প্রবাস

স্লোভেনিয়ায় উচ্চশিক্ষা ও অভিবাসনের আদ্যোপান্ত

‘স্লোভেনিয়া’ দেশটি এখন পর্যন্ত সে অর্থে হয়তো আমাদের দেশের মানুষের কাছে পরিচিত নয়। তাই শুরুতে সংক্ষিপ্তভাবে দেশটির একটি পরিচিতি তুলে ধরার চেষ্টা করি। আবার আমাদের দেশের অনেক মানুষ ‘স্লোভেনিয়া’ এবং ‘স্লোভাকিয়া’ এ দুটি দেশকে অনেক সময় এক করে ফেলেন। কিন্তু আদতে এ দুটি একই রাষ্ট্র নয়।
Rakib Hasan.jpg
ইউনিভার্সিটি অব নোভা গোরিছার ফটকে রাকিব হাসান। ছবি: সংগৃহীত

‘স্লোভেনিয়া’ দেশটি এখন পর্যন্ত সে অর্থে হয়তো আমাদের দেশের মানুষের কাছে পরিচিত নয়। তাই শুরুতে সংক্ষিপ্তভাবে দেশটির একটি পরিচিতি তুলে ধরার চেষ্টা করি। আবার আমাদের দেশের অনেক মানুষ ‘স্লোভেনিয়া’ এবং ‘স্লোভাকিয়া’ এ দুটি দেশকে অনেক সময় এক করে ফেলেন। কিন্তু আদতে এ দুটি একই রাষ্ট্র নয়।

স্লোভেনিয়া মধ্য ইউরোপে অবস্থিত ৭৮২৭.৪ বর্গমাইলের ছোট একটি রাষ্ট্র। দেশটি আয়তনে যেমন খুব বেশী বড় নয়, ঠিক তেমনি সেখানে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও খুব বেশী নয়। প্রায় একুশ লাখের কাছাকাছি জনসংখ্যাবিশিষ্ট মধ্য ইউরোপের এ দেশটির উত্তরে অস্ট্রিয়া, পশ্চিমে ইতালি, উত্তর-পূর্বে হাঙ্গেরি, দক্ষিণ-পূর্বে ক্রোয়েশিয়া এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের উপকূল দ্বারা বেষ্টিত। ইউরোপের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চল- আল্পস পর্বতমালা, প্যানোনিয়ান প্লেট, ভূ-মধ্যসাগর এবং ডিনারেইডসের মিলন ঘটেছে এ স্লোভেনিয়াতে এসে।

লুবলিয়ানা দেশটির রাজধানী এবং বৃহত্তম শহর। স্লোভেনিয়া এক সময় লিবারেল কমিউনিজমের ভিত্তিভূমি হিসেবে পরিচিত প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়ার অংশ ছিল। ১৯৯১ সালের ২৫ জুন সর্বপ্রথম কোনো রাষ্ট্র হিসেবে স্লোভেনিয়া যুগোস্লাভিয়ার জোট থেকে বের হয়ে আসে এবং নিজেদের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়া সেসময় স্লোভেনিয়ার স্বাধীনতার এ দাবিকে অস্বীকার করে। শুরু হয় যুদ্ধের, যা দশদিন স্থায়ী হয়েছিল, এজন্য ইতিহাসে স্লোভেনিয়ার এ স্বাধীনতা যুদ্ধকে দশ দিনের যুদ্ধ নামেও ডাকা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি ছিল ইউরোপ মহাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো সংগঠিত যুদ্ধ যেখানে ৭৬ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। তাই স্লোভেনিয়াকে অপেক্ষাকৃতভাবে নতুন একটি রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দিলেও ভুল হবে না। তবে স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটি অর্থনৈতিক, সামাজিকসহ যাবতীয় ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করতে থাকে। ২০০৪ সালে স্লোভেনিয়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্যপদ লাভ করে এবং ২০০৭ সালে টোলারের বদলে ইউরো দেশটির জাতীয় মুদ্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। এক সময় কমিউনিজম শাসনের প্রচলন ছিল এমন রাষ্ট্রের মধ্যে স্লোভেনিয়াই সর্বপ্রথম ইউরোর ব্যবহার শুরু করে। ব্রাউন বিয়ার, বিভিন্ন ধরণের সুউচ্চ পর্বতমালা বিশেষ করে আল্পস পর্বতমালা ও বিভিন্ন হৃদ ও স্কি রিসোর্টের জন্য স্লোভেনিয়া পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল।

