বই ফেরি করা সেই লেখক পেলেন প্রকাশক

শেষ পর্যন্ত প্রকাশক খুঁজে পেলেন ৮৬ বছর বয়সী লেখক ড. ফয়জুর রহমান আল সিদ্দিক। প্রায় ২০ বছর ধরে নিজের লেখা বই নিজেই স্টলে দিয়ে আসছিলেন তিনি।
বইমেলায় ড. ফয়জুর রহমান আল সিদ্দিকের এই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ছবি: সংগৃহীত

শেষ পর্যন্ত প্রকাশক খুঁজে পেলেন ৮৬ বছর বয়সী লেখক ড. ফয়জুর রহমান আল সিদ্দিক। প্রায় ২০ বছর ধরে নিজের লেখা বই নিজেই স্টলে দিয়ে আসছিলেন তিনি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিটি দেখে নগদ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি প্রকাশনা সংস্থা ‘বাংলা প্রকাশ’ থেকে বই প্রকাশের ব্যবস্থা করে দেন।

বাংলা প্রকাশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শরিফুল আলম জানান, “বাঙালির সাফল্য ও ব্যর্থতা” বইটি আগামী সপ্তাহ থেকে বইমেলায় তাদের স্টলে পাওয়া যাবে।

“বইটি পড়ার পর  আমি বুঝতে পারি যে এটি বইপ্রেমীদের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছানো উচিত।”

দ্য ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) প্রাক্তন এই গবেষককে নিয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ব্যাগ কাঁধে বই হাতে মেলায় স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন একজন বৃদ্ধ- এমন একটি ছবি গত ৯ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে আলোচনায় আসেন লেখক এবং তার বই।

ড. ফয়জুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ২০০০ সালে পরমা পাবলিকেশন থেকে তার ৫০০ কপি বই বিক্রি হয়। এরপরে প্রকাশক সেই বইটির আর কোনো সংস্করণ প্রকাশ করেননি। 

তিনি বলেন, কোনো প্রকাশনার সংস্থা খুঁজে না পেয়ে আমি প্রতিবছর ফটোকপি মেশিন ব্যবহার করে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কপি বই ব্যক্তিগতভাবে ছাপিয়ে বইমেলায় বিক্রি করেছি। 

পু্ঁথিনিলয় প্রকাশনা স্টলে কয়েক কপি বই দিয়েছেন বলে জানান তিনি। 

“বইটিতে আমাদের অর্জন এবং ব্যর্থতাগুলো দেখাতে চেয়েছি। কোনো জাতি যদি তাদের ভুল সম্পর্কে না জানে তবে কখনোই তারা ভুল শুধরে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে না। তাই আমাদের ভুলগুলো জানা জরুরি।”

১৯৩৪ সালে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন সিদ্দিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করেন তিনি। বইয়ের লেখক পরিচিতি থেকে যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি করেন বলে জানা যায়।

Comments

The Daily Star  | English

Finance is key to Bangladesh’s energy transition

Bangladesh must invest more in renewable energy and energy efficiency to reduce fossil fuel imports to reverse the increasing trajectory of the subsidy burden.

9h ago