আইএসে যোগ দেওয়া শামীমার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নেই: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ যোগ দিতে সিরিয়ায় যাওয়া ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা বেগমের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার কোনো অধিকার নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।
শামীমা বেগম। রয়টার্স ফাইল ছবি

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ যোগ দিতে সিরিয়ায় যাওয়া ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা বেগমের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার কোনো অধিকার নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা বেগম কখনও বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন না। বাংলাদেশের স্পষ্ট অবস্থান হলো, এ দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার কোনো অধিকার তার নেই। তাকে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ারও সুযোগ নেই।

ইস্ট লন্ডনের স্কুল শিক্ষার্থী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা বেগম ২০১৫ সালে আইএসে যোগ দিতে সিরিয়া যান। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাংবাদিকরা তাকে সিরিয়ায় একটি শিবিরে আবিষ্কার করেন। তখন তিনি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরে যেতে চান বলে তখন সাংবাদিকদেরকে জানিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পরেই তিনি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন বলে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছিল।

সে মাসেই শামীমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা হচ্ছে বলে তার পরিবারকে যুক্তরাজ্যের তত্কালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ জানান। মার্চ মাসে তার শিশু সন্তান জারাহ মারা যায়।

উত্তর সিরিয়ার আর একটি শিবির আল-রোজে স্থানান্তরিত হওয়ার পর, শামীমা ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বিরুদ্ধে এবং বিশেষ অভিবাসন আপিল কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন জানান। যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তার প্রশ্নে তার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তকে আবেদনে চ্যালেঞ্জ করা হয়।

কিন্তু, আপিল আদালত জানায়, সিরিয়ায় বন্দি শিবিরে থাকা অবস্থায় শামীমা ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থেকে তাকে বঞ্চিত করার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তকে পরিপূর্ণভাবে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না।

দুই দিনের অনলাইন শুনানির শুরুতে, তার আইনজীবীরা এ বছর বিশেষ অভিবাসন আপিল কমিশনের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ জানায় বলে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার ১১ জুনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়। সে রাষ্ট্রহীন নয় উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়েছিল, শামীমার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আছে।

Comments