যদিও দেশটি বলতে গেলে নতুন একটি রাষ্ট্র, তবুও শিক্ষাক্ষেত্রে দেশটির অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। স্লোভিন দেশটির মানুষের প্রধান ভাষা হলেও দেশটির সর্বত্র প্রায় সবাই ইংরেজি বলতে পারেন। ইফ ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সি ইনডেক্স অনুযায়ী স্লোভেনিয়ার স্কোর ৬৪.৪৮, যা সারা পৃথিবীর মধ্যে নবম এবং এক সময় কমিউনিজম শাসন ব্যবস্থার প্রচলন ছিল এমন দেশগুলোর মধ্যে প্রথম। নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, অস্ট্রিয়ার পরপরই স্লোভেনিয়ার অবস্থান।

ইউনিভার্সিটি অব লুবলিয়ানা, ইউনিভার্সিটি অব মারিবোর, ইউনিভার্সিটি অব নোভা গোরিছা, ইউনিভার্সিটি অব প্রিমরস্কা দেশটির উল্লেখযোগ্য কিছু বিশ্ববিদ্যালয়। এদের মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব লুবলিয়ানা এবং ইউনিভার্সিটি অব মারিবোর আন্তর্জাতিক যেকোনো সূচকে সারা পৃথিবীর প্রথম পাঁচশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে স্থান পেয়েছে। আমাদের দেশ থেকে যখন কেউ বাহিরের কোনো দেশে আসার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে, প্রথমে তার মাথায় যে জিনিসটি কাজ করে তা হলো ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যারিয়ার এবং এ ক্ষেত্রে স্লোভেনিয়া অনেকটাই নমনীয়, কেননা স্লোভেনিয়ার প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর, মাস্টার্স কিংবা পিএইচডি সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডিগ্রি প্রোগ্রাম পাওয়া যায় ইংরেজিতে এবং এখনও ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় স্লোভেনিয়াতে অনেক কম খরচে পড়াশুনা করা যায়। স্লোভেনিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর কিংবা মাস্টার্সসহ যেকোনো লেভেলে পড়াশুনা করতে হলে এক বছরে ২,৮০০ ইউরো থেকে ৪,০০০ ইউরোর মতো টিউশন ফির প্রয়োজন এবং দেশটির জীবনযাত্রার ব্যয়ও ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে অনেক কম। কিছু কিছু ইউনিভারসিটিতে কিছু নির্দিষ্ট সাবজেক্টের ক্ষেত্রে এক বছরে ৮০০০ ইউরো টিউশন ফির প্রয়োজন হতে পারে।

আবার আমাদের দেশ থেকে যারা উচ্চ শিক্ষার জন্য বাহিরে আসতে চান অনেকের মধ্যেই খণ্ডকালীন কাজের চিন্তা-ভাবনা কাজ করে এবং এ ক্ষেত্রেও স্লোভেনিয়া অনেকটা নমনীয়। ‘এম জব সার্ভিস’ এবং ‘ই-স্টুডেন্টস্কি সার্ভিস’ নামে দুটি অর্গানাইজেশন রয়েছে, যারা শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজের ব্যাপারে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে থাকে এবং এ দুটি অর্গানাইজেশন স্লোভেনিয়ার প্রায় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্বারা স্বীকৃত। এ ছাড়াও, শিক্ষার্থীদের জন্য আরও রয়েছে ‘বনি বা সাবসিডাইজড মিল’ এবং ‘সাবসিডাইজসড বাস সার্ভিস’ নামে আরও দুটি বিশেষ পরিষেবা, যেখানে আপনি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে অনেকটা সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার কিংবা গণপরিবহন ব্যবহারের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

