বেদম পিটুনি খেয়ে সৌম্যকে আউট করার চিন্তা বাদ দেন তাইজুল

মাঠের মূল লড়াইয়ে দুই দেখায় দুবারই তামিমকে আউট করেছিলেন তাইজুল। কিন্তু সৌম্যের বেলায় তার আছে তিক্ত স্মৃতি। আউট করা তো দূরে থাক, ছয় হজম করা থেকে কীভাবে বাঁচবেন, তা ভেবেই না-কি কূল পান না তাইজুল!
Soumya Sarkar & Taijul Islam

বাংলাদেশের হয়ে খেলার সময় তো এক দলেই খেলেন। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেট আর অনুশীলন নেটে তাইজুল ইসলামকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পান তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকাররা। নেটে সবার হাতেই বেদম মার খেলেও মাঠের মূল লড়াইয়ে দুই দেখায় দুবারই তামিমকে আউট করেছিলেন তাইজুল। কিন্তু সৌম্যের বেলায় তার আছে তিক্ত স্মৃতি। আউট করা তো দূরে থাক, ছয় হজম করা থেকে কীভাবে বাঁচবেন, তা ভেবেই না-কি কূল পান না তাইজুল!

শনিবার তামিমের সরাসরি অনলাইন আড্ডার অতিথি ছিলেন সৌম্য, লিটন দাস আর বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক। তবে আড্ডার এক পর্যায়ে সারপ্রাইজ অতিথি হিসেবে যোগ দেন তাইজুল।

আড্ডা এরপর রূপ নেয় ভিন্ন মেজাজে। নেটে সবার হাতে অহরহ মার খাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তামিম জিজ্ঞেস করেন, ‘তাইজুল তোরে নিয়ে মজার কাহিনী হলো, নেটে মনে হয়, তোরে আমরা সবচেয়ে বেশি পিটাই। নেটে তোর চেয়ে বেশি ছয় পৃথিবীতে কেউ খায়নি। আমি তো নেটেই মারতে পারি তোরে, ম্যাচে কোনোদিন মারতে পারিনি। দুইবারই এসেছিলি, দুবারই আমি আউট হয়েছি। কিন্তু তোর উপরে (স্ক্রিনের উপরে) যে বসে আছে সৌম্য সরকার, তাকে তোর বল করতে সমস্যা হয়, না-কি?’

প্রথমে তামিমের প্রতি টিপ্পনী কেটে তাইজুল বলেন, ‘নেটে তো আমি সবার কাছেই মার খাই। এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। ম্যাচ খেলতে গেলে অনেকজনই আছে, ফাটায়ে ফেলব, হম্বিতম্বি করে। কিন্তু হয়তোবা (বল) হাতেই যায় (হাসি)।’

তামিম তখন বলেন, ‘নাম ধরে বল, (নিজেকে উদ্দেশ্য করে) আমি আমি।’ তাইজুলও হেসে জবাব দেন, ‘যাই হোক, বুঝতে পারছেন।’

এরপরই আসে সৌম্য প্রসঙ্গ। বাঁহাতি সৌম্যকে বল করতে গেলেই সবকিছু গোলমাল লেগে যাওয়ার কারণ জানান তাইজুল, ‘সৌম্যের বিষয়ে আসলে বলব... জাতীয় লিগ বলেন, প্রিমিয়ার লিগ বলেন... পাঁচ-ছয়টা করে থাকে। মানে ছক্কা থাকে আরকি (হাসি)।’

তামিম কারণ জানতে চাইলে প্রিমিয়ার লিগের স্মৃতি স্মরণে আসে তাইজুলের, ‘একটা মজার ঘটনা বলি। গত প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীতে সৌম্য খেলতেছে, আমি শেখ জামালে। তখন সৌম্য অলরেডি দুইটা-তিনটা ছয় মেরে দিছে। তো একটা সময়ে ও ডাউন দ্য উইকেটে আসছে, আমি টেনে দিয়েছি। ও শুয়ে মারছে। ওটাও ছয় হয়ে গেছে। আমি তখন মনে করেছি, না সৌম্য আর (আউট) হইল না আমার দ্বারা! এমনি বল করে যাই। তারপর থেকে সৌম্য যখন আসে, আমি শুধু বলই করি, আউট করার চিন্তা করি না।’

তাইজুল যে ম্যাচের কথা বলছিলেন, সে ম্যাচে সৌম্য গড়েন রেকর্ড। শেখ জামাল ধানমন্ডির বিপক্ষে ১৪৯ বলে ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছেছিলেন তিনি। যা লিস্ট ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরি। সেদিন ১৫৩ বলের ইনিংসে ১৪ চার আর ১৬ ছক্কায় ২০৮ রান করেন সৌম্য।

Comments

The Daily Star  | English
irregular migration routes to Europe from Bangladesh

To Europe via Libya: A voyage fraught with peril

An undocumented Bangladeshi migrant worker choosing to enter Europe from Libya, will almost certainly be held captive by armed militias, tortured, and their families extorted for lakhs of taka.

21h ago