স্মরণসভা

লতিফুর রহমানের জীবন ও কর্ম

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, দ্য ডেইলি স্টার’র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান শামীম প্রয়াত হয়েছেন গত ১ জুলাই। তার স্মরণে আজ মঙ্গলবার ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টায় স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছিল। যা দ্য ডেইলি স্টারের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, দ্য ডেইলি স্টার’র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান শামীম প্রয়াত হয়েছেন গত ১ জুলাই। তার স্মরণে আজ মঙ্গলবার ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টায় স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছিল। যা দ্য ডেইলি স্টারের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে।

আয়োজনে সঞ্চালনায় ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। লতিফুর রহমানের স্মরণসভায় তাকে নিয়ে কথা বলেন দেশের বিশিষ্টজনেরা।

সিমিন হোসেন, রোকিয়া আফজাল রহমান, হোসেন জিল্লুর রহমান, আসাদুজ্জামান নূর, মাহফুজ আনাম, এম আনিস উদ দৌলা, শেখ ফজলে ফাহিম, তপন চৌধুরী, সৈয়দ নাসিম মনজুর, রূপালি হক চৌধুরী, তারেক করিম, একে আজাদ, রেহমান সোবহান, মাহবুব উর রহমান, কুতুবুদ্দিন আহমেদ, রাজিব প্রসাদ সাহা, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, রিজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, জারিফ আয়াত হোসেন, মতিউর রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

‘তিনি দেশের অন্য প্রশাসক ও নেতাদের জন্যও আদর্শ’

লতিফুর রহমানের মেয়ে সিমিন হোসেন বলেন, ‘বাবা বলেছেন, তিনি বাংলাদেশের মানুষের জন্য দুটি স্বাধীন সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে কখনও ব্যক্তি স্বার্থে কাজে লাগাননি। দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো’র সম্পাদকরা বলেছেন যে, তারা নিজেদেরকে পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাধীন সম্পাদকদের অন্যতম মনে করেন। বাবা শুধু এই দুটি সংবাদমাধ্যমের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন। বাবা আমার কাছে যেমন আদর্শ এবং আমি বিশ্বাস করি তিনি দেশের অন্য প্রশাসক ও নেতাদের জন্যও আদর্শ।’

‘তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক’

‘আমি লতিফুর রহমানের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বোর্ডে থাকার সুযোগ পেয়েছি। তার সবচেয়ে বড় যে গুণটি ছিল তা হলো, বোর্ড মিটিং শেষে তিনি সেখানে থেকে যেতেন। সেখানে বসে সবার সঙ্গে কথা বলতেন, চা খেতেন। ফলে তিনি সবাইকে নাম ও পদবী ধরেই চিনতেন। এতে করে কর্মকর্তারাও খুবই খুশি হতেন। শামীমের এই গুণটি আমার খুবই ভালো লাগত। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে কোথাও দেখা হলে শামীম তাদের চিনতেন।’

লতিফুর রহমানের ব্যবসায়ী জীবন সম্পর্কে বলতে গিয়ে এভাবেই নিজের কথাগুলো শুরু করেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সহসভাপতি রোকিয়া আফজাল রহমান

শামীম যেখানেই উপস্থিত হতেন সেখানেই তার ব্যক্তিত্বের জাদুতে সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেকোনো সমস্যা অনুধাবন করতে তিনি খুবই দক্ষ ছিলেন। যেকোনো সমস্যায় আমরা পরলে শামীমকে পাশে পেতাম। তার আরেকটি ভালো গুণ হচ্ছে, সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা। যেকোনো বিষয়ে সে রাজি হতো কিংবা হতো না। কখনও দোটানায় থাকত না।’

লতিফুর রহমান তার ব্যবসায়ী জীবনে সবসময় সততা এবং মূল্যবোধ বজায় রেখেছেন জানিয়ে রোকিয়া আফজাল রহমান বলেন, ‘গ্রাহকদের পছন্দ এবং সন্তুষ্টি সবসময়ই তার কাছে অগ্রাধিকার পেত। তার প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত প্রতিটি পণ্য সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে তৈরি হয়। তিনি সব সময় বলতেন, “আমরা সবসময় চেষ্টা করি বাংলাদেশে বিশ্বমানের পণ্য তৈরি করতে”।’