স্লোভেনিয়ার বেশীরভাগ ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করতে হলে আপনাকে (https://portal.evs.gov.si/prijava/?lang=en) লিঙ্কে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে অ্যাপলিকেশন আরম্ভ করতে হবে। প্রত্যেক বছর ফেব্রুয়ারি থেকে অ্যাডমিশনের জন্য অ্যাপলিকেশন গ্রহণ করা শুরু হয় এবং জুন মাস পর্যন্ত অ্যাপলিকেশনের সময়সীমা থাকে। সাধারণত প্রত্যেক বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সেশনের জন্য অ্যাপলিকেশন গ্রহণ করা হয়, তবে কদাচিৎ কিছু কিছু ইউনিভার্সিটিতে কিছু নির্দিষ্ট সাবজেক্টের জন্য ফেব্রুয়ারি-মার্চ সেশনের জন্যও অ্যাপলিকেশন নেওয়া হয়। প্রত্যেক বছরের অক্টোবর মাস থেকে স্লোভেনিয়ার বেশীর ভাগ ইউনিভার্সিটিগুলোতে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।  অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে যাওয়ার পর আপনাকে ‘Academic Year’ এবং আপনার পছন্দের ইউনিভার্সিটি ও পছন্দের সাবজেক্ট সিলেক্ট করে একটা অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন ফরম পূরণ করতে হবে। সেখানে আপনার পার্সোনাল ডিটেইলস চাওয়া হবে। স্লোভেনিয়ার ইউনিভার্সিটিগুলোতে অ্যাপ্লিকেশন করার ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো ধরণের অ্যাপলিকেশন ফী নেওয়া হয় না।

অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন ফরম পূরণ করা হয়ে গেলে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর কাছে একটি ই-মেইল পাঠানো হয় এবং এ ই-মেইলে অ্যাটাচমেন্ট হিসেবে একটি পিডিএফ ফাইল দেখতে পাওয়া যায়। এ পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করতে হবে এবং পরে সেটিকে প্রিন্ট আউট করে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর একটি স্বাক্ষর প্রদান করতে হয়। অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন ফরম পূরণ করার কয়েক দিনের মধ্যে অ্যাপ্লিকেশন পূরণ করার সময় যে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছিল সে ঠিকানায় ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডমিশন অফিসের পক্ষ থেকে একটি চিঠি পাঠানো হবে। এরপর সে চিঠিতে উল্লেখিত ঠিকানায় প্রিন্ট আউট করা উক্ত পিডিএফ ফাইলের কপি কুরিয়ার সহযোগে ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডমিশন অফিসে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সঙ্গে আরও যে সকল ডকুমেন্ট সংযুক্ত করতে হবে- 

১. সব অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট এবং ট্রান্সক্রিপ্টের অরিজিনাল কপি।

২. সব অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট এবং ট্রান্সক্রিপ্টের এক সেট সত্যায়িত কপি।

৩. যেকোনো ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সি সার্টিফিকেটের কপি। 

এ ছাড়াও, মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য যদি কেউ আবেদন করে থাকেন তার ক্ষেত্রে অনেক সময় সিভি, মোটিভেশনাল লেটার, এমনকি ব্যাচেলরের কোর্স ডিসক্রিপশনও চাওয়া হতে পারে।

বাংলাদেশের সার্টিফিকেট কিংবা মার্কশিটের কিংবা অন্য কোনো ধরণের ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে অনেক সময় স্লোভেনিয়ার মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স থেকে লিগালাইজেশন করতে বলা হয়। স্লোভেনিয়ার মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স থেকে বাংলাদেশি কোনো ডকুমেন্ট লিগালাইজেশন করার শর্ত হচ্ছে প্রথমে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাতে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে সেগুলোকে সত্যায়িত করা।

