ফেসবুকে আহ্বান, সবার সহায়তায় কেনা হলো ৯ লাখ টাকার ক্যানোলা মেশিন

ফেসবুকে মানবিক আহবানে সাড়া দিয়ে মরণঘাতি করোনা রোগীদের সেবায় এগিয়ে এসেছেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। তাদের সহায়তায় সংগৃহীত নয় লাখ টাকা দিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা রোগীর চিকিৎসায় দুটি হাই ফ্লো নেসাল ক্যানোলা মেশিন কেনা হয়েছে।
ছবি: সোহরাব হোসেন

ফেসবুকে মানবিক আহবানে সাড়া দিয়ে মরণঘাতি করোনা রোগীদের সেবায় এগিয়ে এসেছেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। তাদের সহায়তায় সংগৃহীত নয় লাখ টাকা দিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা রোগীর চিকিৎসায় দুটি হাই ফ্লো নেসাল ক্যানোলা মেশিন কেনা হয়েছে।

আজ রোববার বরগুনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে মেশিন দুটির একটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর মেশিনটিও কয়েকদিনের মধ্যে পৌঁছানোর কথা আছে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ, সিভিল সার্জন ডা. মো. হুমায়ুন শাহিন খান এবং জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবাবধায়ক ডা. মো. সোহরাব উদ্দিন খানের কাছে এটি হস্তান্তর করা হয়।

ফেসবুকে তহবিল সংগ্রহকারীদের সূত্রে জানা গেছে, করোনা রোগীদের সাধারণ অক্সিজেন সিলিন্ডারে কাজ হয় না, যখন তাদের আইসিউ বা ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন হয় তখন এই মেশিন দিয়ে আইসিইউ বা ভেন্টিলেটরের কাছাকাছি পর্যায়ের সাপোর্ট দেওয়া যায়। এ রকম একেকটি মেশিনের দাম প্রায় চার লাখ টাকা। হাসপাতালটিতে একটি মাত্র হাই ফ্লো নাসাল ক্যানোলা মেশিন আছে। যা রোগীর সংখ্যার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। এ অবস্থায় এ মেশিন ক্রয়ের ভিন্নধর্মী যৌথ উদ্যোগ নেন বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল আলীম হিমু ও সাংবাদিক এবং সাংস্কৃতিককর্মী মুশফিক আরিফ।

‘আমাদের জন্য আমরা’ এই শ্লোগান নিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে দুটি ‘হাই ফ্লো নাসাল ক্যানোলা’ মেশিন ক্রয়ের জন্য ফেসবুকে আর্থিক সহযোগিতার জন্য আবেদন জানান। তাদের এ মানবিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষসহ স্থানীয় জনগণ।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের একমাত্র মেডিসিন স্পেশালিস্ট ডা. কামরুল আজাদ বলেন, ‘বরগুনা হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন মেনিফোল্ড সিস্টেম আছে, তাই হাই ফ্লো নাসাল ক্যানোলা মেশিন গুরতর অসুস্থ করোনা রোগীদের জন্য অনেক সাপোর্ট দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ সিলিন্ডারের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে সাধারণত ১৫ লিটারের বেশি অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হয় না। এ কারণে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে তখন আইসিইউ প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই মেশিনের মাধ্যমে একজন রোগীর জন্য প্রতি মিনিটে ৭০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন সরবরাহ করা যায়। যা রোগীর শ্বাসকষ্ট লাঘবে সহায়তা করে।’

সাংবাদিক মুশফিক আরিফ জানান, আমরা শুধু ফেইসবুকে মানবিক আহ্বান জানিয়েছি। আমাদের এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে হৃদয়বান ব্যক্তিরা এগিয়ে এসেছেন। শুধু এ দুটি মেশিনই নয় এর সঙ্গে বিপি মেশিন, পালস অক্সিমিটার এবং কেএন-৯৫ মাস্কসহ আরও বেশ কিছু চিকিৎসা সামগ্রী কেনা হয়েছে।

বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল আলীম হিমু বলেন, ‘বরগুনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে বরগুনার বিভিন্ন সংকটে এমন অনেক মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে।’

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মো. সোহরাব উদ্দিন খান জানান, মেশিনটি হাসপাতালে আগত করোনা রোগীদের সেবায় অনন্য ভূমিকা রাখবে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি হাসপাতালেই এ মেশিন পৌঁছানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে সারা দেশে তা পৌঁছতে হয়তো কিছুটা সময় লাগবে। সরকারের পাশাপাশি জনগণ এগিয়ে এলে স্থানীয় অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

Comments