‘তার কাছে দুটি জিনিস সবসময় প্রাধান্য পেত। একটি হচ্ছে ব্যবসায়ে সততা। আর অপরটি হচ্ছে তিনি বাংলাদেশকে নিজের সর্বোচ্চটা দিতে পারছেন কি না। তার জন্য সরকারকে কর দেওয়া ছিল সম্মানের ব্যাপার। আমি লতিফুর রহমানকে দেখি, একজন সৎ ব্যবসায়ীর প্রতীক হিসেবে। তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক। নিজের দেশের প্রতি ছিল তার অগাধ ভালোবাসা এবং ভরসা।’

‘সফল হওয়া এবং নীতিবান থাকা সাংঘর্ষিক নয়’

ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ও অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘লতিফুর রহমান ব্র্যাকের খুবই পরিক্ষিত বন্ধু ছিলেন। আবেদ ভাই আমাকে বলেছেন- উনি লতিফুর রহমানকে কতো উঁচু মূল্যায়ন করতেন এবং ব্র্যাকের পুনঃবিবর্তনে লতিফুর রহমানের যে কতো অবদান। আমি ব্র্যাক পরিবারের পক্ষ থেকে লতিফুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। উনি ব্যক্তিগতভাবে প্রচার বিমুখ মানুষ ছিলেন, সেটা দেখেছি আমি। আজকের বাংলাদেশের জন্য, বিশেষ করে আজকের তরুণদের জন্য  লতিফুর রহমানের জীবন একটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করতে পারে। কারণ উনি সেই অর্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আমাদের জাতির সামনে তুলে ধরেছেন যে, বাংলাদেশে সফল হওয়ায় যায়, নীতির পথে থেকেই সফল হওয়া যায়। সফল হওয়া এবং নীতিবান থাকা সাংঘর্ষিক নয়।’

‘এই যে সফল এবং নীতির যে সংমিশ্রণ, আমার মনে হয় লতিফুর রহমান তার জীবনের মাধ্যমে একটি উদাহরণ হিসেবে তা তুলে ধরেছেন। আমি আশা করব, আমাদের সমাজ এবং রাষ্ট্র এবং বিশেষ করে তরুণ সমাজ এই বিষয়টা তাদের মনোযোগের মধ্যে আনবে। সফল আমরা সবাই হতে চাই, কিন্তু সেটা নীতির পথে থেকেই সফল হওয়া উচিত এবং তা সম্ভবও’, বলেন তিনি।

হোসেন জিল্লুর রহমান আরও বলেন, ‘লতিফুর রহমান শুধু সফল হতে চেয়েছিলেন তা নয়, তিনি অত্যন্ত সফল একজন ব্যক্তি। ব্যবসা এবং প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার- এ দুটো পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেছেন সম্পাদকদের স্বাধীনতা দিয়ে। দেশের তরুণ সমাজের প্রতি আমার আহ্বান, সফল হও এবং নীতির পথে থেকে সফল হও। এটাই লতিফুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর উৎকৃষ্ট উপায়।’

‘সততা উনার ট্রেডমার্ক ছিল’

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘লতিফুর রহমানের স্মৃতির প্রতি আন্তরিক এবং গভীরতম শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আমি তিনটি বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই। সেগুলো হচ্ছে- উনার জীবনের মূলমন্ত্র ছিল সততা, স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি অনুরাগ এবং দেশপ্রেম। সততা উনার ট্রেডমার্ক ছিল। দ্য ডেইলি স্টার প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে উনার সঙ্গে আমার ৩০ বছরের পরিচয়, উনি সবসময় একটি কথা বারবার বলতেন, সৎভাবে চলতে হবে, তুমি ট্যাক্স প্রদান করবে এবং সবকিছুর মধ্যে তুমি স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি, উনার অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বৃদ্ধিকরণ, নতুন ব্যবসা শুরুকরণ, এ ধরণের জায়গাতে সততার ব্যাপারে উনি আপোষ করেননি বলেই করতে চাননি।’

একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একসময় আমাদের একটি টেলিভিশন চ্যানেল কেনার সম্ভাবনার উদয় হলো এবং সে আলোচনা অনেকদূর এগিয়ে গেল। শেষমুহুর্তে উনি দেখলেন যে, টেলিভিশন চ্যানেলটি যেভাবে স্যাটেলাইট ভাড়া দিত, তা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে ছিল না। শুধু এই একটি কারণে উনি ওই প্রতিষ্ঠানটি কিনলেন না। এরকম পদে পদে উনার ব্যবসায়িক প্রসারের যে সম্ভাবনা, ওই লোভকে সংবরণ করে উনি সততার দিকেই বেশি ধাবিত হতেন।’ 

‘স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি উনার যে একনিষ্ঠ ভালোবাসা, একটা দৃঢ়তা এটি আমাকে সবসময় মুগ্ধ করতো। সাংবাদিকতার প্রতি আমার যে ভালোবাসা এটা তো স্বাভাবিক। কিন্তু উনি তো সাংবাদিকতা জগতের ব্যক্তি নন। এমনকি দ্য ডেইলি স্টার প্রতিষ্ঠার আগে উনি কখনো মিডিয়ার সঙ্গে ছিলেন না। উনার এ ধরনের একটি মূল্যবোধ কোথা থেকে আসলো। শুধু আসলোই না, একে উনি দৃঢ়ভাবে ধরেও রাখলেন’, বলেন তিনি।

বোর্ড মিটিংয়ে সব বিষয়ে আলোচনা করলেও, লতিফুর রহমান কখনো সংবাদ বা সম্পাদকীয় নীতি নিয়ে আলোচনা করেননি উল্লেখ করে মাহফুজ আনাম আরও বলেন, ‘বোর্ড মিটিংয়ে আমাকে অনেক জবাবদিহি করতে হতো। কিন্তু মিটিং শেষে উনি আমাকে প্রশ্ন করতেন, মাহফুজ তোমার কাগজ কেমন চলছে? উনি আমাদের কাগজও বলতেন না। উনি বলতেন যে, এই জিনিসট তোমার মাথায় রাখতে হবে যে, এর স্বাধীনতা তুমি বজায় রাখবে এবং এর দায়িত্ব তোমার।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীন সাংবাদিকতার ব্যাপারে বলা যতো সোজা কাজে এটা প্রমাণ করা অনেক কঠিন। আমরা সাংবাদিকরা প্রস্তুত থাকি যে কোনো একটি লেখার কারণে আমরা শাস্তি পাব কিংবা আমার ওপর আঘাত আসবে, কিন্তু একজন উদ্যোক্তা, উনার ওপরে যে বারবার আঘাত আসছে এবং সে আঘাতটা উনি সহ্য করছেন, আমাকে কোনোদিন উনি বলেননি যে মাহফুজ তুমি এটা লিখেছ বলে আমার এ ক্ষতিটা হলো।’

‘বাংলাদেশের সাংবাদিকতার সৌভাগ্য যে, লতিফুর রহমানের মতো ব্যক্তি বাংলাদেশে দুটো স্বাধীন সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। একটি দেশ, বাকস্বাধীনতা, মুক্তচিন্তা এবং বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিকীকরণ ও ভবিষ্যতের জন্য এটা যে কতো মূল্যবান একটি অবদান। আমি এবং মতিউর রহমান দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আমরা সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করব’, যোগ করেন তিনি।

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘উনার যে দেশপ্রেম, আমি পদ পদে ক্ষণে ক্ষণে প্রতিনিয়ত উনার মুখ থেকে একটি কথা শুনতাম যে, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, বাংলাদেশ পারবে এবং তোমরা খবরের কাগজ থেকে এবং আমি শিল্প থেকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এটি শুধু আবেগের বক্তব্য ছিল না, এটি উনি বিশ্বাস করতেন এবং সব কাজে এর ফলন ঘটানোর চেষ্টা করতেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন সৎ ব্যক্তি হিসেবে, স্বাধীন মতপ্রকাশের দৃঢ় স্তম্ভ হিসেবে এবং একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে আমি লতিফুর রহমানকে আমার মন থেকে, আমার গভীরতম অনুভূতি থেকে শ্রদ্ধা জানাই এবং ৩০ বছরেরও বেশি তার সান্নিধ্য পাওয়ায় নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করি।’

‘লতিফুর রহমান পৃথিবীর মতো সর্বংসহা হয়েছিলেন’