স্লোভেনিয়ার ইউনিভার্সিটি আপনার ডকুমেন্ট ততোক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনার যাবতীয় অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট এবং ট্রান্সক্রিপ্টের কপি স্লোভেনিয়ার মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স থেকে লিগালাইজেশন করানো হয়। আর স্লোভেনিয়ার মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স বাংলাদেশের কোনো ডকুমেন্ট ততোক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণ করে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি আপনার ডকুমেন্ট অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাতে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে সত্যায়িত করাতে পারছেন এবং তাদের ওয়েবসাইটে এটা সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে। একমাত্র ভিয়েনাতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে কোনো ডকুমেন্ট সত্যায়িত করা হলেই কেবলমাত্র স্লোভেনিয়ার মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স আপনার ডকুমেন্ট লিগালাইজেশনের জন্য গ্রহণ করবে। স্লোভেনিয়ার মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স কোনো ডকুমেন্ট লিগালাইজেশনের জন্য পৃষ্ঠা প্রতি তিন ইউরো করে রাখে এবং দুর্ভাগ্যবশত তারা কোনো কুরিয়ার কপি গ্রহণ করে না। অনেক সময় ইউনিভার্সিটিকে অনুরোধ করলে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ লিগালাইজেশনের ব্যবস্থা ওরে দেয়। ভিয়েনাতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে কোনো ডকুমেন্ট সত্যায়িত করার শর্ত হচ্ছে প্রথমে সেটিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্বারা সত্যায়িত হতে এবং ভিয়েনার বাংলাদেশ দূতাবাস যেকোনো ডকুমেন্ট সত্যায়িত করতে পৃষ্ঠা প্রতি দশ ইউরো করে রাখে।

সাধারণত স্লোভেনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময় দেয় যাবতীয় ডকুমেন্ট পাঠানোর জন্য, তবে এ সময়ের মধ্যে পাঠাতে না পারলে আপনি অতিরিক্ত সময়সীমার জন্য আবেদন করতে পারেন এবং আপনাকে এর জন্য নির্ধারিত তারিখের আগে ইউনিভার্সিটিকে ই-মেইল দিতে হবে। 

অ্যাডমিশন কনফার্ম হয়ে গেলে আপনি ইউনিভার্সিটি থেকে লেটার অব অ্যাকসেপ্টেন্স পাবেন এবং আপনাকে কুরিয়ারের মাধ্যমে লেটার অব অ্যাকসেপ্টেন্স পাঠানো হবে। যদি লেটার অব অ্যাকসেপ্টেন্সে এ সময় টিউশন ফী প্রদানের কথা উল্লেখ থাকে তাহলে যেকোনো ব্যাংকে গিয়ে স্টুডেন্ট ফাইল ওপেন করে টিউশন ফী পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সেক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি টিউশন ফী গ্রহণ করার পর আপনাকে চূড়ান্ত ‘লেটার অব ইনরোলমেন্ট’ পাঠাবে। 

ইউনিভার্সিটিতে ইনরোলমেন্ট নিশ্চিত হয়ে গেলে আপনাকে ভিসা কিংবা টেম্পোরারি রেসিডেন্স পারমিটের জন্য অ্যাপ্লিকেশন করতে হবে।  

স্লোভেনিয়ার কোনো দূতাবাস বাংলাদেশে না থাকায় আপনাকে ভিসা অথবা টেম্পোরারি রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে দিল্লি যেতে হবে। দিল্লিতে অবস্থিত স্লোভেনিয়ার দূতাবাসের ঠিকানা (Embassy of the Republic of Slovenia; New Delhi; A - 5/4, Vasant Vihar; New Delhi 110 057; India.)। 

