর্যস্ত সিলেট থান্ডার তো হিসেবেরই বাইরে!

সিলেট পর্বের শেষ ম্যাচেও পাওয়ার প্লের মধ্যে ৫৯ রানের ঝড়ো ওপেনিং জুটি পান লিটন-আফিফ। ম্যাচ জিতিয়ে আসার পর লিটনের সঙ্গে ওপেনিং জমে যাওয়ার কারণ হিসেবে আফিফ জানান তাদের পোক্ত রসায়নের কথা, ‘লিটন ভাই আর আমি অনেক আগে থেকেই একসঙ্গে খেলি। আর (গত বিপিএলে) সিলেট সিক্সার্সেও একসঙ্গে খেলেছি। সেখানেও ওপেন করেছি দুজন। ওখান থেকেই আমাদের বোঝাপড়াটা খুবই ভালো। যে কারণে এখানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

এখন পর্যন্ত এবারের টুর্নামেন্টের রান সংগ্রাহকদের তালিকার শীর্ষ দশে আছেন লিটন ও আফিফ। দশ ম্যাচের নয় ইনিংসে ব্যাট হাতে নেমে বাঁহাতি আফিফের সংগ্রহ ৩০৬ রান। গড় ৩৪.০০ ও স্ট্রাইক রেট ১৩৬.৬০। তিনি আছেন আট নম্বরে। তার ঠিক পরেই আছেন ডানহাতি লিটন। দশ ম্যাচের প্রতিটি ইনিংসে ব্যাটিং করে ৩২.৩৩ গড়ে তার সংগ্রহ ২৯১ রান। স্ট্রাইক রেট ১৩৯.২৩।

দুজনের দুর্দান্ত শুরু রাজশাহীর ব্যাটিং লাইনআপের পরের দিকের ব্যাটসম্যানদের কাজটা সহজ করে দিচ্ছে। যার প্রমাণ মিলছে পয়েন্ট তালিকাতেও। দশ ম্যাচের সাতটিতে জিতে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে বিপিএলের শীর্ষে রয়েছে রয়্যালস।

Comments