‘লতিফুর রহমানের সঙ্গে আমার পরিচয়ের সুযোগ হয়েছিল ব্যবসায়িক সূত্রে। বাংলাদেশে তিনি যখন পেপসিকোর পণ্য তৈরি শুরু করলেন তখন আমি এশিয়াটিকের পক্ষ থেকে তার কাছে গিয়েছিলাম।’

লতিফুর রহমানের সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের এই সম্পর্ক পরবর্তীতে পরিণত হয় ব্যক্তিগত সম্পর্কে। এমনটি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে ব্যবাসায়িক আলাপ চলার বেশ কিছুদিন লক্ষ্য করলাম, আমি তাকে শামীম ভাই ডাকতে শুরু করেছি এবং তিনি আমাকে নাম ধরে ডাকছেন। তিনি সহজে কাউকে তুমি বলে সম্বোধন করতেন না। কিন্তু আমাকে তুমি করে সম্বোধন করতেন।’

ব্যবসায়ের পাশাপাশি আসাদুজ্জামান নূরের নাটক দেখতে লতিফুর রহমান সপরিবারে মহিলা সমিতি থিয়েটারেও গিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের জন্য অর্থ সংগ্রহের সময় লতিফুর রহমানের অবদানের বিষয়েও বলেন তিনি। যাদুঘরের জন্য অর্থ সংগ্রহকালের একটি ঘটনা উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের বিষয়ে কথা বলার সময় একদিন তিনি বলছিলেন, “মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি। এটা আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, হত্যা করেছে, ধর্ষণ করেছে এবং বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, তাদের শাস্তি হওয়া জরুরি। না হলে এর জন্য জাতির কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে।”’

তিনি বলেন, ‘লতিফুর রহমান পৃথিবীর মতো সর্বংসহা হয়েছিলেন। এত কিছু ধারণ করে, এত বেদনার পাহাড় বহন করে তিনি যে তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গেছেন তা ভাবতে আমার অবাক লাগে। এই দেশটাকে যে তিনি ভালোবাসতেন, সেই ভালোবাসা থেকেই জীবনের শেষ সময় তিনি কাটিয়েছেন এ দেশের গ্রাম বাংলায়।’

‘তার প্রতিটি কার্যক্রম আমার জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে’

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ‘লতিফুর রহমান চাচার সঙ্গে আমার ২০১০ সালে প্রথম পরিচয়। পরে আরও যে কয়েকবার দেখা হয়েছে, তাতে তার প্রতিটি কার্যক্রম আমার জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে। উনি এফবিসিসিআই-তে ছিলেন। উনারা যে ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠানটিকে রেখে গেছেন আমরা সেটিকে আরও জোরদারের চেষ্টা করছি। ছোট জীবনে আমরা যখন চলে যাব, সেসময় মানুষ হয়তো আমাদের আচরণ ও ব্যবহারকে স্মরণ করবে। স্নেহ ও সম্মানের সঙ্গে যে মানুষের সঙ্গে আচরণ করা যায়, সেটি উনার একটি দৃষ্টান্ত ছিল।’

‘তিনি সবাইকে এক করে রাখতেন’

এসিআই গ্রুপের চেয়ারম্যান এম আনিস উদ দৌলা বলেন, ‘লতিফুর রহমানের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল ১৯৭৭ সালে মেট্রোপলিটন চেম্বারে সিকে হায়দার সাহেবের রুমে। আমি তখন চেম্বার সভাপতি। প্রথম সাক্ষাতের পরই আমি হায়দার সাহেবকে বলেছিলাম, সে চেম্বারের খুবই ভালো একজন সভাপতি হতে পারেন। সেই কথা সত্য হয়েছিল। তিনি শুধু সভাপতি হননি, রেকর্ড সংখ্যক সাতবারের সভাপতি ছিলেন মেট্রোপলিটন চেম্বারের।’

তিনি আরও বলেন, ‘লতিফুর রহমানের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি ছিল প্রখর। তিনি সবাইকে এক করে রাখতেন।’

লতিফুর রহমানকে সততার সঙ্গে ব্যবসা করার চ্যাম্পিয়ন বলে উল্লেখ করে আনিস উদ দৌলা বলেন, ‘তিনি সবসময় তার সততার ওপর অবিচল থেকেছেন। ব্যবসার শুরুতে তাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি সফল হয়েছেন এবং তার কর্মজীবন অনুকরণীয়।’

‘ব্যতিক্রমী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী’

ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ নাসিম মনজুর বলেন, ‘শামীম চাচা একজন ব্যতিক্রমী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী। আমি পাঁচটি ক্ষেত্রে উনার মধ্যে ব্যতিক্রম জিনিসটি খুঁজে পাই। প্রথমত: শব্দটি হলো অর্থনীতি, কিন্তু শামীর চাচার কাছে প্রথমে নীতি পরে ছিল অর্থ এবং এর মাধ্যমেও যে বাংলাদেশে সফল হওয়া যায় সেটা শামীম চাচা দেখিয়েছেন। দ্বিতীয়ত: উনি সবসময় দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করতেন। তৃতীয়ত: উনি কখনও আপোষ করতেন না। চতুর্থত: বাংলাদেশে একটা বাজার আছে, শুধু এক্সপোর্ট করলেই হবে না, দেশের স্থানীয় বাজারকেও কাজে লাগাতে হবে, এটা অনুধাবন করে তিনি কাজ করেছেন। পঞ্চম: উনি যতো বড় হতে থাকলেন ততো নম্র ও ভদ্র হতে লাগলেন। নিজের কথা না ভেবে ভাবতেন প্রতিষ্ঠান কী করে বড় হবে।’

‘তিনি সবসময় সত্যি কথাটা সরাসরি বলতেন’

‘যারা শিল্প কারখানা চালান, আমার মতে, তাদের জন্য সংবাদপত্রে বিনিয়োগ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। মানুষ বিশ্বাসই করতে চায় না যে, মালিকের ভূমিকা ছাড়াই একটি সংবাদপত্র স্বাধীনভাবে চলতে পারে। কিন্তু লতিফুর রহমান সেটা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, মালিকের হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বাধীনভাবে সংবাদপত্র চলতে পারে। এজন্য তাকে যথেষ্ট পরিমাণে ভুগতেও হয়েছে।’

লতিফুর রহমানের সততা সম্পর্কে স্কয়ার ফার্মসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী বলেন, ‘অনেক সৎ ব্যবসায়ী আছেন। আমাদের কালোকে কালো বা সাদাকে সাদা বলতে অনেক অসুবিধা আছে। তাই মাঝামাঝি হিসেবে ধূসর বলি। কোনো ঝুঁকি নেই না। কিন্তু, লতিফুর রহমান তা ছিলেন না। তিনি সবসময় সত্যি কথাটা সরাসরি বলতেন। এর জন্য তিনি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে অনেক সময় ভুগেছেনও। অনেক নতুন ব্যবসা ইচ্ছে থাকার পরও তিনি করতে পারেননি।’

‘এমন ভাইয়ের জন্য আমার গর্বের অন্ত নেই’

সাবেক রাষ্ট্রদূত তারেক করিম বলেন, ‘শামীম আমার ফুফাতো ভাই। আমরা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি। আমাদের ছিল একান্নবর্তী পরিবার। আমরা সবসময় সবার সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিয়েছি। শৈশবে ঢাকায় আমাদের অনেক সুন্দর সময় কেটেছে। পরে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকলেও আমাদের যোগাযোগ সবসময় ছিল। সে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিখ্যাত। এমন ভাইয়ের জন্য আমার গর্বের অন্ত নেই। যদিও আমি ওর বড়, তবুও ও আমাকে রেখে চলে গেল। আমি ওর আত্মার সর্বোচ্চ শান্তি কামনা করি।’

‘অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েও তিনি হতাশ হননি’

বার্জার পেইন্ট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এফআইসিসিআই’র সভাপতি রূপালি হক চৌধুরী বলেন, ‘সৎ থেকে, সকল নিয়মাবলী মেনেও যে মানুষ সফল হতে পারে সেটা তিনি প্রমাণ করে গেছেন। অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েও তিনি হতাশ হননি। অনেক ব্যবসায়ী সংগঠনে নেতৃত্ব পর্যায়ে তিনি ছিলেন। সেখানে দেখেছি কীভাবে বিনয়ের সঙ্গে, সৌহার্দপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি চেম্বারকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।’