ই-মেইলের মাধ্যমেও আপনি স্লোভেনিয়ার দূতাবাসে ভিসার জন্য অ্যাপোয়েনমেন্ট পেতে পারেন। দিল্লিতে অবস্থিত স্লোভেনিয়ার দূতাবাসের ওয়েবসাইট (http://www.newdelhi.embassy.si)। 

দূতাবাস ফী এ বছর থেকে ৭৭ ইউরো করা হয়েছে। দূতাবাসের ওয়েবসাইটে গেলে আপনি ব্যাংক ডিটেইলস পাবেন, যেখানে এ ফী জমা দিতে হবে। এরপর তাদের ওয়েবসাইট থেকে ভিসা কিংবা টেম্পোরারি রেসিডেন্ট পারমিট অ্যাপ্লিকেশনের ফরম ডাউনলোড করে সেটি পূরণ করতে হবে। ভিসা কিংবা টেম্পোরারি রেসিডেন্ট পারমিট অ্যাপ্লিকেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট- 

১. ইউনিভার্সিটি কর্তৃক প্রদত্ত লেটার অব ইনরোলমেন্ট।

২. স্লোভেনিয়ার মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স কর্তৃক প্রদত্ত একটি অবজারভেশন লেটার, যা ইউনিভার্সিটি আপনাকে লেটার অব ইনরোলমেন্টের সঙ্গে প্রেরণ করবে। 

৩. পাসপোর্ট, উল্লেখ্য যে- পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে তিন মাস থাকতে হবে (তবে ছয় মাস হলে উত্তম) এবং পাসপোর্টে অন্ততপক্ষে দুটি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকতে হবে এবং সেই সঙ্গে পুরো পাসপোর্টের ফটোকপি এবং ভিসা অ্যাপ্লিকেশনের সময়সীমা থেকে শুরু করে তিন বছরের মধ্যে যদি কোনো দেশে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে সে দেশের ভিসা, অ্যারাইভাল ও ডিপার্চার সিলের ফটোকপি। 

৪. মেডিকেল ইনস্যুরেন্স।

৫. পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের কপি (পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট কোনোভাবেই যেনও তিন মাসের অধিক পুরাতন না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে)।

৬. সেলফ ফাইনান্সিং স্টুডেন্ট হলে ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেটের অরিজিনাল কপি। ব্যাংক স্টেটমেন্ট কমপক্ষে ছয় মাসের হতে হবে এবং এক বছরের টিউশন ফী, থাকা-খাওয়া এবং আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে যে পরিমাণ খরচ দাঁড়ায়, তার সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংকে থাকতে হবে। ফাইন্যান্সিয়াল স্পন্সরের অ্যাফিডেভিট অত্যাবশ্যক। স্পন্সর যদি অন্য কেউ হয় সেক্ষেত্রে একটা লিখিত স্টেটমেন্ট অত্যাবশ্যক যেখানে উল্লেখ থাকতে হবে যে, স্লোভেনিয়াতে থাকাকালীন সময়ে তিনি আপনার লেখাপড়া এবং থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করতে চলেছেন এবং এ লিখিত স্টেটমেন্ট নোটারাইজড করতে হবে কিংবা প্রথম শ্রেণীর কোনো ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা সত্যায়িত করতে হবে।

৭. স্কলারশিপ হোল্ডার হলে স্কলারশিপ লেটার। 

৮. ফ্লাইট রিজার্ভেশন কপি। 

৯. ৪.৫ সেমি. X ৩.৪ সেমি. এর দুই কপি ছবি। 

১০. অ্যাকোমডেশনের কনফার্মেশন। ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আপনি এ কনফার্মেশন পেতে পারেন। 

১১. সমস্ত সার্টিফিকেট এবং ট্রান্সক্রিপ্টের এক সেট অরিজিনাল এবং এক সেট অ্যাটাস্টেড কপি। দূতাবাসের জন্য সার্টিফিকেট এবং ট্রান্সক্রিপ্টের কপিগুলো বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করে নিলেই হবে। 

