নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্ত নারীর মৃত্যু, মরদেহ নিতে আসেনি কেউ

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকার করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা কেন্দ্র ৩০০ শয্যা হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে, তার মৃত্যুর খবর পেয়েও স্বামী বা পরিবারের কেউ মরদেহ নিতে আসেনি।
স্টার অনলাইন গ্রাফিক্স

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকার করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা কেন্দ্র ৩০০ শয্যা হাসপাতালের  আইসোলেশনে থাকা এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে, তার মৃত্যুর খবর পেয়েও স্বামী বা পরিবারের কেউ মরদেহ নিতে আসেনি।

আজ রবিবার ওই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায় দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘শনিবার রাতে ওই নারী আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত ২৮ এপ্রিল তিনি করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর থেকে এখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার জ্বর, ঠাণ্ডা ও শ্বাসকষ্টসহ করোনার সব উপসর্গ ছিল। তিনি অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা পরে জানানো হবে।’

ডা. গৌতম রায় আরও বলেন, ‘ওই নারীর মৃত্যুর খবর রাতে স্বজনদের জানানো হলে আজ দুপুর পর্যন্ত কেউ মরদেহ নিতে আসেনি। পরে মরদেহের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদর থানা পুলিশ ও সিটি করপোরেশনকে জানানো হয়।’

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোকসানা বলেন, ‘মৃত নারীর মরদেহ স্থানীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে দাফনের জন্য বলা হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু বলেন, ‘আইসোলেশনে মারা যাওয়া নারী চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা। আজ বিকালে পুলিশের কাছ থেকে আমি মৃত্যুর খবর পেয়েছি। পরে আমরা পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু বার বার ফোন দিয়েও ফোন বন্ধ পাই। তাছাড়া হাসপাতালের রেজিস্টারেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে। এ কারণে সিটি করপোরেশনের লাশ দাফনকারী দলের সহযোগিতায় আমি নিজেই মৃতদেহ দাফনের উদ্যোগ নিয়েছি। লাশ দাফনের প্রক্রিয়া চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মরদেহ থেকে করোনা ভাইরাস ছাড়ায় না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। কিন্তু তারপরও স্বজনরা কেউ না আসায় বিষয়টি দুঃখজনক।’

Comments