‘লতিফুর রহমান মানবিকতা দিয়ে সবার হৃদয় জয় করেছেন’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, ‘লতিফুর রহমান মানবিকতা দিয়ে সবার হৃদয় জয় করেছেন। তিনি ব্যবসার পাশাপাশি বাংলাদেশে দুটি স্বাধীন সংবাদপত্র তৈরি করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাসীও ছিলেন। ঋণ, ট্যাক্স ইত্যাদি নিয়ে মিডিয়ার মালিকরা সরকারের কাছ থেকে এক ধরনের চাপে থাকেন। সেদিক থেকে লতিফুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দুটি সংবাদপত্র দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্বাধীন সাংবাদিকতা করে যাচ্ছে, এটি একটি আশ্চর্য। লতিফুর রহমান অন্য মিডিয়া ব্যবসায়ীদের জন্য আদর্শ রেখে গেছেন। তিনি তার কর্মের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে বেঁচে থাকবেন।’

‘শেষ পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ করে গেছেন’

সংবাদপত্রের মালিককে কতটা চাপ সহ্য করতে হয় সে সম্পর্কে বলতে গিয়ে বাংলাদেশ সংবাদপত্র মালিক সমিতির সভাপতি একে আজাদ বলেন, ‘শামীম ভাইকে দেখতাম তার কোন পত্রিকার কত বিক্রি, বিজ্ঞাপন, সংগ্রহ, বাকীর হিসাব তার টেবিলে। তিনি বলতেন, আগে তার কাছে প্রচুর টেলিফোন আসত যে, কোন খবর ছাপা হলো বা কোন খবরে কোন কারো বিরুদ্ধে লেখা হল। কিন্তু, তিনি বলে দিতেন এটা তিনি জানেন না, সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে নিতে পারে। এরপর আমি গোলাম সারোয়ার সাহেবকে নিয়ে একটি পত্রিকা শুরু করলাম। তখন লতিফুর রহমানের অবস্থা বুঝতে পারলাম। পত্রিকায় কারো সম্পর্কে ভালো লিখলে সে মনে করে এটা তার প্রাপ্য। কিন্তু যদি বিপক্ষে যায় সে ধরে আমাকে।’

লতিফুর রহমানের সততা ও একনিষ্ঠতা সম্পর্কে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় বিভিন্ন চাপের কাছে আমি নত স্বীকার করেছি। কিন্তু তিনি তা করেননি। শেষ পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ করে গেছেন।’

‘লতিফুর রহমান নিজেই একটি ইতিহাস’

এনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রথম আলো ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কুতুবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘লতিফুর রহমান নিজেই একটি ইতিহাস। তিনি ব্যবসায়ীদের জন্য উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন। ব্যবসায়ীদের অনৈতিকতা সর্বজনবিদিত। কিন্তু এর বাইরে থেকেও সৎভাবে ব্যবসা করে যে অমর থাকা যায়, তা তিনি দেখিয়ে গেছেন। উনার কীর্তি আমরা সারাজীবন বয়ে নিয়ে বেড়াতে পারব।’

‘পাঁচ বছর পরেও তিনি কথা রেখেছিলেন’

লতিফুর রহমানের নীতিতে অটল থাকার একটি উদাহরণ দিয়ে এইচএসবিসি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব উর রহমান বলেন, ‘পেপসিকোর ব্যবসা আমাদের ব্যাংকে আনার জন্য তাকে আমরা অনেকবার বলেছি। কিন্তু, তিনি সরাসরি বলেছেন এটা দেওয়া যাবে না। কারণ পেপসিকোর যখন খারাপ অবস্থা ছিল তখন কিছু স্থানীয় ব্যাংক এখানে অর্থায়ন করেছিল। এখন তাদের কাছ থেকে অ্যাকাউন্ট সরিয়ে তা আমাদের দেবেন না। তবে তিনি আমাকে বলেছিলেন, নতুন কোনো কিছু শুরু করলে আমরা সুযোগ পেতে পারি। এর কয়েক বছর পর আমি তার ফাইন্যান্স বিভাগ থেকে একটা কল পাই। ট্রান্সকম বেভারেজ ‘অ্যাকুয়াফিনা’র পণ্য চালু করতে যাচ্ছে। সেখানে আমাদের ব্যাংক যুক্ত হতে পারে। এভাবেই তিনি তার প্রতিশ্রুতি রেখেছিলেন। পাঁচ বছর পরেও তিনি কথা রেখেছিলেন।’

‘নিজের স্বার্থে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার গলায় কখনো ফাঁসি ঝোলাননি’