১২. ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সি টেস্টের সার্টিফিকেট।

১৩. বার্থ সার্টিফিকেটের কপি। বার্থ সার্টিফিকেট অবশ্যই আইন ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে।

অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখে এ সকল ডকুমেন্ট দূতাবাসে গিয়ে জমা দিয়ে আসতে হবে। দূতাবাস ডকুমেন্ট জমা নেওয়ার পাশাপাশি ইন্টারভিউ এবং বায়োম্যাট্রিক নিবে। 

ভিসার সিদ্ধান্ত আসতে কমপক্ষে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগে। এজন্য ভালো হয় যদি দূতাবাসের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর দিল্লি থেকে পাসপোর্ট উইথড্রল করে আপনি দেশে চলে আসেন এবং পরবর্তীতে ভিসার সিদ্ধান্ত আসার পর আপনি আবার দিল্লিতে গেলেন।

স্লোভেনিয়াতে বাইরের দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের সুযোগ সীমাবদ্ধ, তবে বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে অ্যাকাডেমিক রেজাল্টের ভিত্তিতে অনেক সময় ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে হয় তো বা কিছু স্কলারশিপ বা স্টাইপেন্ডের ব্যবস্থা করা যায়। এজন্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সম্প্রতি দিল্লিতে অবস্থিত স্লোভেনীয় দূতাবাস স্টুডেন্ট ভিসার অ্যাপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে বিশেষ করে যারা ব্যাচেলর প্রোগ্রামর জন্য আবেদন করবেন, তাদের ক্ষেত্রে English Proficiency Test বিশেষ করে IELTS (Minimum Level CEFR B2) বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে (রেফারেন্স: http://www.newdelhi.embassy.si/index.php?id=919&L=1)।

লংটার্ম রেসিডেন্ট পারমিট অ্যাপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো ধরণের স্টিকার ভিসার পরিবর্তে সরাসরি টেম্পোরারি রেসিডেন্স পারমিট প্রদান করা হয়।

এবার আসা যাক স্লোভেনিয়াতে অভিবাসন বিষয়ে। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে যারা বিদেশের মাটিতে পাড়ি জমান, তাদের সবার চিন্তা থাকে কীভাবে ইউরোপ, নর্থ আমেরিকা কিংবা ওশেনিয়ার কোনো একটি উন্নত রাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়া যায়। স্লোভেনিয়া এ ক্ষেত্রে আমাদের অনেকের কাছে একটি পছন্দের ডেসটিনেশন হতে পারে এবং স্লোভেনিয়ার ক্ষেত্রে আরও একটি বড় প্লাসপয়েন্ট হচ্ছে, এখনও এখানে খুব বেশী বাইরের মানুষ নেই। স্লোভেনিয়ার ইমিগ্রেশন পলিসি দীর্ঘমেয়াদে যারা দেশটিতে বসবাস করতে চান, তাদের জন্য এখনও মোটামুটি আশানুরূপ বলা চলে।

দেশটির সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পার্মানেন্ট রেসিডেন্স প্রাপ্তির শর্ত হিসেবে কারও যদি একটানা পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাস করার এবং সেই সঙ্গে যদি এ পাঁচ বছর ফুলটাইম কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে তিনি স্লোভেনিয়ার পার্মানেন্ট রেসিডেন্স প্রাপ্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর যদি আপনি শিক্ষার্থী হন তাহলে একটানা দশ বছর বৈধভাবে স্লোভেনিয়াতে বসবাস করতে হবে।

