অভিষেকে হ্যাটট্রিকসহ চার গোল বার্কোসের, বসুন্ধরার উড়ন্ত সূচনা

বসুন্ধরা কিংসের হয়ে প্রথমবার মাঠে নেমেই হ্যাটট্রিকসহ চার গোল করেছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার।
hernan barcos
ছবি: সংগৃহীত

‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম’। হার্নান বার্কোসের পারফরম্যান্সকে সহজ ভাষায় সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের বিখ্যাত উক্তিটিই হতে পারে যথোপযুক্ত।

বসুন্ধরা কিংসের হয়ে প্রথমবার মাঠে নেমেই হ্যাটট্রিকসহ চার গোল করেছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার। তার অনবদ্য নৈপুণ্যে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসকে বিধ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দুর্দান্ত জয়ে এএফসি কাপে নিজেদের অভিষেক আসরে শুভ সূচনা করেছে অস্কার ব্রুজোনের শিষ্যরা।

বুধবার (১১ মার্চ) বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘ই’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে টিসি স্পোর্টসের বিপক্ষে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে বসুন্ধরা কিংস।

ম্যাচের প্রথমার্ধে দুবার লক্ষ্যভেদ করা দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকার বার্কোস বিরতির পর আরও দুবার বল জালে পাঠান। অন্য গোলটি করেন স্বাগতিক দলের অধিনায়ক ড্যানিয়েল কলিনদ্রেস। অতিথিদের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ইয়াসা ইসমাইল।

ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই টিসি স্পোর্টসের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় বসুন্ধরা। দলটির আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা হানা দিতে থাকেন প্রতিপক্ষের রক্ষণে। আধিপত্য ধরে রেখে ১৮তম মিনিটে এগিয়ে যায় দলটি। অধিনায়ক কলিনদ্রেসের ক্রসে হেড করে লক্ষ্যভেদ করেন বার্কোস।

পিছিয়ে পড়ে দমে না গিয়ে উল্টো উজ্জীবিত হয়ে ওঠে টিসি। তিন মিনিটের মধ্যে সমতায়ও ফেরে তারা। মালদ্বীপের স্ট্রাইকার ইয়াসার পেনাল্টি কিক রুখে দিয়েছিলেন বসুন্ধরার গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। কিন্তু পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ফিরতি শট নেন ইয়াসা। বল জিকোর হাতে লেগে জড়ায় জালে।

bashundhara kings
ছবি: সংগৃহীত

পরের মিনিটেই অবশ্য এগিয়ে যেতে পারত স্বাগতিকরা। ২০১৮ বিশ্বকাপে কোস্টারিকার হয়ে খেলা ফরোয়ার্ড কলিনদ্রেসের শট বাইরের জালে গিয়ে লাগে। চার মিনিট পর ঠিকই গোল পেয়ে যায় বসুন্ধরা। বিপলু আহমেদের ক্রসে নিখুঁত হেডে নিশানা খুঁজে নিয়ে ফের সমর্থকদের উল্লাসে মাতান বার্কোস।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাচে ফেরার দারুণ এক সুযোগ নষ্ট করেন টিসি স্পোর্টসের ইয়াসা। স্পট কিক থেকে জিকোকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন তিনি। পরের গল্পটা কেবলই বসুন্ধরার উল্লাসের।

৬৮তম মিনিটে কলিনদ্রেস ডি-বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বসুন্ধরা। সফল স্পট কিকে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন বার্কোস। আট মিনিট পর ম্যাচের ভাগ্য একরকম নির্ধারণ করে দেন দলনেতা কলিনদ্রেস। বিশ্বনাথ ঘোষের ক্রসে হেড করে স্কোরলাইন ৪-১ করেন তিনি।

শেষ বাঁশি বাজার কিছুক্ষণ আগে ম্যাচে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন বার্কোস। টিসি স্পোর্টসের গোলরক্ষক সাকিব হানিফের মাথার উপর দিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন এই আর্জেন্টাইন।

এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা ক্লাব আসর এএফসি কাপে এবারই প্রথম অংশ নিচ্ছে বসুন্ধরা। টিসি স্পোর্টস ছাড়া ‘ই’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ মালদ্বীপের মাজিয়া ও ভারতের চেন্নাই সিটি। আগামী ১৪ এপ্রিল দ্বিতীয় ম্যাচে মাজিয়ার মুখোমুখি মাঠে খেলতে নামবেন বার্কোস-কলিনদ্রেসরা।

Comments