সাংবাদিক নেতা ও একুশে টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘লতিফুর রহমান যখন বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড পেলেন, তার মাধ্যমে একটি বিশ্ব স্বীকৃতি আমরা পেলাম। এটি আমাদের বড় অর্জন। তিনি বাংলাদেশে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। স্বাধীন গণমাধ্যমের অনেক শত্রু-মিত্র থাকে। যেকোনো স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের প্রথম মৃত্যু হয় মালিকপক্ষের হাতে। অর্থাৎ মালিকই স্বাধীনতার প্রথম হন্তারক। সেটি ব্যবসায়িক স্বার্থ, রাজনৈতিক বিশ্বাসজনিত কারণ, ইচ্ছা বা অনিচ্ছাতেই হোক। কিন্তু তিনি বাংলাদেশের সংবাদ জগতের একজন বিরল ব্যতিক্রম, যিনি বিনিয়োগ করেছেন কিন্তু নিজের স্বার্থে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার গলায় কখনো ফাঁসি ঝোলাননি। শুধু তরুণদের কেনো, তিনি বাংলাদেশের সব বয়সী ব্যবসায়ীদের সামনে আদর্শ হবেন এই বিশ্বাস করি।’

‘তার কাছে আরও অনেক কিছু শেখার ছিল’

তরুণদের তিনি সব সময়ই গুরুত্ব দিতেন জানিয়ে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব প্রসাদ সাহা বলেন, ‘তিনি সবসময়ই তরুণদের সুযোগ দিতেন। যে বয়সেরই হোক, তার কথা তিনি ধৈর্য ধরে শুনতেন। প্রত্যেকটা মানুষতে তিনি মূল্যায়ন করতেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাকে যদি আরও বেশি দিন পেতাম তাহলে তার কাছে আরও অনেক কিছু শেখার ছিল।’

‘তার দৃষ্টিভঙ্গির যে স্বচ্ছতা, তা দেখেছি’

সংগীতশিল্পী রিজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, ‘আমাকে ফারাজ সাহসী পুরস্কারের জুড়ি বোর্ডের সদস্য মনোনীত করে তিনি আমাকে অত্যন্ত সম্মানিত করেছেন। এই বোর্ডে আসার পর আমি অনেক কিছু জেনেছি। এখানে এসে তার দৃষ্টিভঙ্গির যে স্বচ্ছতা, তা দেখেছি।’

‘তিনি দেশের গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করেছেন’

লতিফুর রহমানের নাতি জারিফ আয়াত হোসেন বলেন, ‘প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টারকে নিয়ে নানাভাইয়ের অনেক গর্ব ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন এই দুটি পত্রিকা শুধু দুটি সংবাদপত্রই নয়, এই দুটি পত্রিকা ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের সব সংবাদের কেন্দ্রবিন্দু। একজন অসম্ভব দেশপ্রেমিক, যিনি বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে নিজের ব্যবসায়ের যাত্রা শুরু করেছিলেন। বাংলাদেশের অসম্ভব সম্ভাবনা তিনি শুরু থেকে দেখেছেন। তিনি দেশের গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করেছেন। তার মূল্যবোধ ছিল- বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করা, ব্যবসায়ের মাধ্যমে দেশের মানুষকে এগিয়ে নেওয়া এবং বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করা।’

‘তার প্রতি আমাদের অবিচল সমর্থন থাকবে’

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এই স্বরণসভা সঞ্চালনা করেন। সভার শেষে তিনি বলেন, ‘সংবাদপত্র নিয়ে লতিফুর রহমানের যে স্বপ্ন, যে লক্ষ্য, সেটা হলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা। তার প্রতি আমাদের অবিচল সমর্থন থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি আমরা দৃঢ় থাকব এবং গণতন্ত্রের জন্য আমরা সবসময় সচেষ্ট থাকব। লতিফুর রহমানের আদর্শের প্রতি লক্ষ্য রেখে বলব, দ্য ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলো সবসময় বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশের জনগণের সফলতা চাই। বাংলাদেশের সকল বিজয়ের সঙ্গে থাকতে চাই।’

Comments

The Daily Star  | English

Quota protest: Rallies announced at all campuses

The rallies have been called tomorrow at 3:00pm protesting today's violence against protesters

42m ago