অর্থাৎ শিক্ষার্থী অবস্থায় পার্মানেন্ট রেসিডেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দুই বছরকে এক বছর হিসেবে বিবেচনা হয়। উদাহরণস্বরূপ: কেউ যদি তিন বছরের ব্যাচেলর কোর্স সম্পন্ন করেন স্লোভেনিয়া থেকে, তাহলে এ তিন বছরকে অর্ধেক অর্থাৎ দেড় বছর এবং সেই সঙ্গে আরও সাড়ে তিন বছর ফুলটাইম কাজ করার অভিজ্ঞটা দেখাতে পারলেই তিনি স্লোভেনিয়ার পার্মানেন্ট রেসিডেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। পার্মানেন্ট রেসিডেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত স্থানীয় ভাষা জানার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। প্রতি বছর শেষে টেম্পোরারি রেসিডেন্স পারমিট বর্ধিত করার ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত সে রকম ঝামেলা নেই, বিশেষ করে যারা স্টুডেন্ট তাদের জন্য। ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট অফিস থেকে শুধু একটি সার্টিফাইড লেটার, যেটি আপনার স্টুডেন্ট স্ট্যাটাসকে ইঙ্গিত করবে সে ধরণের একটি লেটার স্থানীয় ইমিগ্রেশন অফিস স্লোভেনিয়ার ভাষায় বলা হয় উপরাভনা এনোতা, উপরাভনা এনোতাতে গিয়ে জমা দিলেই তারা টিআরপি এক্সটেনশনের ব্যবস্থা করে দেয়।

স্লোভেনিয়াতে আসার পূর্বে আমি প্রায় দেড় বছরের মতো হাঙ্গেরিতে ছিলাম এবং হাঙ্গেরির পেচ শহরে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব পেচে আমি লেখাপড়া করেছি। একই বিষয়ে, ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন ফিজিক্স। ইউনিভার্সিটি অব পেচ থেকে আমি স্লোভেনিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নোভা গোরিছাতে ক্রেডিট ট্রান্সফার করেছি। আমাকে দিল্লিতে যেতে হয়নি নতুন করে আবার স্লোভেনিয়াতে ভিসার জন্য আবেদন করতে। স্লোভেনিয়াতে এসেই আমি সরাসরি স্থানীয় ইমিগ্রেশন অফিসে গিয়ে টেম্পোরারি রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করেছি। আমাকে প্রথম বার টেম্পোরারি রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করার সময় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এবং জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেটের কপির প্রয়োজন হয়েছিল। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এবং জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেটের কপি অবশ্যই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করার পর অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাতে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে প্রি-লিগালাইজ বা সত্যায়িত করে সর্বশেষ এ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে লিগালাইজ করে স্থানীয় ইমিগ্রেশন অফিসে (স্লোভেনিয়ার স্থানীয় ভাষায় উপরাভনা এনোতা) জমা দিতে হবে।

স্লোভেনিয়াতে আসার পরপরই কিংবা এখানে আসার পর প্রথমবার টেম্পোরারি রেসিডেন্স পারমিট ইস্যু পাওয়ার পর, সেটি বাড়ির মালিক কিংবা হোস্টেল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হয় এবং স্থানীয় পুলিশের থেকে অথবা স্থানীয় ইমিগ্রেশন অফিসের থেকে একটি সার্টিফিকেট নিতে হয় যে, এ ঠিকানায় আমি বৈধভাবে বসবাস করছি। সাধারণত হোস্টেল কর্তৃপক্ষ কিংবা আপনার বাড়ির মালিক স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কিংবা স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটি অফিস বা অবচিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে এ রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেবে। পার্মানেন্ট রেসিডেন্স পাওয়ার জন্য স্লোভেনিয়ার স্থানীয় ভাষা, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের ওপর দক্ষতা প্রয়োজন না হলেও, যদি কেউ এখানে সিটিজেনশিপের জন্য আবেদন করতে আগ্রহী হন, তাহলে তাকে স্লোভেনিয়ার স্থানীয় ভাষা, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের ওপর দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পার্মানেন্ট রেসিডেন্স পাওয়ার পর পাঁচ বছরের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু শর্তপূরণ সাপেক্ষে স্লোভেনিয়ার সিটিজেনশিপের জন্য আবেদন করা যায়। একটানা দশ বছর বৈধভাবে স্লোভেনিয়াতে বসবাস করার পর স্লোভেনিয়াতে সিটিজেনশিপের জন্য আবেদন করা যায়।

