করোনা আপডেট: কক্সবাজার, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, চাঁদপুর

কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং নোয়াখালীতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, ব্যাংকারসহ আরও ৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে একদিনে সর্বোচ্চ ২৫৯ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ ছাড়া, ফরিদপুরে এক মুক্তিযোদ্ধা ও এক আনসার সদস্য এবং চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় এক গৃহবধূ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। দ্য ডেইলি স্টারের স্থানীয় সংবাদদাতারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং  নোয়াখালীতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, ব্যাংকারসহ আরও ৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে একদিনে সর্বোচ্চ ২৫৯ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ ছাড়া,  ফরিদপুরে এক মুক্তিযোদ্ধা ও এক আনসার সদস্য এবং  চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় এক গৃহবধূ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। দ্য ডেইলি স্টারের স্থানীয় সংবাদদাতারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

কক্সবাজারে আরও ৮৮ জনের করোনা শনাক্ত

কক্সবাজারে মেডিকেল কলেজের ফিল্ড ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৮৮ জন কক্সবাজারের। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া আজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, নতুন শনাক্তদের মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলায় আছেন ৪৩ জন, চকরিয়ায় নয় জন, উখিয়ায় নয় জন, রামুতে তিন জন, টেকনাফে ১৫ জন, মহেশখালীতে একজন, কুতুবদিয়ায় দুই জন, পেকুয়ায় দুই জন,  বান্দরবান জেলা সদরের একজন, চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আট জন ও সাতকানিয়ার এক জন। এ ছাড়াও, কক্সবাজারে কর্মরত চার এনজিও কর্মীর করোনা শনাক্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আজ সোমবার পর্যন্ত মেডিকেল কলেজের ল্যাবে মোট ১১ হাজার ৪৭১ জনের নমুনা পরীক্ষায় এক হাজার ৮২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে কক্সবাজার জেলার রয়েছেন এক হাজার ৬০৪ জন, বান্দরবান জেলার ৮২ জন, চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া দুই উপজেলার ৯৭ জন ও ৩৮ জন রোহিঙ্গা।

নোয়াখালীতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশসহ ৩৬ জনের করোনা শনাক্ত

নোয়াখালীতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, ব্যাংকারসহ আরও ৩৬ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল এক হাজার ৩৭৬ জন।

আজ সোমবার বিকেলে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নতুন শনাক্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় আট জন, বেগমগঞ্জ উপজেলায় ১৫ জন, কোম্পানীগঞ্জে ১০ জন, কবিরহাট উপজেলায় দুই জন, সুবর্ণচরে রয়েছেন একজন।

সিভিল সার্জন জানান, জেলায় এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৩৭৬ জন। এদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৪২৩ জন, সুবর্ণচরে ৪০ জন, হাতিয়ায় ১০ জন, বেগমগঞ্জে ৫২৭ জন, সোনাইমুড়ীতে ৭৪ জন, চাটখিলে ১০২ জন, সেনবাগে ৭৫ জন, কোম্পানীগঞ্জে ২৭ জন, কবিরহাটে ৯৮ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪০২ জন। আর,  করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সদর উপজেলায় আট জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে উল্লেখ করে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা ফোকাল পার্সন ও মেডিকেল অফিসার ডা. নিলিমা ইয়াছমিন জানান, তাদের মধ্যে নোয়াখালী পুলিশ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক রয়েছে।

বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অসীম কুমার দাস জানান, উপজেলায় নতুন শনাক্ত ১৫ জনের মধ্যে ব্যাংকার, প্রবাসী, চাকরিজীবী ও কৃষক রয়েছেন। তাদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সেলিম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ১০ জনের মধ্যে দুই জন পুলিশ ও একজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন।

কবিরহাট উপজেলা করোনা ফোকাল পার্সন ডা. সাইফ উদ্দিন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় এ উপজেলায় দুই জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া, করোনা উপসর্গ নিয়ে এক আওয়ামীলীগ নেতা মারা গেছেন বলেও জানান তিনি।

নারায়ণগঞ্জে এক দিনে সর্বোচ্চ করোনামুক্ত ২৫৯ জন, নতুন আক্রান্ত ৫৩

নারায়ণগঞ্জে এক দিনে সর্বোচ্চ ২৫৯ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় এক হাজার ৭৯৭ জন সুস্থ হয়েছেন। তবে, নতুন করে আরও ৫৩ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত চার হাজার ১২৭ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হলো।

নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আজ সোমবার বিকেলে দ্য ডেইলি স্টারকে এ সব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৩৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নতুন করে ৫৩ জন কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। আর সুস্থ হয়েছেন ২৫৯ জন। এ পর্যন্ত জেলায় চার হাজার ১২৭ জন কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে ৯৬ জন মারা গেছে ও এক হাজার ৭৯৭ জন সুস্থ হয়েছেন।’

আক্রান্তের পরিমাণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় এক হাজার ৪৭৯ জন আক্রান্তের মধ্যে ৫৬ জন মারা গেছে ও সুস্থ হয়েছে ৯৩২ জন। এরপরই সদর উপজেলায় আক্রান্ত ১০৭০ জনের মধ্যে মারা গেছে ২০ জন আর সুস্থ হয়েছেন ৪৭১ জন। রূপগঞ্জ উপজেলায় ৭২৩ জন আক্রান্তের মধ্যে দুই জন মারা গেছে ও ১৯২ জন সুস্থ হয়েছে। সোনারগাঁও উপজেলায় ৩৫১ জন আক্রান্তের মধ্যে ১২ জন মারা গেছে ও ৫৩ জন সুস্থ হয়েছে। আড়াইহাজার উপজেলায় ৩৮১ জন আক্রান্ত হয়েছে, মারা গেছে তিন জন, তবে সুস্থ হয়েছে ১১৯ জন। আর বন্দর উপজেলায় ১২৩ জন আক্রান্ত হয়ে তিন জন মারা গেছে ও সুস্থ হয়েছে ১২৩ জন।’

ফরিদপুরে করোনায় এক মুক্তিযোদ্ধা ও এক আনসার সদস্যের মৃত্যু

ফরিদপুরে এক মুক্তিযোদ্ধা ও এক আনসার সদস্য করোনাভাইরাসে মারা গেছেন। এ নিয়ে এ জেলায় ১৪ জন করোনায় মারা গেলেন। তাদের মধ্যে চারজনই মুক্তিযোদ্ধা।

আজ সোমবার ভোর রাতে ফরিদপুরের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই মুক্তিযোদ্ধা মারা যান। ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ২০ তম আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্য নিজ বাড়ি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায় আজ ভোরে মারা যান।

ভাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রকিবুর রহমান খান দ্য ডেইলি স্টারকে এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ওই মুক্তিযোদ্ধা ভাঙ্গা উপজেলার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের আলেখারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ওই এলাকার আব্দুল্লাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক শিক্ষক ছিলেন। আজ সোমবার বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার মরদেহ দাফন করা হয়।

এ দিকে, আনসার সদস্যের গত বৃহস্পতিবার করোনা শনাক্ত হয়। গত শনিবার তার ছেলে তাকে গাইবান্ধায় তার বাড়িতে নিয়ে যান। আজ সোমবার ভোরে সেখানেই মারা যান তিনি।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৪ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে চার জন মুক্তিযোদ্ধা। ভাঙ্গা উপজেলায় দুই জন মুক্তিযোদ্ধাসহ মোট আট জন মারা গেছেন। বোয়ালমারীতে একজন মুক্তিযোদ্ধাসহ দুই জন, ফরিদপুর সদরে একজন মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছেন। এ ছাড়া, সদরপুর, চরভদ্রাসন, ও আলফাডাঙ্গায় একজন করে মারা গেছেন।

মতলব উত্তরে করোনায় গৃহবধূর মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে এক গৃহবধূ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন মৃধা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, তিন দিন আগে ওই গৃহবধূর করোনা নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তিনি জ্বর, শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

চাঁদপুর জেলায় এ নিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩৯ জন মারা গেছেন বলে জানান জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ।

তিনি বলেন, '৩৯ জনের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার পর জেলায় তিন জন মারা যান। বাকি ৩৬ জন মারা যাওয়ার পর, তাদের করোনা শনাক্ত করা হয়।'

এ দিকে, চাঁদপুর শহরের গুণরাজদি এলাকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুজন মারা গেছেন। ওই এলাকায় কয়েকজন বাসিন্দার করোনা শনাক্ত হওয়ায় আজ সোমবার বিকেলে এলাকার আব্দুর রশিদ সড়ক লকডাউন করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবীরা এই লকডাউন করেন।

Comments