পশ্চিম ইউরোপের দেশ যেমন জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস এমনকি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র অস্ট্রিয়ার সঙ্গে তুলনা করলে ঘণ্টা হিসেবে স্লোভেনিয়াতে মজুরি খুব বেশী নয়। এমনকি অর্থনৈতিকভাবে এ সকল দেশ থেকেও স্লোভেনিয়া অনেক দুর্বল। দেশটির জীবনযাত্রার ব্যয়ও খুব বেশী এমনটাও বলা যাবে না। সাধারণত দুইশ বিশ ইউরো হলে আমার এক মাসে ভালো মতো চলে যায়, তবে গড়পড়তা হিসেবে একজন স্টুডেন্টের এক মাসে থাকা এবং খাওয়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে খরচ আড়াইশ থেকে তিনশ ইউরো পর্যন্ত প্রয়োজন হয়। যারা রাজধানী শহরে বসবাস করেন তাদের ক্ষেত্রে থাকা-খাওয়া মিলিয়ে এক মাসে সাড়ে চারশ ইউরোর মতো খরচের প্রয়োজন হতে পারে। এখনও দেশটির সাধারণ মানুষের আয়ের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকখানি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এক সময় সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রচলন ছিল এমন দেশগুলো তো বটেই এমনকি মাল্টা, গ্রীস কিংবা পর্তুগালের মতো ইউরোপের দেশগুলো থেকেও অর্থনৈতিকভাবে স্লোভেনিয়া শক্তিশালী। এমনটি বলছে ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড বা আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টে মাসিক ন্যূনতম মজুরি সাড়ে নয়শ ইউরো করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাসিক ন্যূনতম মজুরি হিসেবে বর্তমানে স্লোভেনিয়া স্পেন থেকে সামান্য পিছিয়ে।

খণ্ডকালীন চাকরি করে ভালোমতো থাকা এবং খাওয়ার খরচ আপনি তুলতে পারলেও, আপনি টিউশন ফি তুলতে পারবেন না পার্টটাইম কাজ করে। তবে অস্ট্রেলিয়া, গ্রেট ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ডে যে রকম নিয়ম আছে যে, স্টুডেন্ট অবস্থায় একজন ব্যক্তি এক সপ্তাহে বৈধভাবে বিশ ঘণ্টার বেশী কাজ করতে পারবেন না, স্লোভেনিয়ার আইনে এ রকম কিছু সুনির্দিষ্ট করে এখনও তেমন কিছু উল্লেখ করা হয়নি। তাই এখানে চাইলে একজন স্টুডেন্ট ফুলটাইম কাজ করতে পারে।

ভিসা এবং অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়মের মাঝে-মধ্যে পরিবর্তন আসে, তাই সকলেরই উচিত নিয়মিত দূতাবাস অথবা ইমিগ্রেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত ওয়েব-সাইটগুলো মাঝে-মধ্যে অনুসন্ধান করা। 

এই ছিল সব মিলিয়ে কীভাবে আপনারা উচ্চ শিক্ষার জন্য স্লোভেনিয়াতে আসবেন, সে বিষয়ে আদ্যোপান্ত। আপনি যদি তুলনামূলক কম খরচে ইউরোপের কোনো একটি দেশের কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে চান, তাহলে সেক্ষেত্রে স্লোভেনিয়া হতে পারে আপনার জন্য একটি আদর্শ জায়গা।

লেখক: শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় বর্ষ, ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন ফিজিক্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, ইউনিভার্সিটি অব নোভা গোরিছা, স্লোভেনিয়া

Comments

The Daily Star  | English

International Mother Language Day: Languages we may lose soon

Mang Pu Mro, 78, from Kranchipara of Bandarban’s Alikadam upazila, is among the last seven speakers, all of whom are elderly, of Rengmitcha language.

12h ago